মেইন ম্যেনু

একজন প্রবাসীর মৃত্যু মানে গোটা একটি পরিবারের মৃত্যু

সৈয়দ আলী আকবর: প্রবাস জীবন কখনোই সুখকর হয় না। তবু মানুষ প্রবাসী হয়। পরিবারের মানুষগুলোকে একটু ভালো রাখার আশায়, এদের স্বপ্ন পূরণের দায়িত্ব নিয়ে এরা পাড়ি জমায় প্রবাস নামের যন্ত্রণায়। নানামুখী কারণে প্রবাসী হওয়া এসকল মানুষগুলোর কাঁধে একটি নয় দু’টি নয় গোটা পরিবারের স্বপ্ন পূরণের দায়িত্ব থাকে। যে দায়িত্বের কথা চিন্তা করে এরা ভুলে যায় নিজের স্বপ্নকে। দেশে রেখে আসা পরিবারের সদস্যদের স্বপৃন পূরণকে একমাত্র লক্ষ্য হিসেবে স্থীর করে এরা প্রতিনিয়ত সহ্য করে যায় অসহনীয় কষ্ট।

একজন প্রবাসীর উপর ভরসা করে গোটা একটা পরিবার স্বপ্নের পশরা সাজায়। আর এভাবেই এপাড়ে ভরসা করে ওপাড়ে বুনতে থাকে স্বপ্নের জাল। অনেক আবার ৩ বেলা ঠিকমত খাবারের স্বপ্নও জড়িয়ে থাকে এই প্রবাসীর উপর। এরকম হাজারও দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে জন্মভূমি ও জননীকে ছেড়ে অচেনা অজানা এক দেশে পাড়ি জমায় এরা। অনেকেই বলেন স্বপ্ন পূরণের প্রবাস। কিন্তু অনেকেই জানেন না কতটা ঝুকি নিয়ে এই মানুষগুলো পরিবারের স্বপ্ন পূরণ করে যাচ্ছে।কিন্তু সব প্রবাসীরা কি পাড়ে তার পরিবারের সকল স্বপ্ন পূরণ করতে? হয়ত চাইলেও অনেকেই তা করতে পারে না।

অনেক সময় আমরা অনেক প্রবাসীর মৃত্যুরর সংবাদ পায়। তার মধ্যে স্বাভাবিক মৃত্যুগুলো হয়ত মেনে নেয়া যায় কিন্তু অস্বাভাবিক মৃত্যুগুলো কি করে মেনে নেয়া সম্ভব বলুন তো। অস্বাভাবিক মৃত্যু বলতে যা বুঝানো হচ্ছে তাহলো। কর্মক্ষেত্রে দূর্ঘটনার স্বীকার হয়ে কিংবা কোন হামলার স্বীকার হয়ে। এমন কি অনেক সময় দেখা যায় বাংলাদেশিরা নিজেদের মধ্যে মারামারি করেও প্রতিহিংসার বসে মানুষ খুন করছে। এ বিষয়গুলো সত্যিই হতাশা জনক।

আমরা হয়ত কখনো ভেবেও দেখিনি যে একজন প্রবাসীর মৃত্যুর পর তার পরিবারের কি অবস্থা হয়। হয়ত এই দিক আমরা খুব স্বাভাবিক ভাবেই চিন্তা করি। মনে করি সবাইকেই তো একদিন মরতে হবে তাহলে এ আর এমন কি?

কিন্তু আমরা কখনো ভেবে দেখিনি যে একজন প্রবাসীর মৃত্যু শুধু একটি মানুষে মৃত্যু, মৃত্যু হয় গোটা একটি পরিবারে।

কতটা ভরসা করে কতটা স্বপ্ন বুনে মা তার ছেলেকে বিদেশ পাঠায়, কত কষ্ট চেপে বুকে একজন মা নিজের সন্তানকে দূরে রাখে তা কি আমরা কখনো ভেবেছি? যে মানুষটি আজ প্রতিহিংসার কারণে প্রবাসে খুন হলো হয়ত তার মা একবুক আশায় রয়েছেন তার ছেলেটি তার কাছে একদিন ফিরে আসবে। কিন্তু ছেলের মৃত্যুর সাথে সাথে যে এই মায়ের এই আশারও মৃত্যু ঘটেছে তা কি আমরা ভেবে দেখি।

ছোট ছোট ভাই-বোন, আর মা-বাবা কত স্বপ্ন থাকে প্রবাসি সেই বড় ভাই বা বড় ছেলেটাকে ঘিরে। কিন্তু যখন ঐ ছেলেটাই থাকে না তখন তো এই মানুষগুলোর স্বপ্নও থাকে না। এদের স্বপ্নেরও কি অপমৃত্যু ঘটলো না। প্রকৃত অর্থে একজন প্রবাসীর মৃত্যু কেবল তার একা মৃত্যু নয় তার গোটা পরিবারের মৃত্যু। আমরা যারা বাংলাদেশ থেকে প্রবাসে এসেছি তারা সকলেই জানি আমাদের পরিবার আমাদের দিকে চেয়ে আছে। তাদের হাজারোও স্বপ্ন পূরণের দায়ভার নিয়ে আমরা প্রবাসে এসেছি। তাহলে কি করে আমার অন্য আরেকটি পরিবারের সকল স্বপ্ন ও আশাকে শুধুমাত্র প্রতিহিংসার বসে হত্যা করি। কেন একটি পরিবারকে সাগরের জলে ভাসিয়ে দেই। এটাই কি আমাদের মানবিকতা। নাকি স্বদেশি হিসেবে একজন আরেক জনকে সাহায্য করার নামই মানবিকতা।

নির্বাহী সম্পাদক, পারিস বার্তা ফ্রান্স






মন্তব্য চালু নেই