মেইন ম্যেনু

একা হাতে ১৩০০ কোটির সাম্রজ্য ধ্বংস করলেন যিনি

সঞ্জয় সিং। ভারতের উত্তরপ্রদেশের এক খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিক তিনি। এই মানুষটিই সে-ই ব্যক্তি, যিনি একা হাতে ধ্বংস করে দিয়েছেন ১৩০০ কোটির সাম্রজ্য! যার জন্য আজ অস্তিত্ব-সংকটে ম্যাগি।

ম্যাগির এই বিপুল সাম্রাজ্যের পতনের শুরুটা গত বছর, হোলির ছুটিতে। কাজপাগল, খেয়ালি এই খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিক তার অধঃস্তনদের নির্দেশ দেন মার্কেট থেকে কিছু ‘প্যাকড ফুড’ কিনে আনতে। সেই নির্দেশ মোতাবেক ম্যাগি ও চিপসের কয়েকটি প্যাকেট বারাবাঙ্কির বাজার থেকে কিনে আনেন খাদ্য সুরক্ষা দফতরের কর্মীরা। নমুনা হিসেবে সেগুলি যায় গোরখপুরের সরকারি ল্যাবরেটরিতে, রুটিন টেস্টে। তার পরের ঘটনা ইতিহাস! ম্যাগি নিয়ে দেশজোড়া তোলপাড়। রাতারাতি নেসলে’র চোখে ‘ভিলেন’ সঞ্জয় সিং। যিনি ম্যাগির ১৩০০ কোটি টাকার বাজার একাই শেষ করে দিয়েছেন।

ফোনে সঞ্জয় জানান, গোরখপুর ল্যাব থেকে আসা ম্যাগির রিপোর্ট দেখে প্রথম থতমতই খেয়ে গিয়েছিলেন। বিশ্বাস করতে পারেননি। লখনউ ঘেঁষা বারাবাঙ্কি জেলার এই খাদ্য দফতরের আধিকারিকের মনে হয়েছিল, রিপোর্টে টাইপিন ইরোর রয়েছে। শুরুর সেই ধন্দ কাটাতে ফের যোগাযোগ করেন ল্যাবে। নিশ্চিত হন ম্যাগিতে উচ্চমাত্রায় সীসার সঙ্গে রয়েছে মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট অর্থাত্‍‌ আজিনামোতো। বিস্ময়ের ঘোর কাটিয়ে, দ্রুত বিষয়টি খাদ্য সুরক্ষা দফতরের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের নজরে আনেন।

এখানেই থেমে যাননি সঞ্জয় সিং। এমন একটা প্রোডাক্ট নেসলে বাচ্চাদের হাতে তুলে দিতে পারে, এটা সঞ্জয়ের বিশ্বাস হচ্ছিল না। তাই তার নির্দেশে ফের ম্যাগির প্যাকেট সংগ্রহ করা হয়। পাঠানো হয় ল্যাবে। রিপোর্টে একই। নিশ্চিত হতে আরও একবার। কারণ, তার মাথায় ছিল, নেসলে’র ব্র্যান্ড নেমের কথা। এ বার সুপার মার্কেট ইজি-ডে থেকে ম্যাগি কেনা হয়। কিন্তু, তাতেও রিপোর্টের হেরফের হয়নি। বলা যায়, এর পর জোর ধাক্কাই খান এই ফুড অফিসার। নিশ্চিত হয়ে, নেসলেকে নোটিশ দিলে, তারা সেই রিপোর্টকে চ্যালেঞ্জ করে। ফলে, ফের ম্যাগির নমুনা যায় পরীক্ষায়, এ বার কলকাতায়, কেন্দ্রীয় ফুড ল্যবরেটরিতে। কিন্তু, তাতেও ক্লিনচিট পায়নি ম্যাগি। ল্যাব-টেস্টের ফল একই।

বাজারে এত কিছু প্যাকড ফুড থাকতে কেন ম্যাগির প্যাকেটই বাজার থেকে তুলে এনে পরীক্ষা করতে গেলেন? সঞ্জয় বলেন, ম্যাগি কিনে আনার সিদ্ধান্ত আমার নয়। আমি শুধু কিছু প্যাকড ফুড কিনে আনতে বলেছিলাম। আমার অধঃস্তন কর্মীরাই ম্যাগির কয়েকটি প্যাকেট নিয়ে আসেন। সঞ্জয় জানান, ম্যাগির এই রিপোর্ট হাতে আসার পরই অন্যান্য ব্র্যান্ডের নুডলসও ল্যাবরেটরি টেস্টের জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে এলে, সেই মতো সিদ্ধান্ত।

তিনি যা করেছেন, তার কৃতিত্ব কখনোই নিতে চান না এই খাদ্য সুরক্ষা দফতরের এই আধিকারিক। তার কথায়, এটা আমার কাজের মধ্যেই পড়ে। লখনউ ইউনির্ভাসিটি থেকে রসায়ন নিয়ে ডক্টরেট করে, ১৯৯৮ সালে খাদ্য সুরক্ষা দফতরে যোগ দেন।

সূত্র: এই সময়






মন্তব্য চালু নেই