মেইন ম্যেনু

একি কান্ড, ছুটি না দেওয়ায় বসের হাতে কামড়!

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ছুটি না দেওয়ায় নিজের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে কামড় দিয়েছেন এক চিকিৎসক। বৃহস্পতিবার উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ জেলা হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটেছে। হাসপাতাল সুপার অনুপকুমার হাজরার দাবি, তার হাসপাতালের চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ কমল সরকারকে এক মাসের ছুটি দিতে চাননি তিনি। তখন কমল সরকার হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির সদস্য অনুপম সাহাকে নিয়ে এসে তাঁর ওপর চড়াও হন। ধস্তাধস্তির মধ্যে অনুপম কামড় বসিয়ে দেন সুপারের বাঁ হাতের মধ্যমায়।

প্যাথলজিস্ট অনুপম অবশ্য রায়গঞ্জ জেলা হাসপাতালে চাকরি করেন না। তবে তিনি ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (আইএমএ) জেলা সম্পাদক। গুরুতর জখম সুপার এখন নিজের হাসপাতালেরই ক্রিটিকাল কেয়ার ইউনিটে ভর্তি। পুলিশের কাছে কমল সরকার ও অনুপমের বিরুদ্ধে বিনা অনুমতিতে চেম্বারে ঢুকে মারধরের অভিযোগ করেছেন তিনি। ‘বহিরাগত’ অনুপমও সুপারের বিরুদ্ধে মারধরের পাল্টা অভিযোগ করেছেন। সুপারের দাবি, এ দিন দুপুর দেড়টা নাগাদ কমল সরকার তার চেম্বারে এসে এক মাসের ছুটি চান। তিনি জানিয়ে দেন, হাসপাতালের সুষ্ঠু পরিষেবা বজায় রাখার স্বার্থে ছুটি দেওয়া সম্ভব নয়। সুপারের দাবি, সেই কথা শোনার পরে চলে যান কমল সরকার। ঘণ্টাখানেক পরে অনুপমবাবুকে সঙ্গে নিয়ে বিনা অনুমতিতেই তাঁর চেম্বারে ঢুকে পড়েন। কেন তিনি ছুটি দেননি, সেই প্রশ্ন তুলে তাঁকে তুমুল গালাগালি ও ধাক্কাধাক্কি করা শুরু হয়।

সুপারের কথায়, ‘অনুপমবাবু আমার বুকে, পেটে, গালে কিল-চড়-ঘুসি মারতে শুরু করেন। নিজেকে বাঁচাতে আমি অনুপমবাবুকে ধাক্কা মেরে একটি ঘুসি মারি। স্বাস্থ্যকর্মীরা ছুটে এসে আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার সময়েই অনুপমবাবু আমার বাঁ হাতের মধ্যমা কামড়ে ধরেন। আঙুল থেকে রক্ত ঝরতে থাকে।’ সুপারের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরেই কাজে গাফিলতি করছেন চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ কমলবাবু। তাই তাঁকে এক মাসের ছুটি দেওয়া সম্ভব ছিল না। কমলবাবুর পাল্টা দাবি, ১ মার্চ থেকে তাঁর মেয়ের দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষা শুরু হবে। তাই তাঁর কলকাতায় যাওয়া জরুরি। সেই কারণেই ছুটি চেয়েছিলেন। কিন্তু ছুটি চাইতেই সুপার তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। সে কথা জানতে পেরে অনুপমবাবুও তাঁর সঙ্গে সুপারের কাছে গিয়েছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, সুপারের চেম্বারের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা করা হবে।






মন্তব্য চালু নেই