মেইন ম্যেনু

‘এক্কেবারে জেতা মাছ’

সূর্য ওঠেনি তখনো। চারদিকে হালকা কুয়াশা। কিন্তু হাটজুড়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের আনাগোনা। বাঁশের খাঁচিতে হরেক রকমের মাছ রাখা। বিক্রেতারা হাঁকছেন, ‘মাছ লইবেন? এক্কেবারে জেতা মাছ।’ কাছে গিয়েই দেখা গেল, নানান পদের দেশি মাছ খাঁচিতে। রীতিমতো লাফালাফি করছে। টেংরা, পুঁটি, খলসে, দেশি কই, শোল, টাকি, ফলি, শিং, মাগুরসহ নানান দেশি মাছ আছে এখানে।

মাছের এই হাট বসে বুড়িগঙ্গা নদীর ওপার কেরানীগঞ্জের তারানগর ইউনিয়নের আঁটিবাজারে। মোহাম্মদপুর রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ থেকে সিএনজি অটোরিকশায় ৫-৭ মিনিটের পথ পেরুলেই আঁটিবাজার।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারের মাছের খুচরা মাছবিক্রেতা এই বাজার থেকে তাজা মাছ কিনে এনে বিক্রি করেন। এই মাছ পাড়ায়-মহল্লায় ফেরি করেও বিক্রি হয়। রাজধানী থেকে অনেকে শখ করে মাছ কিনতে যান।

বিক্রেতারা জানালেন, কেরানীগঞ্জের কলাতিয়া, ভাকুর্তা, সিরাজনগর, তারানগর, আঁটিবাজার, হযরতপুর, নিমতলী, ভাওয়াল, বেউতা, চণ্ডীপুর প্রভৃতি এলাকা থেকে খাল-বিলের মাছ এখানে আসে।

গতকাল সকালে কথা হয় এই বাজারের প্রবীণ বিক্রেতা মো. হাজি জামালের সঙ্গে। তিনি খাঁচিতে করে দেশি কই মাছ তুলছেন। বললেন, এখানে পাইকারি বিক্রেতারা ভোর হওয়ার আগেই আসতে শুরু করেন। তারপর খাঁচি তোলা হয় নিলামে। যিনি বেশি দর হাঁকেন খাঁচি চলে যায় তাঁর কবজায়।

তিনি বলেন, ‘এইখানে ঢাকা শহরের পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা মাছ কিন্না লইয়া যায়। আবার অনেকেই শখ কইরাও কিন্না লইয়া যায়। একবারে জেতা মাছ তো, এক নম্বর।’

মোহাম্মদপুর এলাকার মাছবিক্রেতা মো. শফিকুল প্রতিদিন এখান থেকে মাছ কিনে মোহাম্মদপুরের পাড়া-মহল্লায় বিক্রি করেন। প্রতিদিনের মতো গতকালও তিনি এখানে ভোরে এসেছিলেন মাছ কিনতে। তিনি বলেন, ‘আমি এখান থাইক্যা খাঁচি কিনা লই, আর কেজি দরে বিক্রি করি মোহাম্মদপুরে। অনেকের মোবাইল নম্বর আছে আমার কাছে। ভালো মাছ পাইলে ফোন দিই।’

মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের মাছবিক্রেতা উত্তম কুমার রাজবংশী বলেন, তিনি এই মাছের বাজার থেকে প্রতিদিন ১০-১৫ কেজি বিভিন্ন পদের যে মাছ কেনেন তা দুপুর হতে হতেই শেষ হয়ে যায়।

কেরানীগঞ্জের তারানগরের নিমতলী থেকে তাজা দেশি শিং আর মাগুর মাছ নিয়ে এসেছিলেন নূর ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এখন পানি শুকাইতেছে, এতে মাছ অনেক ধরা পড়তাছে। দামও ভালো পাইতেছি।’ তিনি জানান, এক খাঁচিতে ১০-১৫ কেজি মাছ থাকে। তিনি যেসব মাছ এনেছেন নিলামে তিন থেকে চার হাজার টাকা দাম ওঠে।

এই বাজারের একটি দোকানে ছোট তারা বাইন, টেংরা, শিংসহ কয়েক জাতের মাছ মিলে একত্রে ৪০০ টাকা কেজি খুচরা বিক্রি করছিলেন হামিদুল ইসলাম। সেখানে মাছ কিনছিলেন মোহাম্মদপুর কাদিরাবাদ হাউজিংয়ের বাসিন্দা শেখ মানিক। প্রায়ই এখানে মাছ কিনতে আসেন তিনি। তিনি বলেন, ‘ভোরে তাজা মাছ পাওয়া যায় এই হাটে। চোখের সামনে লাফানো মাছ কেনার মজাই আলাদা।’

দেখা গেল, দেশি মাছের পাশাপাশি চাষের রুই, কাতল, মৃগেলসহ অন্যান্য তাজা মাছও এই হাটে বিক্রি হয়। এসব মাছের কেজি ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় পাওয়া যায়। এই মাছই রাজধানীর বাজারে বিক্রি হয় ৩৫০-৪০০ টাকায়।প্রথমআলো



« (পূর্বের সংবাদ)
(পরের সংবাদ) »



মন্তব্য চালু নেই