মেইন ম্যেনু

এক অসম্ভবের সামনে দাঁড়িয়ে বার্সেলোনা

দুই লেগের ফাইনাল। প্রথমটায় যদি কেউ ৪-০ ব্যবধানে হেরে বসে তাহলে বাকি থাকে না আর কিছুই। দ্বিতীয় লেগে রীতিমত অসম্ভবের মুখোমুখি হতে হয় তাকে। সেই অসম্ভবকে কি আজ সম্ভব করতে পারবে লিওনেল মেসির বার্সেলোনা! খেলাটা ন্যু ক্যাম্পে বলে বার্সা কোচ লুইস এনরিকে থেকে শুরু করে ডিফেন্ডার হ্যাভিয়ের মাচেরানোরাও আশার বেলুন ফোলাচ্ছেন- বলছেন, এমন অসম্ভব যদি কেউ করতে পারে, তাহলে সেটা পারে শুধু বার্সেলোনাই।

বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় ন্যু ক্যামে স্প্যানিশ সুপার কাপের শিরোপা নির্ধারনী ম্যাচে সফরকারী অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের মুখোমুখি হবে স্বাগতিক বার্সেলোনা। আপাতত কোন টিভি খেলাটি সম্প্রচার করবে সেটা এখনও নিশ্চিত নয়।

সেভিয়াকে ৫-৪ গোলে হারিয়ে উয়েফা সুপার কাপ জিতে মৌসুমে দুর্দান্ত শুরুর আভাস দিয়েছিল বার্সেলোনা। কিন্তু পরের সপ্তাহেই অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের কাছে ৪-০ গোলের পরাজয়ের পর বার্সেলোনার ডিফেন্স নিয়ে প্রশ্নটা উঠেই গেলো। দুই ম্যাচে ৮ গোল হজম করেছে বার্সা ডিফেন্স। লা লিগা এখনও শুরুই হয়নি। শুরু হয়নি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগও। এই ডিফেন্স নিয়ে লুইস এনরিকে কতদুর যেতে পারবেন? সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

তবে, এসব প্রশ্ন দুরে ঠেলে রেখে আজ সুপার কাপ নিশ্চিত করতে চায় কাতালানরা। যা রীতিমত অসম্ভবই। কাপ জিততে হলেন কম করে হলেও ৫-০ ব্যবধানে জিততে হবে। অ্যাথলেটিকো যদি একটি গোল দিয়ে বসে, তাহলে বার্সাকে গোল করতে হবে ৬টি। এভাবে যদি অ্যাথলেটিকোর গোল বাড়ে, তাহলে বার্সাকেও গোল বাড়াতে হবে। তবে, ৪-০ ব্যবধানে জিতলে ম্যাচ গড়াবে টাইব্রেকারে। ৫-১, ৬-৩- যাই হোক না কেন, অ্যাথলেটিকোই হবে চ্যাম্পিয়ন। কারণ, গোলসংখ্যা সমান হলেও, অ্যাওয়ে গোলের হিসেবে পিছিয়ে পড়বে বার্সেলোনাই।

সুতরাং, আজ জিততে হলে কি করতে হবে বার্সাকে? দরকার কিছু ‘ঐশ্বরিক ’ ক্ষমতার। দরকার ‘জাদুকাঠি ’ দিয়ে প্রতিপক্ষকে ঘুম পাড়িয়ে রাখার। আর এই কাজটা করার জন্য সবচেয়ে বেশি আস্থা লিওনেল মেসির ওপরই। তিনিও কি পারবেন, বার্সাকে এমন অসম্ভব জয় করে দিতে? আজ রাতে ফুটবলপ্রেমীরা, বিশেষ করে বার্সা সমর্থকরা নজর রাখবে ক্যাম্প ন্যুয়ের দিকে, মেসির সেই ম্যাজিক দেখার অপেক্ষায়।

Barcelonaফাইনাল লেগের আগে বার্সেলোনা কোচ এনরিকের গলায় অবশ্য আজকের ম্যাচ নিয়ে তুমুল আত্মবিশ্বাস, ‘ইউরোপে মাত্র একটা দলই পারে, এমন পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়াতে। চার গোলে পিছিয়ে পড়েও জিততে। তার নাম বার্সেলোনা।’ রোববার বৃষ্টিভেজা পরিবেশে হাল্কা অনুশীলনের পর কোচের গলার সুর যেন হ্যাভিয়ের মাচেরানোর গলাতেও। বলছেন, ‘আমাদের ড্রেসিংরুমে কোনও চাপ দেখছি না। পুরো দলই বিশ্বাস করে পাঁচ গোল করে ম্যাচ জেতা সম্ভব।’ এর সঙ্গেই সংযোজন করলেন, ‘দুটো ব্যাপারে আমরা সতর্ক। এক, আগের ম্যাচের ভুল আর করা যাবে না। দুই, কোনওভাবেই এই ম্যাচে গোল খাওয়া যাবে না।’

ঘুরে দাঁড়ানোর এই ম্যাচ নিয়ে বার্সার মহাতারকা মেসি অবশ্য মিডিয়ার সামনে মুখ খোলেননি। তবে তার স্বদেশী মাচেরানো বলছেন, ‘মেসি-ই তো আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াচ্ছে। এমন ম্যাচে মেসি বহুবার আমাদের উতরে দিয়েছে। এমন দিনেই ও জ্বলে ওঠে। এবারও আশা করি উঠবে।’

বড় ব্যবধানে পিছিয়েও ঘরের মাঠে বড় ব্যবধানে জেতার নজির অবশ্য সাম্প্রতিককালে একাধিকবার রয়েছে বার্সার। ২০১০ সালে এই সুপার কাপেই প্রথম পর্বে সেভিয়ার কাছে ১-৩ গোলে হেরেছিল বার্সা। ন্যু ক্যাম্পে ফিরতি ম্যাচে বার্সা জিতেছিল ৪-০ গোলে। সেবার হ্যাটট্রিক করেছিলেন মেসি। ২০১২-১৩ চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে এসি মিলানের বিরুদ্ধে ০-২ গোলে পিছিয়ে পড়েও ঘরের মাঠে বার্সা ৪-০ জিতেছিল।

এবার অবশ্য লক্ষ্য অনেকটা ধরা-চোঁয়ার বাইরে। পাঁচ গোল করতে হবে বার্সাকে। দলীয় অধিনায়ক ইনিয়েস্তা বলেছেন, ‘ঘরের মাঠে আমাদের সমর্থকরা এতটাই প্রেরণা যোগান যে, কঠিন পরিস্থিতিতেও আমরা ভালো খেলতে পারি। এবারও তার পুনরাবৃত্তি ঘটানোর জন্য আমরা মরিয়া।’

সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ খুলেছেন জেরার্ড পিকেও। ‘৯০ মিনিটের ম্যাচটা ক্যাম্প ন্যুতেই। তাই আমার বিশ্বাস আমরা পারবই।’ ডিফেন্ডার পিকের গলাতে যতই জোর থাকুক, বার্সেলোনা কোচের চিন্তা কিন্তু তার ডিফেন্স নিয়েই। কারণ সান মামেসে বিলবাওয়ের কাছে চার গোল হজমের আগের ম্যাচেও পিকেরা চার গোল হজম করেছিলেন সেভিয়ার কাছে। তাতে মেসি অসাধারণ গোল করলে আর না করালে ফাইনালে ওঠা হত না এনরিকের দলের।

বিলবাওয়ের কাছে হারার পর এ কথাটাই শোনা গিয়েছে এনরিকের কণ্ঠে। ‘আমার টিম পাঁচ গোল করতেই পারে, সে ভরসা আমার আছে। কিন্তু পরপর দু’ম্যাচে চার গোল করে খাওয়াটা আমাকে বেশ চিন্তায় ফেলে দিয়েছে।’






মন্তব্য চালু নেই