মেইন ম্যেনু

এক কিলোমিটার ধাওয়া করে হামলাকারীকে ধরল এমপি

আবার পুলিশের ওপর হামলা। সেই একই ধরন, অস্ত্র। চাপাতি নিয়ে হঠাৎ আক্রমণ। তবে এবার বেসামরিক পুলিশ নয়, খোদ মিলিটারি পুলিশের (এমপি) ওপর চাপাতি হামলা চালাল দুর্বৃত্ত। আর তাই নিজেকেও রক্ষা করতে পারেনি হামলাকারী। এক মিটার ধাওয়া করে তাকে ধরে আনেন এমপি সদস্যরা।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা। রাজধানীর কচুক্ষেত তল্লাশি চৌকিতে অন্যান্য দিনের মতো বিভিন্ন যানবাহনে তল্লাশি করছিলেন কয়েকজন মিলিটারি পুলিশ (এমপি)।

এ সময় একটি মোটরসাইকেলকে দাঁড় করান ল্যান্স করপোরাল সামিদুল ইসলাম। সেটিতে তল্লাশি চালানোর সময় হঠাৎ পেছন থেকে এক দুর্বৃত্ত চাপাতি নিয়ে তার ওপর হামলা করে। তার হাত ও ঘাড়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে দুবৃত্তটি। দ্রুতই সেদিকে এগিয়ে আসেন সামিদুলের সহকর্মীরা। প্রতিরোধের মুখে একপর্যায়ে দুর্বৃত্তটি পালাতে ছুটতে থাকে।

পলায়নরত হামলাকারীকে ধরতে পিছু পিছু ছোটেন দায়িত্বরত অন্য মিলিটারি সদস্যরা। এক কিলোমিটার দৌড়ে কাফরুলের ১৩৯/১/খ নম্বরের পাঁচতলা একটি বাসায় আশ্রয় নেয় হামলাকারী। পরে স্থানীয় জনতার সহযোগিতার তাকে আটক করা হয়।

গত কিছুদিনে দেশের বেশ কয়েকটি স্থানে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই পুলিশ সদস্য নিহত এবং একজন আহত হন।

এর মধ্যে গত ২২ অক্টোবর রাতে গাবতলীতে তল্লাশি চৌকিতে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে নিহত হন দারুস সালাম থানার এএসআই ইব্রাহিম মোল্লা।

৪ নভেম্বর সকালে আশুলিয়ায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের নন্দন পার্কের চেকপোস্টে হামলা চালিয়ে দুই পুলিশ কনস্টেবলকে কুপিয়ে আহত করে দুর্বৃত্তরা। পরে শিল্প পুলিশের সদস্য মুকুল হোসেন নিহত হন।

তিনটি ক্ষেত্রেই হামলার ঘটনার ধরন প্রায় এক। গাবতলী ও কচুক্ষেতের ঘটনায় দুর্বৃত্তকে আটক করা গেলেও আশুলিয়ার ঘটনায় উল্টো পুলিশের অন্য সদস্যরা নিজেদের বাঁচাতে পালিয়েছেন।

এত দিন দুর্বৃত্তরা পুলিশের ওপর হামলা করলেও এবার খোদ সেনানিবাসের দোরগোড়ায় সশস্ত্র বাহিনীর ওপর হামলার দুঃসাহস দেখাল। এ ঘটনা জনমনে বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে। পুলিশের ওপর একের পর এক হামলার ঘটনায় কোনো কূলকিনারা করতে না পারায় দুর্বৃত্তরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলে মনে করেন তারা।

পুলিশসহ দেশের বিভিন্ন ব্যক্তির ওপর হামলার ঘটনায় মন্ত্রী থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত দায়িত্বশীল অনেক কর্মকর্তা হামলাকারীদের শনাক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করলেও এখনো কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। এমনকি তারা এসব হামলাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে গুরুত্বহীন করে তোলেন। এর মধ্যেই এবার মিলিটারি পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেল।

তবে এবার হামলাকারী পার পায়নি। আশুলিয়ায় তল্লাশি চৌকিতে হামলা চালিয়ে দুই পুলিশ কনস্টেবলকে কোপানোর সময় সেখানে দায়িত্বরত অন্য তিন পুলিশ সদস্য শালবাগানের দিকে দৌড়ে পালিয়ে গেলেও আজ আর তেমনটি ঘটেনি। বরং ল্যান্স করপোরাল সামিদুল ইসলামের ওপর হামলা করে পালিয়ে যাওয়ার সময় তার সহযোগীরা ধাওয়া করে হামলাকারীকে ধরতেও সক্ষম হন।



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই