মেইন ম্যেনু

এক টাকায় বিদ্যার ফেরিওয়ালা, যিনি চল্লিশ বছর ধরে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছেন (ভিডিও)

লুৎফর রহমান, গাইবান্ধার এক আলোকিত মানুষের নাম। মাইলের পর মাইল, সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে পায়ে হেঁটে ছড়াচ্ছেন শিক্ষার আলো। প্রায় চল্লিশ বছর ধরে ছোট্ট শিশুদের আলোর পথ দেখিয়ে যাচ্ছেন নিরলসভাবে। আর বিনিময়ে প্রতি শিক্ষার্থীর দেয়া মাত্র এক টাকাতেই খুশি এ বিদ্যার ফেরিওয়ালা।

এদিকে, এ আলোকিত মানুষটির পাশে থাকার কথা বলছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং ইউএনও।

প্রতিদিন সকালে, শিক্ষার আলো ছড়াতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাগুড়িয়া গ্রামের লুৎফর রহমান। মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে গ্রামে গ্রামে ঘুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিশুদের বিভিন্ন গ্রুপে একত্র করেন। এরপর তাদের নিয়ে, কখনও রাস্তার ধারে, বাঁধে কিম্বা গাছতলায় বসে পাঠদান করেন তাদের।

নদী ভাঙ্গা ও দরিদ্র পরিবারের ছেলে মেয়েদের পড়ানোই তার প্রতিদিনের একমাত্র কাজ। তবে এজন্য কোন পারিশ্রমিক না চাইলেও, শিক্ষার্থীরা প্রতিদিনের জন্য তুলে দেন এক টাকা করে। এ নিয়েই খুশি থাকায়, তিনি এলাকায় পরিচিত ‘এক টাকার মাস্টার’ হিসেবে।

শিক্ষার আলো ছড়াতে গিয়ে নিজের বা পরিবারের জন্য কখনও ভাবেননি তিনি। তাই, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে শিক্ষার আলো ছড়িয়েই বাকি জীবনটা পার করতে চান নির্লোভ এ মানুষটি।

আলোকিত শিক্ষক লুৎফর রহমান বলেন, ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া শিখিয়ে তাদের জ্ঞানদান করাই আমার প্রতিজ্ঞা।

এদিকে, আলোকিত এ মানুষটির উদ্যোগ আরো এগিয়ে নিতে পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

গাইবান্ধা সদর গিদারী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান গোলাম সাদেক লেবু বলেন, ‘জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও তাকে সম্মানিত করা উচিত।’

গাইবান্ধা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল মমিন খান বলেন, ‘তার ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর লিখব।’

১৯৫০ সালের ৭ আগস্ট, জেলার ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন লুৎফর রহমান। নদীভাঙ্গনে সব হারিয়ে, ১৯৭৪ সাল থেকে সদর উপজেলার বাগুড়িয়া গ্রামের ওয়াপদা বাঁধের ওপর পরিবার নিয়ে কোন রকমে বেঁচে আছেন আলোকিত এ মানুষটি।



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই