মেইন ম্যেনু

এক তরুনীর জোড়া গুপ্তাঙ্গ!

স্বাভাবিক নারী দেহে যৌনাঙ্গের মধ্যে থাকে একটি জরায়ু, একটি যোনি। আর সব মানুষেরই কিডনি থাকে দুইটি।তবে এবার এর থেকে ব্যতিক্রম দুই নারীর সন্ধান পাওয়া গেছে ভারতে। তাদের দুজনেরই কিডনি আছে একটি করে। আর জরায়ু এবং যোনি আছে দুটি করে।

বিস্ময়কর হলেও এটাই সত্য। এদের একজনের বয়স ১৮, অপরজনের বয়স ১৬। ২১ দিনের ব্যবধানে এই মেয়ে দুটির সন্ধান পেয়েছে ভারতের পার্ক সার্কাসের ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। দুই তরুণীর বাড়িই দেশটির দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায়।

ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো জানায়, দু’জনেই ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের স্ত্রীরোগ বিভাগে এসেছিলেন অনিয়মিত ঋতুস্রাব ও পেটে ব্যথার উপসর্গ নিয়ে। কিন্তু ইউএসজি, সিটি স্ক্যান ও এমআরআই করার পর চিকিৎসকরা বুঝতে পারেন আর পাঁচটা মেয়ের থেকে এদের শারীরিক গঠন আলাদা।

হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিভাগের প্রধান ডা. আরতি বিশ্বাস বলেন, ‘মাস দু’য়েক আগে মাধবী (ছদ্মনাম) নামে আঠারো বছরের এক অবিবাহিত তরুণী বহির্বিভাগে আসেন। পেটে খুব ব্যথা হচ্ছিল বলে জানান তিনি। প্রথমে ইউএসজি করাই। দেখা যায়, মেয়েটির কিডনি একটি। অবস্থান এবং আকৃতিও বড় অদ্ভূত। মেরুদণ্ডের সামনে। পরে এমআরআই করিয়ে জানতে পারি, মেয়েটির জরায়ু, জরায়ুমুখ ও যোনিও দু’টি করে। বয়সের ধর্ম মেনে ডানদিকের জরায়ুমুখ থেকে ঋতুস্রাব শুরু হয়েছে। কিন্তু যোনিপথের মুখ বন্ধ থাকায় সেই ঋতুস্রাব জরায়ুমুখে জমা হয়ে টিউমারের আকৃতি ধারণ করছিল। পেটে শুরু হয়েছিল যন্ত্রণা।’

তিন সপ্তাহ পর একইরকম অস্বাভাবিক শারীরিক গঠন নিয়ে রিঙ্কি নামের ১৬ বছরের এক কিশোরী চিকিৎসার জন্য একই হাসপাতালে যায়। তার ক্ষেত্রেও দেখা যায়, জরায়ু ও যোনির সংখ্যা দুইটি করে। দু’জনকেই অস্ত্রোপচার করার পর স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেছেন চিকিৎসকরা। বাদ দিয়েছেন অতিরিক্ত জরায়ু ও যোনি। সাহানার বাদ যাওয়া জরায়ুতে একটি টিউমার তৈরি হয়েছিল।

বয়স কম থাকায় রিঙ্কির ক্ষেত্রে জটিলতা তেমন বড় আকার ধারণ করতে পারেনি। চিকিৎসক ডা. পীতবরণ চক্রবর্তী বলেন, ‘সাতদিন আগে মাধবী ফের হাসপাতালে এসেছিলেন। রুটিন চেক আপের পর চিকিৎসকরা জানান, মাধবী পুরোপুরি সুস্থ। বিবাহিত জীবনযাপন কিংবা মা হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা নেই। রিঙ্কিও আশা করি ভাল থাকবে।’

কেন এমন হয়?
এনআরএস মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ তথা বিশিষ্ট স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. দেবাশিস ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, নারীদেহে দু’টি ‘মুল্যেরিয়ান ডাক্ট’ একসঙ্গে মিশে একটি জরায়ু তৈরি করে। কিন্তু কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখা যায়, এই দু’টি টিউব না মিশে আলাদা জরায়ু ও জরায়ুমুখ তৈরি করে। স্বাভাবিক কারণেই তৈরি হয় দু’টি যোনি। কখনো যোনি দুটি বাইরে থেকে বোঝা যায়। কখনো বোঝা যায় না।



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই