মেইন ম্যেনু

এক পাকিস্তানির নেতৃত্বে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হামলা

কক্সবাজারের টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে আনসার কমান্ডার হত্যা ও অস্ত্র গোলাবারুদ লুটের ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন নুরুল আবছার (২২) নামে এক আসামি।

মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (আদালত নং ৬) সিরাজ উদ্দিনের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক ওই জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। নুরুল আবছার বাংলাদেশের নাগরিক এবং তিনি টেকনাফের হ্নীলার রঙ্গীখালী এলাকার ছাবের আহমদের ছেলে।

তবে এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি আদালত পুলিশের পরিদর্শক জামাল উদ্দিন ও কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ।

যদিও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা টেকনাফ থানার পরিদর্শক (ওসি, তদন্ত) কবির হোসেন নিশ্চিত করেছেন গ্রেপ্তার হওয়া নুরুল আবছারকে আদালতে আনা হয়েছে। সোমবার (৩০) আবছারকে গ্রেপ্তার দেখানোর কথা বলা হলেও তাকে কোথা থেকে ঠিক কোন সময় গ্রেপ্তার করা হয়েছে তা জানাননি জেলা পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ।

তবে এ ব্যাপারে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম জানান, আসামি নুরুল আবছার আদালতে আনসার ব্যারাকে হামলার পুরো ঘটনা তুলে ধরেছেন। এ হামলায় মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিক, পাকিস্তানের এক নাগরিক ও কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিকও অংশগ্রহণ করে বলে আদালতের কাছে জবানবন্দিতে সে স্বীকার করেছে।

জবানবন্দির বরাত দিয়ে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আরো জানান, পাকিস্তানি নাগরিক ওমর ফারুক ওরফে আরএসও ফারুকের নেতৃত্বে আনসার ব্যারাকে এ হামলা সংঘটিত হয়েছে। রোহিঙ্গা সলিডারিটি অরগানাইজেশনের (আরএসও) পরিকল্পনায় চালানো হয়েছে এ হামলা। এতে পাকিস্তানি এক নাগরিক ছাড়াও চট্টগ্রাম থেকে আসা আরএসওর কয়েকজন সদস্য হামলার রাতে নৌকায় আসা কয়েকজন রোহিঙ্গা, স্থানীয় শরণার্থী শিবিরের কয়েকজন রোহিঙ্গা এবং কয়েকজন বাংলাদেশির সমন্বয়ে এ হামলার পরিকল্পনা করে।

ডিআইজি শফিকুল ইসলাম বলেন, নুরুল আবছারের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আনসার ব্যারাকে হামলা ঘটনার রহস্যের জট খুলতে শুরু করেছে। মূলত অস্ত্র লুটের জন্য এ হামলা চালানো হয়। হামলার দিন রাতেই লুট হওয়া অস্ত্র ও গুলি নিয়ে মিয়ানমার পালিয়ে যায় জড়িতদের অধিকাংশই। গ্রেপ্তার নুরুল আবছারও ঘটনার পর মিয়ানমার পালিয়ে গিয়ে আবারো বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে। পরে সে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়।

আনসার ব্যারাকে হামলার ঘটনায় লুট হওয়া অস্ত্র ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান ডিআইজি শফিকুল ইসলাম।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ মে টেকনাফ উপজেলার মোচনী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আনসার ব্যারাকে হামলার ঘটনা ঘটে। এসময় ক্যাম্প কমান্ডারকে হত্যা করে ১১টি অস্ত্র ও ৬৭০ রাউন্ড গুলি লুট করে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় আনসার ব্যারাকের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার মো. আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৩০/৩৫ জন আসামির নামে টেকনাফ থানায় মামলা করেন। এতে পুলিশ সন্দেহভাজন ৩ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও আসামি দেখানো হচ্ছে আদালতে জবানবন্দি দেয়া নুরুল আবছারকে।






মন্তব্য চালু নেই