মেইন ম্যেনু

এক বিজ্ঞাপনেই জীবন বরবাদ মডেলের

তাইওয়ানের সবচেয়ে দামি মডেল তিনি। ফাস্টফুড, কম্পিউটার পণ্য ও নানা প্রসাধনীর অনেক জনপ্রিয় বিজ্ঞাপন করেছেন তিনি। কিন্তু বিপত্তিটা বেঁধেছে প্লাস্টিক সার্জারির এক বিজ্ঞাপন করতে গিয়ে। বিজ্ঞাপনের ছবি বিকৃত করে কে বা কারা সেটা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিয়েছে। আর সেই ছবি এখন পরিণত হয়েছে বিদ্রুপাত্মক ‘মেমে’ (meme- হাস্যকর ছবির সঙ্গে সংলাপ জুড়ে দেয়া) হয়ে।

ওই মডেলের এখন অবস্থা যে বাইরে মুখ দেখানো দায় হয়ে গেছে। অন্য কোম্পানিও আর তাকে ডাকছে না কারণ তিনি এখন এক হাস্যকর চরিত্র!

হেইদি ইয়েহ নামে ওই মডেল বলেন, ‘আমি কতো যে কেঁদেছি! কতো রাত ঘুমাতে পারিনি। সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা হলো আমি আর কখনোই মডেল হতে চাই না।’

তিনি বলেন, ‘আমি একজন মডেল বলেই কি মানুষ আমাকে এভাবে আঘাত করে আর আমি এর কোনো প্রতিবাদ করতে পারি না! আমি নিজেকে লুকাতেই ব্যস্ত থাকি।’

হেইদির এই দুঃস্বপ্নের শুরুটা ২০১২ সালে। তাইওয়ানের একটি প্লাস্টিক সার্জারি ক্লিনিকের বিজ্ঞাপনের জন্য তিনি একটি পারিবারিক ছবির জন্য পোজ দিয়েছিলেন। এই ছবিতে দেখা যায়, খুবই আকর্ষণীয় চেহারার বাবা-মা যাদের ডাগর চোখ, সুন্দর নাক। সঙ্গে তাদের তিন সন্তান কিন্তু তাদের চোখগুলো বাড়াবাড়ি রকমের ছোট এবং নাক থ্যাবড়া।’

আর ওই ছবির নিচে ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘আপনার শুধু একটাই চিন্তা, এই ব্যাপারটা বাচ্চাদের কাছে কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন।’

হেইদি বলেন, তাইপেতে তার এজেন্সি এবং সেখানে মার্কিন বিজ্ঞাপনী সংস্থা জে ওয়াল্টার থমসন এই বিজ্ঞাপনের বিষয়ে চুক্তিবদ্ধ হয়। চুক্তিতে বলা হয়, একমাত্র ওই প্লাস্টিক সার্জারি ক্লিনিক বিভিন্ন পত্রিকা ও ম্যাগাজিনে এই ছবি ব্যবহার করতে পারবে।

কিন্তু ওই মার্কিন বিজ্ঞাপনী সংস্থাটি পরে সিম্পল বিউটি নামে আরেকটি ক্লিনিককে ছবিটি তাদের ওয়েবসাইটে ব্যবহারের অনুমতি দেয়। সংস্থাটি নিজেদের ফেসবুক পাতায়ও সেটি পোস্ট করে।

আর এর পরই সেই ভয়ঙ্কর ঘটনাটি ঘটে। ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়ে যায় হেইদির সেই পারিবারিক ফটোর মেমে। এর নিচের ক্যাপশনটি কেটে দিয়ে লেখা হয়, ‘প্লাস্টিক সার্জারি- এটা আপনি আজীবনের জন্য গোপন করতে পারবেন না।’

ইন্টারনেটে ঘুরছে এই মেমে

ইন্টারনেটে ঘুরছে এই মেমে

এই মেমেটির ভয়ঙ্কর প্রভাব পড়েছে তাইওয়ানসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে। মানুষ ওই ছবিটিকে বিশ্বাস করতে শুরু করে। ওই বছরই একটি চীনা ট্যাবলয়েডে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, এক লোক তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করে বসেছেন। কারণ তিনি বুঝতে পারেন তাদের বিয়ের আগে স্ত্রীটি প্লাস্টিক সার্জারি করেছিলেন কারণ তাদের সন্তানরা অন্য চেহারা পেয়েছে!

পরে ওই ছবি এবং সঙ্গে চীনের গল্পটিও চীনা, ইংরেজি, আরবি এবং জাপানিসহ বেশক’টি ভাষায় গুগলে ছড়িয়ে পড়ে। এটা তখন হয়ে যায় একটি আন্তর্জাতিক মেমে।

হেইদি কেএফসি, ভায়ো এবং বিখ্যাত সব প্রসাধনী কোম্পানির দামী মডেল ছিলেন বহুদিন। কিন্তু এই ঘটনার পর তাকে আর কেউ ডাকছে না। কারণ এখন আর কেউ বিশ্বাসই করতে চায় না যে তিনি আসলে কখনোই প্লাস্টিক সার্জারি করেননি। বিজ্ঞাপনীর সংস্থার লোকজন এবং তাকে ক্লায়েন্টরা জিজ্ঞেস করেন, ওই ছবির মুখটা তার আসল মুখটাই কি না!

ব্যক্তিগত জীবনেও ঝড় বয়ে যায়। তার বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গেও সাময়িক বিচ্ছেদ। পরিবারের লোকজনকেও যেখানে সেখানে অযাচিত প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। জনসমাবেশে গেলে লোকজন তাকে নিয়ে কানাকানি করে।

আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন হেইদি। প্রায় ৪০ লাখ ডলার উপার্জনের সুযোগ হারিয়েছেন। ওই মার্কির বিজ্ঞাপনী সংস্থার বিরুদ্ধে এখন মামলা করতে চান তিনি। তার লক্ষ্য ক্ষতিপূরণ আদায় নয়, বরং তারা সবার সামনে এটা পরিষ্কার করুক যে, ওই ছবিটা নিছকই বিজ্ঞাপন, তিনি প্রকৃতই সুন্দরী, মুখমণ্ডলে কখনো ছুরি-কাচি চালাননি!






মন্তব্য চালু নেই