মেইন ম্যেনু

এক যুগেও শেষ হয়নি লালমোহন মেজর হাফিজ উদ্দিন স্টেডিয়ামের নির্মান কাজ

আশা ছিলো বীর বিক্রম মেজর (অবঃ) হাফিজ স্টেডিয়ামটি নির্মান হলে নিজ ইচ্ছামাফিক খেলবে খেলোয়াড়রা। কিন্তু ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের ১যুগ পার হলেও অর্থের অভাবে নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে স্টেডিয়ামটির। যা এখন পরিনত হয়েছে গো চারণভূমিতে। স্টেডিয়ামটি হবে অত্যাধুনিক এবং স্টেডিয়ামটি থেকে গড়ে উঠবে বড়বড় নামি-দামি খেলোয়াড়। কিন্তু ভোলার লালমোহনে ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা স্টেডিয়ামটির উদ্ধোধন আজও সম্ভব হয়নি। কবে সম্পন্ন হবে এ স্টেডিয়ামটির নির্মাণ কাজ তা নিয়ে খেলোয়াড়দের মনে নানা প্রশ্ন। ভোলা চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কের লালমোহন পৌর এলাকার শেষ মাথায় পেশকার হাওলাদার গ্রামে প্রায় ৪ একর ভুমি জুড়ে ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল নির্মাণের কাজ শুরু হয় এই স্টেডিয়ামটির। আংশিক কাজ হওয়ার পরে অর্থ সংকটের কারণে স্টেডিয়াম নির্মাণের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। লালমোহন পৌরসভা সূত্রে জানা যায় ১৯৯৫ সালে স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য জাতীয় ফুটবলার মোঃ গজনবী থেকে ৫ একর জমি তৎকালিন ১৫ লক্ষ টাকায় ক্রয় করে লালমোহন পৌরসভা। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল স্টেডিয়ামটির ভিত্তি প্রস্তর উদ্ধোধন করেন তৎকালীন পানি সম্পদ মন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মেজর (অবঃ) হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ। দেশের ক্রীড়া অঙ্গনে অবদান রাখা সাবেক এ জাতীয় খেলোয়াড় তার নামেই স্টেডিয়ামটির নাম করন করেন বীর বিক্রম হাফিজ উদ্দিন স্টেডিয়াম। ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের পরপরই ক্রীড়া মন্ত্রনালয়ের বরাদ্দকৃত ১৫ লক্ষ টাকা দিয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার স্টেডিয়াম নির্মাণ কাজ শুরু করেন। এরপর আরও ২ মেট্টিক টন চাল বরাদ্দ পায় স্টেডিয়াম নির্মাণে। সরকার পরিবর্তনের ফলে পরবর্তী অর্থ বরাদ্ধ দেয়নি ক্রীড়ামন্ত্রনালয়। ঠিকাদারের অভিযোগ নির্মাণ কাজের অর্থ না পাওয়ায় দীর্ঘ ১ যুগ ধরে কাজ বন্ধ রয়েছে। কবে আবার নতুন করে কাজ শুরু হবে তা নিয়ে খেলোয়াড়দের মনের মধ্যে সংশয় বিরাজ করছে। লালমোহন ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম নবীন বলেন স্টেডিয়ামটি নির্মাণ না হওয়ায় বড় ধরনের টুর্নামেন্টের আয়োজন করা যাচ্ছে না। সেই সাথে বেদখল হয়ে যাচ্ছে স্টেডিয়ামের যায়গা। পরিনত হয়েছে গবাদি পশুর খামারে। অন্যদিকে নির্মিত আংশিক ভবন অযত্ন অবহেলায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। নির্মিত ভবনে গরু ছাগলের বিচরন হচ্ছে অবাধে। ফলে এটি এখন গো চারন ভুমিতে পরিনত হয়েছে। স্টেডিয়ামটিতে আশ্রয় নিয়েছেন ভুমিহীন মানুষ। সেখানে এখন দুই ভিটে মাটি হারানো পরিবারের বাস। স্টেডিয়ামটি পূর্নাঙ্গভাবে নির্মিত হলে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন খেলাধূলার আয়োজন করা সম্ভব হতো। দ্বিতল এই স্টেডিয়াম ভবনে ভিআইপি লাউঞ্জ, প্লেয়ার লাউঞ্জ, প্রেস লাউঞ্জ, জিমনোসিয়াম মাঠের চতুর দিকে আধূনিক গ্যালারীসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার পরিকল্পনা রয়েছে। অত্র এলাকায় ভালো কোন মাঠ না থাকায় খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে খেলোয়াড়েরা। তারা সরকারের কাছে দাবী জানিয়েছেন শীঘ্রই যেন স্টেডিয়ামটি নিমার্ণ করা হয়। লালমোহন পৌরসভার মেয়র এমদাদুল ইসলাম তুহিন জানালেন, স্টেডিয়ামটি নির্মাণে ৫ কোটি টাকা বরাদ্ধের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্ধ পেলে নির্মাণ কাজ শেষ করা যাবে স্টেডিয়ামটির। স্টেডিয়ামে ভূমিহীন পরিবারের বসবাস ও গো চারণ সম্পর্কে তিনি বলেন স্টেডিয়ামটির যায়গা উন্মুক্ত হওয়ায় যে কেউ এখানে প্রবেশ করতে পারে।






মন্তব্য চালু নেই