মেইন ম্যেনু

এক সিরিয়াল কিলার ও ধর্ষকের ভীতিকর কাহিনী

সিরিয়াল কিলার ও ধর্ষক রবিন্দর কুমার দিল্লির আশপাশে ৩০টিরও বেশি শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে। অবলীলায় সেকথা এখন স্বীকার করেছে এই নরপিশাচ। যেসব শিশুকে সে হত্যা করেছে তাদের সবার বয়সই ছিল ১৪ বছরের নিচে। ২০০৮ সাল থেকে এভাবে শিশুদের ধর্ষণ ও হত্যা করেছে রবিন্দর। মঙ্গলবার একথা জানিয়েছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। তার এমন লোমহর্ষক স্বীকারোক্তিতে রীতিমতো বিহ্বল হয়ে গেছে পুলিশও। এ খবর দিয়েছে বার্তাসংস্থা আইএএনএস।

পুলিশের ডেপুটি কমিশনার বিক্রমজিত সিং বলেন, আমি ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। প্রকাশ করতে পারছি না যে, আমরা আসলে কি অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। তিনি জানান, উত্তর প্রদেশের কাসাগঞ্জে রবিন্দর কুমারের বাড়ি হলেও, সে থাকতো দিল্লিতে। তাকে দিল্লির বাইরে নারেলা, বাওয়ানা ও আলিপুরে নেয়া হয়েছে। এর ফলে তার হাতে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হওয়া শিশুদের সংখ্যা নির্ণয় করতে সহায়তা পেয়েছে পুলিশ।

বিক্রমজিত বলেন, আমি নিজে এ মামলাটি দেখছি। এখন পর্যন্ত যতটুকু তদন্ত হয়েছে, তাতে রবিন্দরের হাতে খুন হওয়া শিশুর সংখ্যা ৪০ হতে পারে। এর আগে পুলিশ ভেবেছিল, রবিন্দরের হাতে নিহত শিশুর সংখ্যা ১৫ জনের কাছাকাছি। কিন্তু পুলিশের সে ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়। তবে ২৪ বছর বয়সী সিরিয়াল কিলার রবিন্দরের মনে কৃতকর্মের জন্য কোন অনুতাপ নেই। ২০০৮ সালের কোন এক সময়ে শুরু হয় তার হত্যাযজ্ঞ।

চকলেট ক্যান্ডি বা টাকা দিয়ে সে প্রথমে প্রলুব্ধ করতো শিশুদের। এরপর ধর্ষণ বা বলাৎকার করতো। বাধা দিয়ে জীবন বাঁচাতে পারে নি কেউই। এমনকি তাদের মৃতদেহের সঙ্গেও বিকৃত লালসা চরিতার্থ করেছে সে। মঙ্গলবার রবিন্দর স্বীকারোক্তি দেয় যে, তার বয়স যখন ১৭ বছর, তখনই এ অপরাধে তার হাতেখড়ি।

দিল্লি শহরের এক স্থাপনার শ্রমিকের মেয়ে ছিল তার নৃশংসতার প্রথম শিকার। তাকে নিয়ে প্রথমে একটি পরিত্যক্ত স্থানে যায় রবিন্দর। এরপর তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে। কিন্তু এ হত্যার কোন রেকর্ড পুলিশ পায় নি। কেননা, ঘটনাটি সমপর্কে পুলিশকে জানানো হয় নি।

২০০৯ সালে আরেক শ্রমিকের ছেলে বিজয় বিহারকে অপহরণ করে রবিন্দর। তার সঙ্গে বলাৎকার করে তাকেও হত্যা করে সে। ওই সময় তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের হয় বটে। কিন্তু পর্যাপ্ত সাক্ষী ও প্রমাণের অভাবে খালাস পায় রবিন্দর। তার দাবি, ধর্ষণে বাধা দেয়া ও সব ফাঁস করে দেয়ার হুমকি দেয়ায় অন্তত ১১ ভুক্তভোগীকে সে হত্যা করেছে। পুলিশকে সে জানায়, দিনের শুরুতে অথবা বিকালের দিকে সে খুন করতো।

পুলিশ জানায়, বিভিন্ন কলোনিতে গিয়ে শিশুদের খেলার স্থান, বাড়ি বা টয়লেটের পাশে অপেক্ষা করতো রবিন্দর। এরপর টাকা অথবা মিষ্টির লোভ দেখিয়ে প্রলুব্ধ করতো। টার্গেট করা শিশু প্রলুব্ধ না হলে, জোর করেই তাদের নিয়ে যাওয়া হতো। কিছু বিরল ক্ষেত্রে, কারো কাছে ঘটনা প্রকাশ না করার প্রতিশ্রুতি দিলে শিশুদের চলে যেতে দিত রবিন্দর। ২০১২ সালে তার ১৪ বছর বয়সী দুই আত্মীয়ের বেলায় এমন ঘটে। কারও কাছে কিছু না জানানোর প্রতিশ্রুতি দেয়ায় তাদের বাঁচিয়ে রাখে সে।

গত বছর দক্ষিণ দিল্লির বেগুমপুরে একটি বালককে নির্যাতনের দায়ে রবিন্দরকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘরের কাছ থেকে ওই ছেলেটিকে অপহরণ করে বলাৎকার করে গলা কেটে দেয় সে। রবিন্দর ভেবেছিল, ছেলেটি মারা গেছে। কিন্তু নির্মাণাধীন একটি ভবনের সেপটিক ট্যাংকিতে রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটিকে খুঁজে পায় পুলিশ। রবিন্দর সে মামলায় জামিন পায়। কারণ, তার হত্যাযজ্ঞের তালিকার কথা পুলিশ তখনও জানতো না।

গত ১৬ই জুলাই ৬ বছর বয়সী একটি মেয়ে শিশুকে ধর্ষণ ও খুনের দায়ে তাকে আবারও বেগুমপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর দুই দিন আগ থেকে শিশুটিকে পাওয়া যাচ্ছিল না। এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে বেরিয়ে আসে লোমহর্ষক সব ধর্ষণ ও শিশু হত্যার ইতিবৃত্ত।






মন্তব্য চালু নেই