মেইন ম্যেনু

এক স্বামীর এক বাসরে দুই স্ত্রী!

প্রেম করে গোপনে বিয়ে করা অতঃপর ২৪ ঘন্টা পর পরিবারিকভাবে দ্বিতীয় বিয়ে। পারিবারিকভাবে দ্বিতীয় বিয়ে করার পর বউ নিয়ে বাড়িতে আসার পর দেখেন ঘরে বসে আছে প্রথম স্ত্রী। পরিস্থিতী খারাপ দেখে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায় স্বামী। দুই স্ত্রীই স্বামীর অধিকার আদায়ের দাবিতে অবস্থান করে নেয় বরের বাড়িতে। এমনভাবে ছয় দিন কেটে যায়। আর এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলার ইনাম সাফুল্লী নামক গ্রামে।

স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে জানা গেছে, শাহিনুর রহমান নামের এক যুবক টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার দাতপাড়া গ্রামের মৃতঃ আব্দুল সালামের মেয়ে সালমার (২৫) সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে। তাদের এ সম্পর্কের কথা শাহিনের পরিবার না মেনে নিয়ে শাহিনুরের জন্য অন্য কোথায় ০৩ অক্টেবর তারিখে বিয়ে ঠিক করে। কিন্তু অন্যদিকে শাহিনুর তার প্রেমিকা সালমাকে আগের দিন (০২ অক্টেবর) কাজী অফিস থেকে বিয়ে করেন। এ বিয়ে শাহিনুরের পরিবার মেনে না নেয়ায় পরদিন শাহিনুর তার পরিবার ও প্রতিবেশী সাথে করে টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুরের রাথুরা নামক গ্রামের আঃ আলীমের মেয়ে রুনা আক্তার (১৮) কে বিয়ে করে বাড়িতে ফিরে। উভয় পক্ষের সম্মতিক্রমে পাকুটিয়া ইউনিয়নের কাজী আবু বক্করের অফিসে ৪লাখ টাকা দেনমোহর দার্য করা হয় এ বিয়েতে।

শাহিনুরের এ বিয়ে করার খবর জানতে পেরে তার প্রথম বিয়ে করা স্ত্রী মির্জাপুরের সালামের মেয়ে সালমা স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে শাহিনুরের বাড়িতে এসে উঠে। এমতবস্থায় শাহিনুর বাড়িতে এসে নতুন স্ত্রী ঘরে নিয়ে দেখে তার প্রথম স্ত্রী সালমা বসে আছে।

বিষয়টি জানা জানি হলে মুহূর্তেই পাড়া-প্রতিবেশীরা জড়ো হয়ে পড়ে বিয়ে বাড়িতে। বিয়ে বাড়িতে আনন্দ জন্ম না নিয়ে শোকের জন্ম নেয়া শুরু হয়। পরিস্থিতী খারাপ দেখে শাহিনুর বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায় আর এ ঘটনায় উপজেলাব্যাপী চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

কিন্তু শাহিনুর তার প্রেম করে বিয়ে করা স্ত্রী সালমাকে স্ত্রীর মর্যাদা দিতে অটুট থাকায় তার পরিবার অবশেষে শাহিনুরের প্রথম স্ত্রীকেই মেনে নেয়। অার দ্বিতীয় স্ত্রী রুনাকে দেন মোহরের ৪লাখ টাকা দিয়ে তালাক দিতে গতকাল বুধবার সন্ধায় এক গ্রাম্য সালিশে বসে। এ সালিশে পাকুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান, সাফুল্লির স্থানীয় ইউপি সদস্য আমীর আলী, সাবেক ইউপি সদস্য পাত্তা মেম্বার, আাওয়ামীলীগ নেতা মতিউর রহমান সকলে দ্বিতীয় স্ত্রীর দেন মোহরের ৪ লাখ টাকা ফেরত দিয়ে তালাক দেয়ার রায় দেন।

দ্বিতীয় স্ত্রী রুনার ভগ্নিপতি মোঃ উজ্জল জানান যে, শাহীন তার প্রথম বিয়ে করার কথা গোপন রেখে দ্বিতীয় বিয়ে করে তার নিজ বাড়িতে উঠে। এরপর আমরা জানতে পারি তার বাসর ঘরে প্রথম বিয়ে করা স্ত্রী বসে আছে। অতঃপর বিষয়টি নিয়ে বুধবার সন্ধায় এক গ্রাম্য সালিশে রুনাকে ৪ লাখ টাকা দিয়ে তালাক করানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ৩ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে আর ১লাখ টাকা স্থানীয় নেতা ও আওয়ামীলীগ নেতারা ভাগ বন্টন করে নিয়েছে।

ইনাম সাফুল্লী গ্রামের ইউপি সদস্য আমীর আলী ও পাত্তা মেম্বার ঘটনার কথা সত্যতা স্বীকার করে বলেন যে, দ্বিতীয় স্ত্রীর ৪ লাখ টাকা আজ বৃহস্পতিবার সকালে রুনার পরিবার কে দিয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু বাকী ১ লাখ টাকা ভাগ বন্টনের কথা তারা কেউই স্বীকার করেন নি।

বিষয় টি নিয়ে সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল্লাহ সরকারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন যে, এমন কোন ঘটনার কথা আমি জানি না। তবে যদি কেউ লিখিত অভিযোগ করে তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।






মন্তব্য চালু নেই