মেইন ম্যেনু

এখনও আতঙ্ক কাটেনি হোসেনি দালানে

রাজধানী পুরান ঢাকার হোসেনি দালানের সামনে বোমা হামলার পর এখনও সেখানকার মানুষের আতঙ্ক কাটেনি। ওই এলাকায় এখনও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে।

গত শুক্রবার গভীর রাতে আশুরা উপলক্ষে তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতিকালে সেখানে তিনটি বোমা বিস্ফোরিত হয়। দুর্বৃত্তরা মিছিলের ভেতরে ঢুকে বিস্ফোরণ ঘটায় বলে জানায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এ ঘটনায় একজন নিহত ও শতাধিক মানুষ আহত হন।

এ ঘটনার পর হোসেনি দালান কর্তৃপক্ষ সরকারের কাছে নিরাপত্তার চায়। হোসেনি দালানের সুপারভাইজার ফিরোজ হোসেন জানান, হোসেনি দালানের নিরাপত্তার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করা হয়েছে।

বোমা হামলার পর থেকে ওই এলাকার মানুষের মাঝেও আতঙ্ক বিরাজ করে। আতঙ্কের মধ্যেই তাজিয়া মিছিলে অংশ নেয় শিয়া সম্প্রদায়ের লোকজন।

জানা গেছে, হোসেনি দালান এলাকা ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার আওতাধীন থাকায় ফুটেজ দেখে বোমা হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। বোমা হামলার পর পুলিশ, র‌্যাব, ডিবি, সিআইডি ও পিবিআইসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সব সংস্থার লোকজন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া জানান, পুরো এলাকায় ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা বসানো ছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত করে যাচ্ছে। আশা করি, হামলাকারীরা শনাক্ত হবে।

এদিকে বোমা হামলার ঘটনায় চকবাজার থানায় দায়ের করা মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে ডিবি পুলিশ এটির তদন্ত করছে। ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামত পরীক্ষা-নিরিক্ষার কাজ চলছে। খুব শিগগির অপরাধীরা ধরা পড়বে বলে আশা করছে পুলিশ।

সোমবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার বলেন, রাজধানী দারুস সালামে এএসআই ইব্রাহিমের খুনিদের সঙ্গে হোসেনি দালানে বোমা হামলাকারীদের সম্পর্ক আছে। এএসআই খুনের ঘটনায় আটককৃতের দেওয়া তথ্যমতে কাচরাঙ্গীরচর থেকে যে বোমা ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছিল তার সঙ্গে হোসেনি দালানের সামনে বিস্ফোরিত বোমার মিল পাওয়া গেছে।

বোমা হামলার সঙ্গে স্বাধীনতাবিরোধীদের যোগসূত্র রয়েছে,এ দাবি করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহিদুল হক বলেন, ‘যারা এ দেশের স্বাধীনতা চায় না, যারা এই দেশের স্থিতিশীলতা পছন্দ করে না, দেশের উন্নয়ন পছন্দ করে না- এ ধরনের একটি সংগঠনের সদস্যরা এ কাজ করতে পারে। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

বোমা হামলার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আছাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘বোমা হামলার ভিডিও ফুটেজ দেখে অপরাধীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। আমাদের কাছে অনেক তথ্য আছে, ভিডিও ফুটেজ আছে, যা দেখে অপরাধীদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনা হবে।

এদিকে সোমবার সকালে হোসেনি দালানের সামনের বিস্ফোরণস্থল পরিদর্শন করেন পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ডিআইজি ব্যারিস্টার মাহবুব খন্দকার। গোয়েন্দা পুলিশের তদন্তে সহযোগিতার জন্য পিবিআই কাজ করছে বলে জানা যায়।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার রাত পৌনে ২টার দিকে পুরান ঢাকার হোসেনি দালানের সামনে তাজিয়া মিছিলের প্রস্তৃতিকালে তিন বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। এতে একজন নিহত ও শতাধিক লোক আহত হন। আহতদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে সাজ্জাদুল হক সানজু নামের একজন মারা গেছেন। এ ঘটনার পর কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।






মন্তব্য চালু নেই