মেইন ম্যেনু

আদালতের আদেশের দেড় বছর অতিবাহিত

এখনও ছাত্রত্ব ফিরে পায়নি বেরোবির সোহেল

এইচ.এম নুর আলম, বেরোবি প্রতিনিধি : রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) গণিত বিভাগের ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র সোহেল রানা এখনও ফিরে পায়নি তাঁর ছাত্রত্ব। ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দিতে আদালতের আদেশের দেড় বছর অতিবাহিত হলেও তিনি এখনও ঘুরছেন করছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্বারে।

এদিকে ছাত্রত্ব ফিরিয়ে না দিয়ে বরং প্রশাসনের বিরুদ্ধে আদালতে করা রীট তুলে নেওয়ার হুমকি দেওয়ায় রংপুর কোতয়ালি থানায় একটি জিডিও করেছে ঐ শিক্ষার্থী। তবে ‘ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে’ বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইব্রাহীম কবীর।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী, পিটিশন সুত্রে জানা যায়, মো: সোহেল রানা ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হয়ে ৩য় বর্ষ ১ম সেমিস্টারে উত্তীর্ণ হয়। সে গুরুতর অসুস্থ থাকার কারনে দীর্ঘ ২ বছর ক্লাসে উপস্থিত থাকতে না পারায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাঁর ভর্তি বাতিল করে এবং ৩য় বর্ষ ১ম সেমিস্টারের ফলাফল স্থগিত করে দেয়।

ফলে শিক্ষার্থী সোহেল হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করলে কোর্ট গত বছরের ১৪ অক্টোবর তাঁর ৩য় বর্ষ ১ম সেমিস্টার পরীক্ষার ফলাফল প্রদান করে ৩য় বর্ষ ২য় সেমিস্টারে ভর্তির কোনো সুযোগপ্রদান করা হবে না এই মর্মে বেরোবি উপাচার্য ,রেজিস্ট্রার,বিভাগীয় প্রধান, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দপ্তরসহ ছয়জনের উপর রুল নিশি জারী করে হাইকোর্ট। প্রত্যেককে রুল জারীর ৪ সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়। এরপর ২য় দফায় চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রেজিস্টারকে ভর্তি করে নেওয়ার জন্য দুই সপ্তাহ সময় বেঁধে দেয় হাইকোর্টের বিচারিক আদালত। ৩য় দফায় ২৯ মার্চ কোনো কারন ছাড়াই ঐ শিক্ষার্থীকে ৩য় বর্ষ ১ম সেমিস্টারের ফলাফল প্রদানও ২য় সেমিস্টারে ভর্তিগ্রহণের নির্দেশ প্রদান করেন হাইকোর্ট।

এরপর গত বছরের ২৫ এপ্রিল সোহেল রানা আদালতের আদেশের সকলকপিসহ আবেদন পত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টারের দপ্তরে প্রদান করেন।

তবে সোহেল রানা তাঁর রংপুর কোতয়ালি থানায় জিডিতে (যার নং-১৮৭৮,তাং-২৯/৪/১৬) উল্লেখ করেন, গত ২০/৪/১৬ দুপুর ২টা থেকে রাত অনুমান ৮টা এবং পরের দিন ২১/৪/১৬ ইং তারিখে অনুমান ২ টা ৪০ মিনিট থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত শিক্ষার্থী সোহেল রানাকে রেজিস্টারের দপ্তরের এক কর্মকর্তার নেতৃত্বে কয়েকজন কর্মকর্তা তাকে আটকিয়ে রাখে। সেখানে তাকে নানান হুমকি প্রদান করে বলা হয় হাইকোর্টে দাখিল করা রিট পিটিশন তুলে না নেয়া হলে তাকে লেখাপড়ার করার সুযোগ দেয়া হবে না ভর্তিও করা হবে না।

তাদের কথা না শুনলে সে কোন দিন পাস করতে পারবে না এবং তাকে পাস করতেও দেয়া হবে না বলেও হুমকি প্রদান করা হয় তাঁকে। দুইদিনে দীর্ঘ ১০ ঘণ্টার বেশি অবরুদ্ধ থাকার পর পরের দিন অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করে জানাবে বলে সে চলে আসে।

সোহেল রানার ভর্তির ব্যাপারে গণিত বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক কমলেশ চন্দ্র জানান,ইতোমধ্যে আমরা তাঁর ভর্তির ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে সুপারিশ করেছি। তবে হাইকোর্ট তাকে আবারও ভর্তি করে নিয়ে লেখাপড়া করার সুযোগ দেবার যে আদেশ দিয়েছেন সেই আদেশ তারা পেয়েছে। তবে যেহেতু বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সে কারণে আাপাতত তাদের করার কিছু নেই। তবে শিক্ষার্থী সোহেল রানা যাতে আবারও লেখাপড়া করতে পারে সেটা তিনিও চান বলে জানান।

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোঃ ইবরাহিম কবীরের সঙ্গে গত রবিবারে তাঁর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সোহেল রানার ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দিয়ে লেখাপড়া করার সুযোগদানের হাইকোর্টের আদেশনামা পেয়েছেন । তবে ভর্তি করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও তিনি জানান।






মন্তব্য চালু নেই