মেইন ম্যেনু

ম্যাচ সেরা সাব্বির

দাপুটে জয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ

জয়যাত্রা অব্যাহত রয়েছে টাইগারদের। প্রথম ম্যাচে চার উইকেটে জয়ের পর রোববার খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামেও চওড়া হাসি মাশরাফিদের। দ্বিতীয় টি২০ ম্যাচেও দাপুটে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। সফরকারী জিম্বাবুয়েকে এদিন ৪২ রানে হারিয়েছে স্বাগতিক শিবির। এই জয়ের ফলে চার ম্যাচের টি২০ সিরিজে ২-০তে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। সিরিজ জয় এখন সময়ের ব্যাপার। তৃতীয় ম্যাচে জয় এলে টাইগারদের চোখ থাকবে তখন হোয়াইটওয়াশে।

টসে জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে তিন উইকেট হারিয়ে ১৬৭ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে বাংলাদেশ। জবাবে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে আট উইকেটে ১২৫ রানে থামে জিম্বাবুয়ের ইনিংস। ব্যাট বল হাতে বাংলাদেশের জয়ের নায়ক অলরাউন্ডার সাব্বির রহমান রুম্মান। ৩০ বলে ৪৩ রানে ছিলেন অপরাজিত। তার ইনিংসে ছিল একটি চার ও তিনটি ছক্কার মার। পরে বল হাতে নিয়েছেন তিনটি উইকেট। ২.১ ওভারে রান দিয়েছেন ১১। ফলে অনুমিতভাবে ম্যাচ সেরা হয়েছেন সাব্বির রহমানই।

বড় টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে দলের হয়ে দারুণ সূচনা এনে দেন জিম্বাবুয়ের অভিজ্ঞ ওপেনার হ্যামিল্টন মাসাকাদজা। চিগুম্বুরার পরিবর্তে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন অধিনায়ক হিসাবেও। উদ্বোধনী জুটিতে তার সঙ্গ দিয়েছেন ভুসি সিবান্দা।

ওপেনিং জুটিতে দারুণ শুরু এনে দেন তারা দলকে। এই জুটি থেকে আসে গুরুত্বপূর্ণ ৫০ রান। এরপর এই জুটিতে ভাঙ্গন ধরান বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। ৬.৪ ওভারে সিবান্দাকে সরাসরি বোল্ড করেন মাশরাফি। তবে সাজঘরে ফেরার আগে ১৭ বলে ২১ রান করে যান সিবান্দা। যেখানে ছিল দুটি চার ও একটি ছক্কার মার।

এরপর বল হাতে চমক দেখান বাংলাদেশের তারকা অলরাউন্ডর সাব্বির রহমান। প্রথমে বিদায় করেন ক্রমেই ভয়ংকর হয়ে ওঠা হ্যামিল্টন মাসাকাদজাকে। ২৮ বলে ৩০ রান করা মাসাকাদজা (তিন চার, দুই ছয়) সাব্বিরের বলে ক্যাচ তুলে দেন মাহমুদুল্লাহর হাতে। দলীয় ৫ রান যোগ হতেই আঘাত হানেন শুভাগত হোম। তিনি বিদায় করেন ৬ বলে ৭ রান করা উইলিয়ামসকে। আন্তর্জাতিক টি২০ ক্রিকেটে শুভাগতর এটি প্রথম উইকেট। জিম্বাবুয়ের দলীয় রান তখন ৫৫।

এরপর আবারো সাব্বিরের আঘাত। ১১ বলে সাত রান করা মুতুম্বামিকে সৌম্যের হাতে ক্যাচ বানান সাব্বির। এরপর আল আমিনের আবির্ভাব। সাজঘরে ফেরত পাঠান ভয়ংকর হয়ে ওঠা ওয়ালারকে। ২১ বলে ২৯ রান করে সৌম্যের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ওয়ালার। জিম্বাবুয়ের দলীয় রান তখন ১০৫। এরপর আর জিম্বাবুয়ের কোন ব্যাটসম্যানই মাথা তুলে দাড়াতে পারেনি।

১৭তম ওভারে মুর ও মাদজিভাকে সরাসরি বোল্ড করে জিম্বাবুয়েকে আরও কোণঠাসা করে ফেলেন মুস্তাফিজুর রহমান। জিম্বাবুয়ের অষ্টম উইকেটটি নেন সাব্বির। ইনিংসের শেষ বলে ক্রেমারকে নিজের বলে নিজেই ক্যাচ নেন তিনি। জিম্বাবুয়ের ইনিংস থাকে ১২৫ রানে। বাংলাদেশের হয়ে সাব্বির সর্বোচ্চ তিনটি, মুস্তাফিজ দুটি, আল আমিন ও শুভাগত হোম নেন একটি করে উইকেট।

এর আগে টসে জিতে ব্যাট করতে বাংলাদেশের হয়ে সূচনাটা ভালোই করেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। শুরু থেকেই জিম্বাবুয়েন বোলারদের উপর চড়াও হয়ে খেলতে শুরু করেন তারা। এই জুটি থেকে আসে ৪৫ রান। তবে মুজারাবানিকে উঠিয়ে মারতে গিয়ে ভিটরির হাতে তালুবন্দী হন তামিম ইকবাল। সাজঘরে ফেরার আগে করেন যান ১৭ বলে তিন চার ও এক ছয়ে ২৩ রান।

তামিম বিদায় নিলেও সৌম্য শাসন করেছেন একাই প্রতিপক্ষের বোলারদের। তবে দলীয় ৭৫ রানের মাথায় তাকে থামায় ক্রেমার। ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে ওয়ালারের হাতে ক্যাচ দেন সৌম্য। তবে যাওয়ার আগে ৩৩ বলে করে যান ৪৩ রানের ঝলমলে ইনিংস। যেখানে ছিল চারটি চার ও তিনটি ছক্কার মার।

তবে প্রথম ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও সুপার ফ্লপ মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। মাত্র এক রান করে তিনি ফেরেন সাজঘরে। বল খরচ করেছেন তিনটি। বড় ইনিংস হয়তো খেলতে পারতেন মুশফিকুর রহীম। তবে হ্যামস্ট্রিংযের চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। আহত মুশফিককে মাঠের বাইরে নিয়ে আসেন সাকিব। ২০ বলে ২৪ রান করেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং করেছেন সাব্বির রহমান ও সাকিব আল হাসান। ৩০ বলে এক চার ও তিন ছয়ে ৪৩ রানে অপরাজিত থাকেন সাব্বির রহমান। অন্যদিকে সাকিব আল হাসান ১৭ বলে থাকেন ২৭ রানে অপরাজিত। এর মধ্যে ছিল দুটি চার ও একটি ছক্কার মার। জিম্বাবুয়ের হয়ে মুজারাবানি, ক্রেমার ও ওয়েলিংটন মাসাকাদজা একটি করে উইকেট লাভ করেন।






মন্তব্য চালু নেই