মেইন ম্যেনু

এটাই কি ছিল ভয়ঙ্কর বিষধর কিং কোবরা!

ক্রিসমাসের আগের সপ্তাহ। ৪৬ বছর বয়সী সাবেক ইন্সুরেন্স কর্মকর্তা চারমিন রবার্টস এবং তার পরিবারের বহুদিনের স্বপ্ন সম্প্রতি বাস্তবে রুপ নিয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়ার উত্তরে একটি সুনসান গ্রামে ৬০ হেক্টরের বিশাল এক ফার্মহাউস কিনে ফেলেছেন তিনি। চারমিন তার পরিবারকে খুবই ভালবাসতেন। তার স্বামী বার্টাস কাছেই একটি কেমিক্যাল ফ্যাক্টরির সুপারভাইজার ছিলেন। এই দুজন পূর্বেও একাধিক বিয়ে করেছিলেন। সব মিলিয়ে তাদের সাত সন্তান, তিন নাতি-নাতনি এবং পালিত সন্তানদ্বয়কে নিয়ে বিশাল সংসার। সেখানে অর্থ কিংবা ভালবাসার কোন অভাব ছিল না।

কিন্তু পালিত সন্তানদের মাঝে বাদামী চোখের ছোট্ট মিকাইলা ছিল একটু অন্যরকম। ৫ বছর বয়সী এই ছোট্ট মেয়েটি আসলে বার্টাস-এর ২৫ বছর বয়সী ছেলের একমাত্র কন্যা। মিকাইলার জন্মের আগেই তার মা-বাবার বিচ্ছেদ ঘটে। কিন্তু মিকাইলা পৃথিবীতে আসে এক জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে। এই রোগ সারাতে চিকিৎসার প্রয়োজনীর অর্থ তার মায়ের ছিল না। তিনি বাধ্য হয়ে সাবেক স্বামীর শরণাপন্ন হন। এবং মিকাইলার দাদী চারমিন খুশিমনে নাতনীকে গ্রহণ করেন, চিকিত্সার ব্যবস্থা করেন এমনকী আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে দত্তকও নেন।

২০১১ সালের একটি রাত। সেদিন সোমবার ছিল। মিকাইলা তাদের নতুন বাড়িতে আনন্দ নেচে নেচে বেড়াচ্ছিল। আবার দৌড়ে ভেতরে এসে সোফার উপর উঠে পোষা কুকুরটির সঙ্গে দুষ্টুমি। বার্টাস তাকে কোলে তুলে বেডরুমে নিতে চাইলেও সে কিছুতেই যাবে না। চারমিন হেসে বললেন, ওকে ছেড়ে দিতে। দেখাশোনার জন্য মিকাইলার ভাই-বোন আর কুকুরটা তো আছেই-এই ভেবে তারা নিশ্চিন্তে বেডরুমের দিকে চলে গেলেন।

কিন্তু সবকিছু ঠিক ছিল না! রাত সাড়ে এগারটার দিকে নীরব ফার্মহাউজ জেগে উঠে মিকাইলার চিত্কারে! সাপ! মিকাইলাকে সাপে কামড়েছে! যেন বাতাসের গতিতে ছুটে আসলেন বার্টাস দম্পতি। এসে আবিস্কার করলেন তাদের ছোট্ট মেয়েটার বাম হাতের মধ্যমা এবং কনুইয়ে আক্রমণ করেছে কোন ভয়ঙ্কর সাপ! বার্টাস তার এক ছেলেকে সাপটির বিষয়ে খোঁজ নেওয়ার জন্য লাগিয়ে দেন এবং ছোট্ট মিকাইলাকে নিয়ে দ্রুত তার নিশান গাড়িটি চালু করেন। চারমিন তাকে পুরো রাস্তা কোলে করে বসেছিলেন। মেয়েটির যদি কিছু হয়ে যায়-এই আতঙ্কে তিনি কাঁদছিলেন। বার্টাস দ্রুতগতিতে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছেন। চারমিন চিত্কার করছেন আরও জোরে চালাতে। ছোট্ট মিকাইলার অবস্থা মরণাপন্ন। চল্লিশ মিনিট ঝড়ের বেগে গাড়ি চালিয়ে তারা সবচেয়ে কাছের হাসপাতাল এলিসরাজে পৌঁছলেন।

যখন তারা হাসপাতালে পৌঁছলেন তখন ফার্মহাউস থেকে একটি ফোন এল। বার্টাস জানতে পারলেন মিকাইলাকে কামড়েছে আফ্রিকার সবচেয়ে বিপদজনক এক মিটার লম্বা বিশাল সাইজের একটি কিং কোবরা! এটি সবার অজান্তেই তাদের বেডরুমে প্রবেশ করে লুকিয়ে ছিল। এর বিষে মানুষ মারা যায়। নতুন কেনা ফার্মহাউসে এমন বিষধর সাপের বাস শুনে যে কেউ স্তম্ভিত হয়ে যেতে পারে। কিন্তু তার সমস্ত চিন্তা তখন মেয়ের মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিল।

হাসপাতালের ডাক্তাররা মিকাইলাকে অক্সিজেন মাস্ক পরিয়ে দিলেন। তারপর তার দেহে পরপর দুটি এন্টিভেনম ইনজেকশন পুশ করা হয়। উদ্বিগ্ন চারমিন জানতে চাইলেন, এতেই কি ভাল হয়ে যাবে তার মেয়ে? সকালে উঠে ফুটফুটে মিকাইলা কি আগের মত হয়ে যাবে? কিন্তু মিকাইলার শ্বাসকষ্ট তীব্র আকার ধারণ করল। চারমিনকে বলা হলো শিশুটিকে কাছেই মারাপং প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যেতে বললেন। মারাপং এ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ডাক্তাররা আরও ভয়াবহ কথা বললেন! ডাক্তাররা বললেন ছোট্ট মিকাইলার আরও উন্নত চিকিত্সার প্রয়োজন। এজন্য তাকে প্রিটোরিয়ার স্টিভ বিকো একাডেমিক হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। যা সেখান থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে এবং এত রাতে কোন অ্যাম্বুলেন্স পাওয়ার সম্ভাবনাও নেই!

‌এই অসহায় পরিস্থিতিতে দমে গেলেন না বার্টাস। তিনি গাড়ি ম্যানেজ করে ফেললেন। চাকরির জন্য তিনি এত দূর যেতে পারবেন না বিধায় তার এক বন্ধুকে দায়িত্ব দিলেন গাড়ি চালিয়ে চারমিন এবং মিকাইলাকে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার জন্য। মারাপং হাসপাতালের ডাক্তাররা পাগলপ্রায় চারমিনকে শান্ত থাকতে বললেন। চারমিনকে বোঝানো হলো এটা তার সন্তানের জন্য মঙ্গলজনক হবে। মিকাইলাকে পরিচর্যার জন্য চারমিনকে কিছু কৌশলও শিখিয়ে দিলেন ডাক্তাররা। তারপর শুরু হলো ৩০০ কি.মি. পাড়ি দেওয়া।

তখন তারা হাসপাতাল থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে। এর মধ্যেই মিকাইলা তিনবার নি:শ্বাস নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল! চারমিন সবরকম চেষ্ঠা করছিলেন তাকে জাগিয়ে রাখার জন্য। কিন্তু মিকাইলা জ্ঞান হারাল! প্রিটোরিয়া তখনো বহুদূর। কোন মাধ্যমে খবর পেয়ে একটি র্যাপিড রেসপন্স কার ছুটে আসতে লাগল চারমিনের গাড়ির দিকে। সেই উদ্ধারকারী গাড়ির হর্ন আর লাল আলোয় চোখ ধাঁধিয়ে সম্বিত ফিরে পেলেন চারমিন। অপপ্রত্যাশিতভাবে উদ্ধারকারী দলে একজন প্যারামেডিকস ছিলেন যিনি মিকাইলাকে অনেকটাই সামলে নেন। কিন্তু শিশুটি দুর্বল হয়ে যাচ্ছিল। তাকে প্রিটোরিয়ার বিকো একাডেমিক হাসপাতালে নেওয়ার সময় ছিল না। তাই কাছেই ওয়ার্মবার্থসে নেটকেয়ার মন্টানা প্রাইভেট হাসপাতালে নেওয়া হলো মিকাইলাকে।

মিকাইলার তিন দিন কাটল সেই ক্লিনিকে। চারমিন রবার্টস হাসপাতালের খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। মিকাইলার কিডনী এবং ফুসফুস কাজ করছিল না। ডাক্তাররা বললেন মোজাম্বিকের এই প্রজাতির কিং কোবরার বিষ সাইটোটক্সিক, যা দ্রুত সারা শরীরে ছড়িয়ে পরে। কোবরার প্রাণঘাতী বিষ মিকাইলার লিভারকে আক্রান্ত করেছিল। পাশাপাশি তার ছোবল লাগা হাতটি ক্রমেই কালো হয়ে যাচ্ছিল। পচন ঠেকাতে ডাক্তাররা এক কঠোর সিদ্ধান্তের কথা জানালেন। মিকাইলার জীবন বাঁচাতে হাতটি কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা!

কিন্তু প্রাইভেট হাসপাতালের পাহাড়সম ব্যয়ভার বহনে অক্ষম পরিবারটি মিকাইলাকে বিকো একাডেমিক হাসপাতালে স্থানান্তর করতে বাধ্য হলেন। পথে মরিয়া চারমিন মন্টানার এক প্যারামেডিককে ফোন করলেন। অরনো নাউডি নামে সেই প্যারামেডিক সাপ সনাক্তকরণ এবং সাপে কাটার চিকিত্সা বিষয়ে প্রিটোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পড়ান। তাকে মিকাইলার হাত কেটে ফেলার সিদ্ধান্তের কথা জানাতেই তিনি বললেন ‘থাম’! “ডাক্তাররা অঙ্গচ্ছেদ করতে খুব পছন্দ করে” জানিয়ে তিনি বললেন এন্টিভেনমের কোর্স শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে। একেবারে শেষ পর্যায়ে যদি আর কিছুই করার না থাকে তখন হাতটি কেটে ফেলা যেতে পারে বলে মত দেন তিনি। জন্মগত ত্রুটির কারণে মিকাইলার লিভার এমনিতেই অস্বাভাবিক ছিল; তার মধ্যে এই কিং কোবরার বিষ পরিস্থিতি গুরুতর করে তোলে।

ক্রিসমাসের আর দুই দিন বাকী। মিকাইলার দেহ হলুদ বর্ণ ধারণ করল এবং ফুলে উঠতে লাগল। বিকো একাডেমির ডাক্তাররা চারমিনকে জানিয়ে দিলেন মিকাইলার জীবন প্রদীপ আজ রাতেই নিভে যাবে! তারা পরিবারের বাকী সদস্যদেরকেও খবর দিতে বলেন। এমন সময় সর্প বিশেষজ্ঞ অরনো নাউডি বিষন্ন বিধ্বস্ত পরিবারটির কাছে এসে পৌঁছান। তিনি সমস্ত কাগজপত্র দেখে বলেন, মিকাইলাকে এন্টিভেনমের আটটি ডোজ দেওয়ার দরকার ছিল; যেখানে দেওয়া হয়েছে এর অর্ধেক! তার মতে প্রাপ্তবয়স্কদের চাইতে শিশুদের এন্টিভেনম বেশী দিতে হয়। তবে তখন অপেক্ষা আর প্রার্থনা করা ব্যাতীত আর কিছু করার ছিল না!

ভয়ানক সেই রাত অবশেষে ভোর হলো। কিন্তু সব দুশ্চিন্তা কাটিয়ে ক্রিসমাসের আগের দিন সকালে খুশির সংবাদ বয়ে আনল চারমিন পরিবারে। ছোট্ট মিকাইলার দেহে স্পন্দন পাওয়া যাচ্ছে! আবারও জেগে উঠছে ছোট্ট মিকাইলা! মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ে সে অনেকটাই জিতে গেছে। চারমিন পরিবারে আর আনন্দ ধরে না। ক্রিসমাসের দিন সে পুরোপুরি সজ্ঞানে ফিরল। তার মুখে হাসি দেখা গেল। এমনকী তার ক্রিসমাস গিফট কুকুর জিমির কথাও জিজ্ঞেস করল! বিধ্বস্ত পরিবারটির কাছে এর চাইতে বড় ক্রিসমাস গিফট আর কি কিছু হতে পারে? মিকাইলার কাছে মৃত্যু সত্যিই হার মেনেছিল। কিন্তু ২৮ ডিসেম্বর তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হলো। তার সেই ছোবল খাওয়া হাতটিতে ঘা হয়ে গিয়েছিল। এন্টিভেনম এই ছোট্ট শিশুটির ত্বক এবং টিস্যুর ব্যাপক ক্ষতিসাধন করেছিল। ডাক্তাররা এখন তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর যুদ্ধে নামলেন।

প্লাস্টিক সার্জন ড. অ্যান্টন ব্রিউইস মিকাইলার দেহে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা নিরুপন করতে লাগলেন। তিনি বললেন, ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যুগুলো পুন:স্থাপন করলে তার হাতটি বাঁচানো যেতে পারে। এজন্য মিকাইলার হাতে এবং কুঁচকিতে বিশেষ ধরণের সার্জিক্যাল যন্ত্র সাময়িকভাবে স্থাপন করতে হবে। ২০১২ সালের জানুয়ারির ১৩ তারিখে মিকাইলার হাতটির ত্বক সরে গিয়ে হাড় বেরিয়ে পড়ল! ডাক্তাররা দ্রুত সেই স্থান সেলাই করে দুই সপ্তাহের বিশ্রামে পাঠিয়ে দিলেন। তাদের আশা, এই সময়ের মধ্যে হাতে নতুন ত্বক সৃষ্টি হবে। আশ্চর্যজনকভাবে মিকাইলার হাতে তেমন ব্যাথা ছিলনা। তার যকৃত শক্তিশালী ওষুধের প্রতিক্রিয়ার বিরুদ্ধে ভালই লড়াই করছিল। তার ক্ষতস্থানে নতুন ত্বক সৃষ্টি হচ্ছিল। অত:পর জানুয়ারির ২৭ তারিখ তার কুঁচকি থেকে সব যন্ত্র খুলে নেওয়া হলো।

অত:পর কোবরার আক্রমণের ছয় সপ্তাহ পর মিকাইলা বাড়ি ফিরল। পরিবারের সবচেয়ে ছোট্ট সদস্যটিকে বরণ করে নিতে উত্সবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হলো ফার্মহাউসে। ফুল, বেলুন নানা রকম বৈদ্যুতিক আলোর সমাহারে উজ্জল হয়ে করে ফেলা হলো বাড়িটি। এই রাজসিক প্রত্যবর্তনের পর মিকাইলা কিন্তু কেবল তার পোষা কুকুর জিমির সঙ্গে খেলা করতে অধীর ছিল। মিকাইলার প্রত্যাবর্তনের আগেই ফার্মহাউসে সর্পবিশারদ ডেকে এনে সব সাপ দূর করা হয়েছিল। তবে সাপের কামড় খেয়ে মৃত্যুমুখ থেকে ফিরে আসার পর মিকাইলার উপলব্ধি হলো “কিছু সাপ পাজি; কিন্তু কিছু সাপ আছে যেগুলো ভাল।”

কিন্তু তার সেই বাম হাতের আঙ্গুল তখনো স্বাভাবিক ছিল না। ধীর গতিতে তার হাতের বিকৃত আঙ্গুলগুলো স্বাভাবিক হচ্ছিল। নভেম্বরে অবশেষে তাকে স্কুলে ভর্তি করে দেওয়া হলো। এখন মিকাইলা সবকিছু বুঝতে পারে। কারণ সে এখন ক্লাস টেনে পড়াশোনা করছে। তার সেই হাতের আঙ্গুলগুলো আর স্বাভাবিক হয়নি। ওই হাত দিয়ে সে খুব বেশী কাজ করতে পারে না। তবে মিকাইলা সবাইকে গর্বের সঙ্গে এই আঙ্গুলগুলো দেখায়। কারণ তার মৃত্যুঞ্জয়ী জীবনের একমাত্র চিহ্ন এটাই।

সাপে কামড়ালে কী করবেন ?

পৃথিবীতে কিং কোবরার মত বিষধর সাপ খুব কমই আছে। তবে যেকোন বিষধর সাপের কামড়ই মৃত্যুকে ডেকে আনতে পারে। মারা না গেলেও আপনি প্যারালাইজড হয়ে যেতে পারেন। হতে পারে অঙ্গহানি। সাপের কামড় খেলে এতটুকু সময় নষ্ট করবেন না। পারলে সাপটিকে চেনার চেষ্ঠা করুন যাতে আপনার চিকিৎসা সহজ হয়। না চিনলেও সমস্যা নেই; যত দ্রুত সম্ভব কামড়ের স্থানটির একটু উপরে কিছু দিয়ে শক্ত করে বাঁধুন। তারপর এতটুকু দেরী না করে ছুটুন হাসপাতালে। সেখানে গিয়ে এন্টিভেনম নেওয়া সহ ডাক্তারদের পরামর্শ মেনে চলুন। কোন অবস্থাতেই বা কারও প্ররোচনাতেই ঝাঁড়-ফুঁক ওঝা বাবাদের কাছে যাবেন না। কারণ জীবনটা আপনার, সেটার মূল্য আপনার চাইতে বেশী কেউ বুঝবে না। আরেকটা তথ্য দিয়ে রাখি, সারা বিশ্বে প্রতিবছর দেড়লাখের বেশী মানুষ সাপের কামড়ে মারা যায়!






মন্তব্য চালু নেই