মেইন ম্যেনু

এটাই কি মুজাহিদের শেষ ঈদ?

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের ফাঁসির রায় হয়েছে। এবার পূর্ণাঙ্গ রায়ের অপেক্ষায় রাষ্ট্রপক্ষ। আর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর ১৫ দিনের মধ্যে রায় পূনর্বিবেচনার আবেদন করতে পারবেন মুজাহিদ।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, চূড়ান্ত রায় প্রকাশের বিষয়টি বিচারকদের উপর নির্ভর করছে। বিচারকরা রায় লিখছেন। লেখা শেষ হলেই চূড়ান্ত রায় প্রকাশ হবে। এতে আরও মাস দুয়েক মাস সময় লাগতে পারে।তবে বর্তমান প্রধান বিচারপতির মামলা নিষ্পতির গতি দেখে অনেকে বলছেন, দুই মাসের কম সময়েও এ রায় কার্যকর হতে পারে। আর সেটা যদি হয় তাহলে এবারের রমজানের ঈদই হবে মুজাহিদের জন্য শেষ ঈদ।

চূড়ান্ত রায় প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে রিভিউ আবেদন করতে পারবে আসামিপক্ষ। এরপরই শুরু হবে রায় কার্যকরের প্রক্রিয়া।

জানতে চাইলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ বলেন, ‘মামলা নিষ্পতির গতি দেখে মনে হচ্ছে খুব কম সময়ে আমরা কোনো সিদ্ধান্ত পাবো। পূর্ণাঙ্গ রায় যতো তাড়াতাড়ি প্রকাশ হবে এর কার্যক্রমও ততো দ্রুত শেষ হবে। তবে এটি নির্ভর করছে বিচারকদের উপর।’

মুজাহিদের আইনজীবী শিশির মুহাম্মদ মুনির বলেন, ‘আমরা এখন পূর্ণাঙ্গ রায়ের অপেক্ষায় আছি। এরপর রিভিউর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কামারুজ্জামানের চূড়ান্ত রায় প্রকাশিত হওয়ার পর রায় কার্যকর করতে পাঁচ মাসের বেশি সময় লেগেছিল। গত বছর ৩ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও বদর কমান্ডার মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসির আদেশ বহাল রেখে রায় দেয়। এই আদেশের পর ১৩ এপ্রিল কার্যকর হয় বদর কমান্ডারের সাজা।

আপিল বিভাগের রায়ের পর কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকরে সময় লেগেছে প্রায় চারমাস।

মানবতাবিরোধী অপরাধে গত ১৬ জুন মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

বাংলাদেশের মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করা ৬৭ বছর বয়সী মুজাহিদই প্রথম ব্যক্তি মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে চূড়ান্ত রায়েও যিনি সর্বোচ্চ দণ্ডে দণ্ডিত হলেন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিগত চারদলীয় জোট সরকারের এ সমাজকল্যাণমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের পক্ষের জনগণকে দমাতে গঠিত আলবদর বাহিনীর মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দেয়ার বিষয়টি রায়ে প্রমাণিত হলো।

৪৩ বছর আগে স্বাধীনতার উষালগ্নে বুদ্ধিজীবী হত্যা ও স্বাধীনতাকামীদের গণহত্যা-বিভিন্ন নির্যাতনের দায়ে সে সময় আলবদর বাহিনীর প্রধান মুজাহিদকে ২০১৩ সালের ১৭ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ ফাঁসির আদেশ দেন।

আপিল বিভাগ চূড়ান্ত রায়ে মুজাহিদের আপিল খারিজ করে তার বিরুদ্ধে আনীত ৬ নম্বর অভিযোগে বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে ট্রাইব্যুনালের দেয়া ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখেছেন। এ অভিযোগে সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটির (ঊর্ধ্বতন নেতৃত্ব) দায় প্রমাণিত হলো।

এর আগে আরও তিনটি মামলা সুপ্রিমকোর্টে আপিলে নিষ্পত্তি হয়েছে। আপিলের প্রথম রায়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার আপিল নিষ্পত্তির পর ২০১৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর যাবজ্জীবন সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয় আপিল বিভাগ। এ রায় রিভিউয়ের আবেদনও খারিজ করে দেয় আপিল বিভাগ। এরপর একই বছরের ১২ ডিসেম্বর কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর আপিলের দ্বিতীয় রায়ে জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ট্রাইব্যুনালে দেয়া সাজা মৃত্যুদণ্ড থেকে কমিয়ে তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয় আপিল বিভাগ।

আপিলের তৃতীয় রায়ে জামায়াতের আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহম্মদ কামারুজ্জামানকে ট্রাইব্যুনালে দেয়া ফাঁসির আদেশ বহাল রাখা হয়। সাজা বহাল রাখার রায়ের বিরুদ্ধে কামারুজ্জামানের রিভিউ (পুর্নবিবেচনা) আবেদনও খারিজ করে রায় দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। গত ১১ এপ্রিল তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়।ঢাকাটাইমস






মন্তব্য চালু নেই