মেইন ম্যেনু

এটা তো ওদের প্রেমের বয়স, রাঘব বোয়ালরা কোথায়?

ওদের তো বয়স কম! ওদের এই বয়স তো প্রেম করার বয়স! ওদের এই বয়সে রাত জেগে কম্পিউটারে মুভি দেখার বয়স। এই বয়সে বড়জোড় যাকে ভালোবেসে ব্যর্থ হয়েছে, তার নাম আর ওর নামের আদ্যক্ষর হাত কেটে সেখানে বসানোর বয়স ওদের!

ফেসবুকে ঘণ্টায় ঘণ্টায় ওদের প্রোফাইল পিকচার চেঞ্জ (পরিবর্তন) করার বয়স। তাহলে এই জঙ্গিবাদ,ধর্মের নামে মানুষ হত্যা এগুলো তো ওদের মাথায় ঢোকার কথা না! কে ঢোকালো তাহলে! সেটা আগে বের করতে হবে! রাঘব-বোয়ালরা কি সবসময়ে পেছনেই থাকবে? তারা কোথায়? তারা কোথায়? বলেন,আসমা ফাতিমা।

তিনি রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত ইউনাইটেড হাসপাতালের কাস্টমার রিলেশন সুপারভাইজার। বাসা কাছে হওয়াতে প্রতিদিন ৭৯ নম্বর সড়ক ধরেই তার যাতায়াত। আজও অফিস শেষ করে বাসায় ফেরার পথে ৭৯ নম্বর সড়কের মুখে দাঁড়িয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

আসমা ফাতিমা বলেন, যে ছেলেগুলো মারা গেছে, সব অল্প বয়সী ছেলে। তারা তো শেষ হলোই,পরিবারগুলোকেও ওরা শেষ করে দিয়ে গেছে। পরিবারের লোকগুলো এখন সমাজে মুখ দেখাতে পারবে না। দাঁড়াতে পারবে না। কথা বলতে পারবে না। এতে কাদের লাভ হলো! মানবিকতা আর ধর্মের নামে এগুলো কী হচ্ছে, কিছুই বুঝি না!

গত ১ জুলাই রাজধানীর গুলশানের হোলি আর্টিজান ক্যাফেতে হামলার পরদিন সেনাবাহিনীর অভিযানের সময়ও তিনি হাসপাতালে যেতে গিয়ে এখানেই আটকা পড়েছিলেন বলে সেদিনের স্মৃতিচারণ করেন।

তিনি বলেন,পরদিন এখানে যখন সেনাবাহিনী অভিযান চালায় তখন প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট আমি এখানেই আটকা ছিলাম। আর ওই সময়ে যারা এখানে ছিলেন, তাদের নিরাপত্তার জন্যই করা হয়েছিল। কারণ, ওই সময়ে যে কেউ ক্রসফায়ারে পড়ে যেতে পারতেন।

তিনি বলেন, সবই বুঝতে পারছিলাম। কিন্তু ভয় আটকাতে পারছিলাম না। আমার স্বামী একজন মুক্তিযোদ্ধা। তার মুখে মুক্তিযুদ্ধের অনেক কথাই শুনেছি। কিন্তু মৃত্যুভয় কী জিনিস, সেদিন আমি টের পেয়েছি!

২ জুলাইয়ের সেনা কমান্ডো অভিযানের বর্ণনা দিতে গিয়ে আসমা ফাতিমা বলেন,সেদিন সকালে এখান দিয়ে পার হবার কোনও পথ ছিল না। যেখান দিয়েই মানুষ যাচ্ছিল, সেখানেই আটকে দেওয়া হচ্ছিল। আমি আমার পরিচয় দেই। হাসপাতাল থেকেও ফোন আসে। কিন্তু তারা বলেন, আমাদের অপারেশন শুরু হয়ে গেছে। অপারেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত যেতে দিতে পারছি না।

তিনি বলেন,সৃষ্টিকর্তার কাছে এখন একটাই প্রার্থনা, আমাদের সবাইকে যেন উনি সুস্থ রাখেন, অন্তত মস্তিষ্কটা যেন সুস্থ থাকে। আমাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করে কেউ যেন কোনও নেগেটিভিটি (নেতিবাচক) ঢোকাতে না পারে,এদের কারও দ্বারা যেন আমরা প্রভাবিত না হই-এটাই সবাই সবার জন্য দোয়া করবেন।

তিনি বলেন, আমাদের হৃদয়ের মধ্যে যেন মানবিকতাবোধটা থাকে, মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই-এই বোধটা যেন আমরা হারিয়ে না ফেলি!

তিনি আরও বলেন, প্রত্যেক মানুষের পোশাকের ভেতরে,শরীরের ভেতরে একটি করে হার্ট (হৃদয়) আছে। এ সময় পাশ থেকে একজন বলেন, জঙ্গিদের নেই। উত্তরে তিনি বলেন, আমার মনে হয়, ওদেরও আছে। কিন্তু ওদের যারা মদদদাতা,যারা ওদের তৈরি করছে, তারাই এর জন্য দায়ী।

ইউনাইটেড হাসপাতালে কতজন এখন চিকিৎসা নিচ্ছেন জানতে চাইলে আসমা ফাতিমা বলেন, ঘটনার পর তো অনেকেই ছিলেন। আবার অনেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলেও গেছেন। বর্তমানে ১৮ জনের মতো ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানান তিনি।

এদিকে, ৭৯ নম্বর সড়কের মুখে পুলিশের ব্যারিকেডে দায়িত্ব পালনকারী একজন পুলিশ সদস্য বলেন,এখন আর ভালো লাগে না চাকরি করতে। ২৫ বছর পার করে ২৬ বছরে পড়েছে চাকরি জীবন। এখনও আরও ১৫ বছর আছে চাকরির বয়স। কিন্তু আর ভালো লাগছে না। গতকাল বাসায় ফিরে স্ত্রীকে বলেছি, অবসর নিয়ে নেবো কি না চাকরি থেকে। পুলিশের এই পোশাক এখন বড় ভারী মনে হয়।

নিজের মনেই তিনি বলে যান, গুলশানের এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন আর না হয়। রাজনৈতিক কিংবা অন্য কোনও কারণ রয়েছে। তাই, পুলিশকে লক্ষ করে একবারে গুলি করা! এটা তো ভাবতেই পারি না। আমরা মানুষকে নিরাপত্তা দেই। কিন্তু আমাদের নিরাপত্তা কোথায়! কে দেবে, বলেন তিনি।

উল্লেখ্য, ১ জুলাই (শুক্রবার) রাতে রাজধানীর গুলশান ২ নম্বর সেকশনের ৭৯ নম্বর সড়কের হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালায় জঙ্গিরা। এতে দুই পুলিশ সদস্য, ১৭ বিদেশি নাগরিক ও তিন বাংলাদেশি নিহত হন। পরের দিন সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ছয় জঙ্গি নিহত হয় বলে শনিবার সেনাসদরে এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

অভিযানে জীবিত উদ্ধার করা হয় তিন বিদেশি নাগরিকসহ ১৩ জিম্মিকে। নিহতদের মধ্যে নয়জন ইতালির,সাতজন জাপানি ও একজন ভারতের নাগরিক। বাকি তিনজন বাংলাদেশি,যাদের মধ্যে একজনের যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বও ছিল।

আর কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ৭ জুলাই ঈদের জামাতের কাছে টহলরত পুলিশের ওপর হামলা হয়। বিস্ফোরণ,গুলি ও চাপাতির হামলায় নিহত হন দুই পুলিশসহ মোট চারজন।-বাংলা ট্রিবিউন।






মন্তব্য চালু নেই