মেইন ম্যেনু

এতিমদের আশ্রয় দিতে গিয়ে নিজেই এখন আশ্রয়হীন

এতিমদের আশ্রয় দিতে গিয়ে নিজেই হলেন আশ্রয়হীন। ভিটে-বাড়ি বিক্রি করে এতিমদের সঙ্গেই সন্তানদের নিয়ে থাকছেন তিনি। এতিমদের নিয়ে অভাবে চলছে তার এতিমখানা।

‘ইফতারি’তে শুধু মুড়ি আর পানি, মাগরিবের নামাজের পর সবজি দিয়ে ভাত। ভোর রাতে সবজি বা ডাল-আলু ভর্তা। এভাবেই চলছে বাঘার সরেরহাট গ্রামের এতিমখানার শিশুদের রমজান মাস।

রাজশাহী শহর থেকে ৪৫ কিলোমিটার পূর্বে পদ্মা নদীর তীর ঘেঁষে বাঘা উপজেলার গড়গড়ি ইউনিয়নের সরেরহাট গ্রাম। এ গ্রামে গড়ে উঠেছে ছোট্ট একটি এতিমখানা। এর নাম দেয়া হয়েছে ‘সরেরহাট কল্যাণী শিশু সদন।’

বর্তমানে এখানে এতিমের সংখ্যা ১৬৯ জন। এর মধ্যে ছেলে ১১৮ জন ও মেয়ে ৫১ জন।

জানা যায়, মুক্তিযোদ্ধা শামসুদ্দিন ওরফে ডা. শমেস ১২ শতাংশ জমি ক্রয় করে চালু করেন এতিমখানাটি। তার স্ত্রী মেহেরুন্নেসার সেলাই কাজ ও শমেস ডাক্তারের চিকিত্সা থেকে আসা সামান্য কিছু অর্থ দিয়ে আশ্রয়হীনদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেন।

শেষ পর্যন্ত তিনি বাড়ির ভিটা পর্যন্ত বিক্রি করে নিজেই পরিবার নিয়ে গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। শেষ পর্যন্ত স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে ওঠেছেন এতিমখানায়।

স্ত্রী মেহেরুন্নেসা একদিকে এতিম শিশুদের দেখাশোনা করেন অন্যদিকে তাদের জন্য রান্নার কাজও করেন।
১৬৯ জন এতিম শিশুসহ স্বামী-স্ত্রী আর দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে একসঙ্গে দিন কাটান।

তাদের নিজেদের আয় ও সাহায্য হিসেবে যা পান তা দিয়েই ৬ মাস চলে। বাকি ৬ মাস কারিতাসের দেয়া অর্থে কোনোরকমে চলে এতিমখানাটি।

এতিমখানার পরিচালক ডা. শামসুদ্দিন বলেন, রমজান মাসে কত মানুষই তো কত ভালো ভালো খাবার ও জামা-কাপড় কিনছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তিনি এতিমদের জন্য কিছুই কিনতে পারেননি।






মন্তব্য চালু নেই