মেইন ম্যেনু

এত ঘনঘন চাকরি বদল করেছেন কেন? উত্তরে যা বলবেন

জীবনের একটা দুঃখজনক বিষয় হলো চাকরিপ্রার্থীদের যারা ইন্টারভিউ নেন তাদের সকলেই তা করার জন্য যথেষ্ট যোগ্যতা সম্পন্ন নন।

আজকাল প্রচুর সংখ্যক অযোগ্য লোক চাকরিপ্রার্থীদের ইন্টারভিউ প্রক্রিয়ায় ভুমিকা পালন করেন। এরা প্রার্থীদের এমন সব প্রশ্ন করেন যার উত্তরে তারা শুধু হ্যাঁ বা না জাতীয় উত্তর প্রত্যাশা করেন। আর সেই উত্তরের ভিত্তিতেই কোনো চাকরিপ্রার্থীকে ইন্টারভিউর পরবর্তী রাউন্ডে সুযোগ দেওয়া হবে কিনা সে সিদ্ধান্ত নেন।

আপনিও আপনার কর্মজীবনের কোনো না কোনো সময় এই ধরনের ইন্টারভিউ গ্রহণকারীদের মুখোমুখি হবেন। সুতরাং তাদের মুখোমুখি হওয়ার জন্য আগেভাগেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখাটা গুরুত্বপূর্ণ।

আপনারও হয়তো এমন গতানুগতিক নতুন সহস্রাব্দ ধরনের কর্মজীবনের ইতিহাস থাকতে পারে। যেখানে আপনি ৯ মাস থেকে শুরু করে তিন বছর মেয়াদি কয়েকটি চাকরি করেছেন। সুতরাং আপনিও এই প্রশ্নের মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত হয়ে থাকুন- ‘আপনি কেন এত ঘনঘন চাকরি বদল করেছেন?’

কোনো ইন্টারভিউকারী যদি বর্তমান দ্রুত পরিবর্তনশীল চাকরির বাজার সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না রাখেন তাহলে তিনি হয়তো আপনার জীবন বৃত্তান্তে কেন এত স্বল্পকালীন চাকরি রয়েছে তা বুঝতে পারবেন না।

আর বাস্তব সত্যটি হলো সব চাকরিই এখন স্বল্পকালীন চাকরি হয়ে উঠছে। কর্মজীবিরা এই বিবর্তনের জন্য প্রস্তুত থাকুক বা না থাকুক তাতে কিছুই যায় আসে না!

তবে আবার এমন নয় যে, লোকে শুধু স্বেচ্ছায়ই চাকরি বদল করেন। বরং অনেক সময় চাকরিতে নিয়োগকর্তারাই এমন সব ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নেন যে তাদের কম্পানির পুরো একটি বিভাগ কর্মহীন হয়ে পড়ে। বিপরীতে অনেক সময় আবার কিছু কিছু পদ এমনভাবে বিলুপ্ত বা পরিবর্তন করা হয় যে সেগুলো আর উপযোগী থাকে না।

অনেক সময় অন্য কোনো কম্পানিতে আরো ভালো সুযোগ-সুবিধা পেয়ে লোকে চাকরি বদল করেন। অনেকে আবার ভালো কোনো বসের সঙ্গে কাজ করার জন্য চাকরি বদল করেন। এছাড়া আমাদের ব্যক্তিগত জীবনের নানা ঘটনা বা উপাদান আমাদেরকে চাকির বদল করতে বাধ্য করে। ফলে এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়।

কিন্তু এমন প্রশ্নের উত্তরে যদি আপনি আপনার ঘনঘন চাকরি বদলের পেছনের সব কারণ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন তাহলে আপসি নিয়োগদাতাদেরকে সন্তুষ্ট করতে পারবেন না। আপনি হয়ত আপনার চাকরি বদলের পেছনে যথেষ্ট যৌক্তিক কারণ রয়েছে বলে ব্যাখ্যা করে বললেন। এবং বাস্তবেও আসলে তাই সত্য। কিন্তু ইন্টারভিউ গ্রহণকারীরা এতে বিরক্তই হবেন শুধু।

এরচেয়ে বরং এই প্রশ্নের উত্তরে আরো উচ্চতর কোনো মনোভঙ্গি অবলম্বন করুন।

আপনি বলতে পারেন- বিষয়টি আসলে একুট কৌতুকপ্রদই বটে। আমি কখনোই মাত্র কয়েকবছরে এতো বেশি সংখ্যক কম্পানিতে কাজ করার ভাবিনি। তবে এটা আমারা জীবনের এক অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতাও বটে। এখন আমি জানি কী করে কোনো নতুন পরিস্থিতিতে নিজেকে খাপ খাওয়াতে হয়। আর আমি এও জানি কী করে ভিন্নতাও আনতে হয়। আমার ধারণা আমার জীবনে হয়তো এমনটা ঘটাই স্বাভাবিক ছিল। আর এর মধ্য দিয়ে আমি যে শিক্ষা অর্জন করেছি তাকে আমি মূল্যবানই মনে করি।

ঘনঘন চাকরি বদলের জন্য দয়া করে আমাকে ঘৃণা করবেন না এই জাতীয় ম্যাড়ম্যাড়ে উত্তর আপনাকে সহয়তা না করে বরং নতুন চাকরি পেতে ব্যর্থ করবে।

এর পরিবর্তে যদি আপনি আত্মবিশ্বাসী উত্তর দেন তাহলে ইন্টারভিউ গ্রহণকারী আপনাকে আপনার কর্মজীবনের বাঁকগুলো সম্পর্কে আরো প্রশ্ন জিজ্ঞেস করবেন।

এরপর সেসবের পরিপ্রেক্ষিতে আপনি যে চাকরির জন্য ইন্টারভিউ দিতে এসেছেন সে চাকরি সম্পর্কেও পশ্ন করবেন।

সূত্র : ফোবর্স






মন্তব্য চালু নেই