মেইন ম্যেনু

এনফিল্ডকে টক্কর দেবে মহিলা ইঞ্জিনিয়রদের হাতে তৈরি ডমিনার ৪০০

বজাজ অটো সম্প্রতি এদেশে লঞ্চ করেছে নতুন ডমিনার ৪০০। ডিস্ক ব্রেক ভার্সনের দাম ভারতীয় মুদ্রায় ১.৩৬ লক্ষ এবং এবিএস ভার্সনের দাম ১.৫০ লক্ষ টাকা। এই মুহূর্তে বজাজ অটো ব্র্যান্ডের সবচেয়ে শক্তিশালী বাইক হিসেবেই প্রচালর করা হচ্ছে এই প্রিমিয়াম বাইকটিকে। খুব স্বাভাবিকভাবেই নতুন এই বাইকটির সঙ্গে তুলনা টানা হচ্ছে রয়্যাল এনফিল্ড, কেটিএম ২০০/ ৩৯০ ডিউক, নতুন মাহিন্দ্রা মোজো এবং সদ্য নতুন রূপে আপডেট হওয়া হন্ডা সিবিআর২৫০আর। যাঁরা সাধ্যের মধ্যে একটা ভাল পারফরম্যান্স ট্যুরার চাইছেন, তাঁদের কাছে এই বাইকটির লঞ্চ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

কিন্তু এর সঙ্গে আরও একটি বিষয় জড়িয়ে রয়েছে, যা এদেশের অটোমোবাইল সেক্টরে একেবারেই অভিনব বলা যায়। নতুন এই বাইকটির অ্যাসেম্বলি লাইন ছিল শুধুমাত্র মহিলা ইঞ্জিনিয়রদের নিয়ে তৈরি। অর্থাৎ এই বাইকের ফাইনাল অ্যাসেম্বলিং করেছেন মহিলা ইঞ্জিনিয়ররা। কোম্পানির এই উদ্যোগ প্রশংসনীয় তো বটেই।

অনেকে বলছেন অবশ্য যে, এটা পাবলিসিটি স্টান্ট। কিন্তু রাইডিং যাঁদের প্যাশন, তাঁদের কাছে এই বিষয়গুলি খুব একটা গুরুত্ব পায় না। আসল কথা হল বাইকের পারফরম্যান্স, তার পাওয়ার এবং অন্যান্য সুযোগসুবিধা।

২০১৪ সালের অটো এক্সপো-তে আমরা এই নতুন বাইকটি দেখেছিলাম একটু অন্যভাবে। সেবারের অটো এক্সপো-তে বজাজ পালসার সিএস৪০০ নামে যে ডিজাইনটি শোকেস করা হয়েছিল, তারই মডিফায়েড ভার্সন হল নতুন ডমিনার ৪০০। পালসারের নতুন মডেল হিসেবেই বাইকটি লঞ্চ করার কথা ভেবেছিল

বজাজ, কিন্তু পরে মত পাল্টায়। ফাইনাল ভার্সনের নাম কী হবে, সেই নিয়ে খানিকটা ধন্দেও ছিল কোম্পানি। ভিএস৪০০, ক্রাটোস ৪০০, এমন অনেকগুলি নাম পরিবর্তন হয়েই শেষমেশ ‘ডমিনার’ নামটিই চূড়ান্ত করা হয়।

‘ডমিনার’ নামটির উৎপত্তি স্পেনীয়। বাংলায় এই শব্দের অর্থ দাঁড়ায় অতুলনীয় শক্তি বা শক্তির দিক থেকে অভূতপূর্বভাবে এগিয়ে থাকা। ঠিক এইভাবেই বজাজ তাদের নতুন স্পোর্টস ক্রুইজার বাইকটিকে দেখতে চায় এবং অবশ্যই দেখাতেও চায়। উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন স্পোর্টসবাইকে যাঁরা ভাল কমফর্টও আশা করেন, তাঁদের কথা মাথায় রেখেই বাইকটি ডিজাইন করা। পালসার এবং অ্যাভেঞ্জারের মতোই বজাজ অটো-তে একটি সম্পূর্ণ নতুন সিরিজের সূচনা করল এই বাইক।

এতদিন বজাজ যতগুলি বাইক লঞ্চ করেছে, তার মধ্যে ডিজাইন ও লুকসের দিক থেকে সেরা বলা যায় ডমিনার ৪০০-কে। বজাজের এটি প্রথম মডেল যেখানে ফুল এলইডি হেডলাইটস রাখা হয়েছে। এমনকী, এই প্রথম বজাজ-এর কোনও বাইকে ডিজিটাল এলসিডি ইনস্ট্রুমেন্ট ক্লাস্টার ব্যবহার করা হল। ২০১৪ সালের অটো এক্সপো-তে শোকেস করা কনসেপ্ট ভার্সনে এই ক্লাস্টার ইউনিটটি যেমনটা দেখা গিয়েছিল, তার চেয়ে একটু আলাদা নতুন এই বাইকে। ট্যাকোমিটার, ওডোমিটার, স্পিডোমিটার, ফুয়েল গজ, ক্লক, এবিএস ইন্ডিকেটর— রাইডাররা এই সব তথ্য পেয়ে যাবেন এই ক্লাস্টারে।

এবছরের এপ্রিল মাস থেকে দেশে টু হুইলার সেফটি প্রোটোকলে বেশ কিছু বদল আসতে চলেছে। অনেক নতুন বিষয় সংযোজন করা হয়েছে। নতুন সেফটি প্রোটোকলটি অক্ষরে অক্ষরে মেনেই ডিজাইন করা হয়েছে ডমিনার ৪০০। অটোমেটিক হেডল্যাম্প, ডুয়াল চ্যানেল অ্যান্টি-লক ব্রেকিং সিস্টেম ছাড়াও এই বাইকে রয়েছে বিএস ফোর।

এবার আসা যাক এই বাইকের পাওয়ার অ্যাসপেক্টের প্রসঙ্গে। কেটিএম ডিউক ৩৯০ ইঞ্জিন আর ডমিনার ৪০০ ইঞ্জিনের মধ্যে একটাই পার্থক্য এবং তা হল এফিসিয়েন্সির। কেটিএম ৩৯০ ইঞ্জিনের ব্রেক হর্সপাওয়ার ৪৩ কিন্তু ডমিনার ৪০০-র ব্রেক হর্সপাওয়ার ৩৫। তাই নতুন ডমিনারের লিনিয়র পাওয়ার ডেলিভারি অনেকটাই ভাল ডিউক ৩৯০-র তুলনায়। ডমিনারের ইঞ্জিনটি এমনভাবেই রিটিউন করা হয়েছে। ট্যুরিংয়ের জন্য তাই এই বাইকটি অত্যন্ত ভাল। তা বাদ দিয়ে ডমিনার ৪০০-এ রয়েছে টেলিস্কোপিক ফ্রন্ট ফর্ক এবং মোনোশক সাসপেনশন সেটআপ। এছাড়া বাইকটির সামনে ও পিছনে রয়েছে ডুয়াল চ্যানেল এবিএস-সহ উচ্চশক্তিসম্পন্ন ডিস্ক ব্রেক।

এই স্পেকস পড়েই অভিজ্ঞ রাইডাররা আন্দাজ করতে পারেন ঠিক কেমন হবে ডমিনার ৪০০ রাইডিংয়ের অভিজ্ঞতা। অ্যাডভান্স বুকিং শুরু হয়েছিল গত মাস থেকেই আর এই মাস থেকে ডেলিভারিও শুরু হয়ে যাওয়ার কথা। অনলাইনেও বুক করা যাবে এই বাইক। কিছুদিনের মধ্যেই বজাজ-এর বড় ডিলার আউটলেটগুলিতে টেস্ট রাইডের সুবিধাও পাওয়া যাবে। ভারতীয় রাইডারদের একটা বিরাট অংশ এনফিল্ড-ভক্ত। নতুন ডমিনার যেভাবে তৈরি হয়েছে তাতে এনফিলন্ডকে টক্কর দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। কিন্তু নতুন প্রজন্মের এই স্পোর্টস ট্যুরার কি পারবে এনফিল্ডকে টপকে যেতে? সেটা অবশ্য সময়ই বলবে। -এবেলা।






মন্তব্য চালু নেই