মেইন ম্যেনু

এবার খোদ রাজধানীর স্কুলেই চলছে কোমলমতি শিশু নির্যাতন

যে শিশুদের আদরে আল্লাদে পড়াশোনা করার কথা, তাদেরই নিজেদের কান নিজে ধরতে বাধ্য করে শাস্তি দিচ্ছেন শিক্ষক। ঘটনা খুব বেশি দূরের নয়। রাজধানীর মিরপুরের সেক্টর ১১, সানমুন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ছোট বাচ্চাদের উপর চলছে এমন নির্যাতন।

কেনো এমন শাস্তি জানতে চাইলে স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল আবুল বাশার বলেন, গায়ে আর মারা যায় না তাই এমন করে ভয় দেখানো। এতে শিক্ষার্থীরাও মজা পায় বলে দাবি তার।

সরেজমিনে মিরপুরের বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা গেছে, পল্লবীর ১১ নম্বর সেক্টরের একটি বাড়ির নীচ তলায় চলছে স্কুলটি। প্রবেশপথে সাইনবোর্ডটি বিশাল হলেও ভেতরে ঢুকে দেখা যায় ঘিঞ্জি এক পরিবেশে চলছে বাচ্চার পাঠদান।

স্কুলের প্রতিষ্ঠাতার স্ত্রী নিলুফার ইয়াসমীন লাকি তখন কয়েকজন বাচ্চাকে পড়াচ্ছিলেন। প্রিন্সিপালের খোঁজ করলে যা বলার তাকেই বলতে বলেন তিনি।

এমন শাস্তির ব্যবস্থা কেনো জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাচ্চাদের কৌশলে হলেও পড়ানো লাগে। সেক্ষেত্রে মাঝে মাঝে এমনভাবে ভয় দেখালে বাচ্চারা দুষ্টুমি না করে পড়াশোনায় মনোযোগী হয়।

তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসা কানধরা শিশুদের ছবি দেখানোর পর তিনি বলেন, কেউ আমাদের সাথে শত্রুতা করে এমন ছবি তুলেছে।

কিছুক্ষণ পর প্রিন্সিপাল আবুল বাশারের দেখা মিললে তিনি বলেন, অভিভাবকরা আমাদের বলেন যে আমরা বাচ্চাদের শাসন করি না। বাচ্চাদের শাসন না করলেতো তারা কথা শুনবে না। তাই অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করেই এমন শাস্তির ব্যবস্থা।

‘এমন কাজ আর করা হবে না,’ বলে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

আবাসিক বাসায় বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় বাধা থাকলেও তা যে মানা হয়নি সে বিষয়ে প্রিন্সিপাল বলেন, খুব ছোট পরিসরে করেছি। চার রুমের মধ্যে দুইটা আমাদের থাকার কাজে ব্যবহার করি।

সেসময় তার স্ত্রী এবং শিক্ষিকা নিলুফার ইয়াসমীন লাকি বলেন, এটা কমিশনারের শ্বশুরের বাসা; অন্যরাও করেছে, আমরাও করেছি।

২০১০ সালে সানমুন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। প্লে গ্রুপ থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ১০০। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলে পাঠদান।






মন্তব্য চালু নেই