মেইন ম্যেনু

এবার গ্যালারিতেই থাকছেন মুস্তাফিজের মা-বাবা

আদরের ছোট ছেলেটি লেখাপড়ায় ভাল করবে; ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার হবে। মুস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে এমন প্রত্যাশাই ছিল তার মা-বাবার। কিন্তু ক্রিকেটের প্রেমে পড়া মুস্তাফিজ শেষ অবধি ক্রিকেটারই হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের প্রথম দুই ওয়ানডেতেই বিস্ময় আর রেকর্ডের জন্ম দিয়ে সে এখন বাংলাদেশের জাতীয় হিরো। আর তাই তো মুস্তাফিজের মা-বাবা ও পরিবারের সদস্যরা ভুলে গেছেন সব দুঃখ। এখন কেবলই আনন্দ তাদের চারদিকে। আর সেই আনন্দ আরও বেশি উপভোগ করতে এবার মিরপুরের শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের গ্যালারিতেই হাজির হচ্ছেন তারা।

বুধবার সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে মুখোমুখি হচ্ছে অতিথি ভারত ও স্বাগতিক বাংলাদেশ। গ্যালারিতে থেকে এই ম্যাচ উপভোগ করতে চান বাংলাদেশের ক্রিকেটের নতুন নক্ষত্র মুস্তাফিজের পরিবারের সদস্যরা। মঙ্গলবার দুপরে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রাম থেকে খুলানায় এসেছেন মুস্তাফিজুরের পিতা আলহাজ আবুল কাশেম গাজী। মহানগরী খুলনার সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার দ্বিতীয় ফেইজের ৬নং রোডের ৪২৭নং বাড়িতে মুস্তাফিজের বড় ভাইয়ের বাসায় আগে থেকেই ছিলেন তার মা মাহমুদা খাতুন।

গ্রামীণফোনের চাকরিজীবী মুস্তাফিজের বড় ভাই মাহফুজুর রহমান মিঠু জানিয়েছেন, বুধবার শেষ ম্যাচে পরিবারের সকলেই মিরপুরের মাঠে বসে খেলা দেখবে। এরই মধ্যে টিকিট নিশ্চিত হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। মিঠু বলেছেন, ‘মা-বাবাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরাও খেলা দেখবেন।’

বড় ভাই মিঠু জানিয়েছেন, সিরিজের গত দুটি ম্যাচ মা মাহমুদা খাতুন তার বাসায় বসে দেখেছেন। তাদের পিতা আলহাজ আবুল কাশেম গাজী গ্রামের বাড়িতে খেলা দেখেছেন। ৪ ভাই ও দুই বোনের মধ্যে মুস্তাফিজুর সকলের ছোট। তার অপর তিন ভাইও স্থানীয়ভাবে ভাল ক্রিকেটার, যে কারণে ভাইদের দেখে সে ক্রিকেটের প্রতি আরও বেশি আগ্রহী হয়েছে।

মুস্তাফিজুরের মা বলেছেন, ‘ছেলের এই খেলায় আমি খুশি। ছেলে আরও ভাল করুক ও দেশ জয় পাক এই কামনা করি।’ তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। প্রথম ম্যাচে ভারতীয় দলের অধিনায়ক ধোনির ধাক্কা খেয়ে বাইরে চলে যাওয়ার পর মুস্তাফিজের মাসহ পরিবারের সদস্যরা চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন এই ভেবে যে, না জানি বড় ধরনের কোনো ইনজুরিতে পড়ে যান মুস্তাফিজ। কিন্তু পরে সে ফিরে আসায় এবং পর পর দুই ম্যাচে তার সাফল্য আর বিশ্বরেকর্ডে গোটা পরিবারই এখন খুশি।

মুস্তাফিজের ভাবী ডা. তানিয়া সুলতানা বলেছেন, ‘মুস্তাফিজ এখন শুধু আমাদের পরিবারের গর্ব নয়, সে দেশের গর্ব।’ শেষ ম্যাচেও বাংলাদেশ জয় পাবে এমন কামনাই করেছেন তিনি।

মুস্তাফিজুরের পিতা বলেছেন, ‘মুস্তাফিজ এখন শুধু আমার ছেলে নয়, সে ১৬ কোটি মানুষের ছেলে। সে আরও ভাল করুক এমন কামনা করি।’






মন্তব্য চালু নেই