মেইন ম্যেনু

এবার চুরির অভিযোগে এক ছাত্রীকে বেধড়ক পেটালো প্রধান শিক্ষিকা

শিক্ষিকার টাকা চুরির অভিযোগে এবার বিথি নামেন তৃতীয় শ্রেণীর এক ছাত্রীকে বেধড়ক পিটিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা। আহত ছাত্রীকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে গত ১০ আগস্ট নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। নির্যাতনের শিকার বিথি খাতুন উপজেলার কালিকাপুর নতুন বাজার এলাকার জাহাঙ্গীর হোসেন ও আজিদা বেগমের মেয়ে।

ঘটনার বিচার দাবি করে বিথির মা-বাবা অভিযোগ করেছেন, নির্যাতনকারী কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা আজেমা খাতুন শিউলী বনপাড়া পৌরসভার মেয়র জাকির হোসেনের আপন বোন। তার পরিবার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকায় বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চলছে।

স্থানীয়রা জানায়, গত ১০ আগস্ট বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সাহেরা খাতুনের ব্যাগ থেকে ৮শ টাকা চুরি হয়। এ চুরির অভিযোগে বিথিকে বেধড়ক পেটায় শিক্ষিকা আজেমা খাতুন শিউলী। বিথি নিজেকে বার বার নির্দোষ দাবি করার পরেও চলে নির্যাতন। এক পর্যায়ে বিথির ডান হাতে গুরুতর আঘাত লাগে।

সন্ধ্যায় পরিবারের লোকজন বিথিকে মারপিটের বিষয়টি টের পেয়ে তাকে স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি নিয়ে আসে। কিন্তু অবস্থার অবনতি হলে মঙ্গলবার রাতে ও বুধবার সকালে তাকে বনপাড়ায় পাটোয়ারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়।

নির্যাতিতা ছাত্রীর মা আজিদা বেগম জানান, ১০ আগস্ট দুপুরে বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষিকা দুপুরের খাবার খেয়ে তাদের টিফিন বাটি বিথিসহ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে দিয়ে পরিষ্কার করায়। পরদিন ১১ আগস্ট বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সাহেরা খাতুনের ব্যাগ থেকে ৮শ টাকা চুরি হয়। এ অভিযোগে বিথিকে পেটান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা। এতে তার ডান হাত ও শরীরের অপ্রদর্শিত স্থানে গুরুতর জখম হয়।

নির্যাতিত বিথি জানায়, টাকা চুরির অভিযোগ অস্বীকার করলে তাকে চালপড়া আর পানিপড়া খাওয়ানো হয়। এরপরও চুরির অভিযোগ অস্বীকার করলে পরীক্ষা চলা অবস্থায় তাকে বেঞ্চ থেকে তুলে বেত দিয়ে পেটান শিক্ষিকা শিউলী। মারার সময়ও সে চুরি করেনি- এমন কথা বললে নির্যাতনের মাত্রা বাড়ানো হয়।

বিথি আরো জানায়, চুরির অভিযোগ আনায় লজ্জায় বিষয়টি পরিবারের কাছে জানাতে পারেনি।

বিথির বাবা জাহাঙ্গীর জানান, ওইদিন সন্ধ্যায় বিথিকে ব্যথায় কাতরাতে দেখে স্থানীয় পাটোয়ারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা শেষে বাসায় নেয়া হয়। কিন্তু অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় বুধবার সকালে ফের তাকে ওই হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। চিকিৎসা শেষে দুপুরের পর বিথিকে আবারো বাড়িতে নেয়া হয়। তিনি এ ঘটনার বিচার দাবি করেন।

বুধবার পাটোয়ারি জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, বিথি ও তার পরিবারের লোকজনকে পাহারা দিতে দেখা গেছে অভিযুক্ত শিক্ষিকার ছোট ভাই জিন্নাসহ আওয়ামী লীগের কর্মীদের। বিথি ও তার পরিবারের লোকজন যেন সাংবাদিকদের কাছে ঘেঁষতে না পারে এমন প্রচেষ্টা দেখা গেছে তাদের মধ্যে। তাছাড়া বিথিদের বাড়ির পাশেও তাদের ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষিকা আজেমা খাতুন শিউলী বলেন, ‘ওই ছাত্রীকে ২/১টা বাড়ি দিয়েছি মাত্র। তবে বিথির পরিবারের সঙ্গে বসে বিষয়টি আপোষ করে নিব।’

এ ব্যাপারে বিথির চিকিৎসা প্রদানকারী ডা. সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী জানান, মেয়েটির হাতে ও অপ্রদর্শিত স্থানে জখম রয়েছে।

নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুনশী শাহাবুদ্দিন জানান, ঘটনাটি জানার পর বুধবার সকালে বিদ্যালয়ে ফোর্স পাঠানো হয়েছিলো। দুপুর পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ব্যাপারে নাটোরের জেলা প্রশাসক মশিউর রহমান জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নাটোরের সহকারী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রণতোষ কুমার সেন বলেন, উচ্চ আদালতের নিষেধ সত্ত্বেও ছাত্রীকে পিটিয়ে আইন অমান্য করেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা আজেমা খাতুন শিউলী। বড়াইগ্রাম উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোবাইলে বিষয়টি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবগত করেছেন। এ ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য বড়াইগ্রাম উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে শিক্ষা অফিসের পক্ষ থেকে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।






মন্তব্য চালু নেই