মেইন ম্যেনু

এবার ফেসবুকে পরীমনির কথিত প্রথম বিয়ের কাবিননামা ও তালাকনামা

ঢালিউডের এই সময়ের আলোচিত নায়িকা পরীমনির কথিত প্রথম বিয়ের কাবিননামা ও তালাকনামা ফাঁস হলো। আলো অন্ধকার নামে একটি ফেসবুক পেজে আজ প্রকাশ করা হয় পরীর প্রথম স্বামীর সঙ্গে আরও কিছু নতুন ছবি এবং বিয়ের কাবিননামা এবং তালাকনামা।

ঢালিউডে অল্প সময়ে বেশ আলোচনায় রয়েছেন পরীমনি। একসঙ্গে অনেক ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার রেকর্ডও তার কাছে। কিন্তু গুঞ্জন আর গসিপ যেন তার পিছু ছাড়ছে না। বেশ কদিন ধরেই গুঞ্জনের ঢালিতে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন পালক। গত ৩১ জানুয়ারি সকালে অনিক আব্রাহাম নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে ‘পরীমনি’র কিছু ছবি শেয়ার করা হয়। অনিক দাবি করেন, পরী তার বন্ধু ইসমাইলের স্ত্রী। তার কিছুদিন পরেই ফেসবুকে পাওয়া যায় পরীমনির কথিত বিয়ের কাবিননামা এবং নতুন কথিত বরের সঙ্গে কিছু ঘনিষ্ঠ ছবি। কিন্তু সময় যেতে না যেতেই ফেসবুকে পাওয়া যায় পরীর আরও একজন কথিত স্বামীর সন্ধান। শাকিল রিয়াজ নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে প্রকাশ করা হয়, পরীর নতুন বরের ছবি ও কাবিননামা। জানা গিয়েছিল, পরীমনির কথিত দ্বিতীয় স্বামীর নাম সৌরভ কবীর।

আলো অন্ধকার নামে একটি ফেসবুক পেজে পরীমনির কথিত প্রথম বিয়ের কাবিননামা এবং তালাকনামার ছবি প্রকাশ করে বিভিন্ন তথ্য জানানো হয়। তাতে উল্লেখ করা হয় যে, ইসমাইল ও পরীমনির বিয়ের কাজি ছিলেন পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার ভগীরথপুরের কাজি আবুল বাশার। নিকাহনামা ফরম নম্বর- ১৬০১, বিয়ের রেজিস্ট্রি তারিখ: ২৪.৪.০৯ ইং, দেনমোহর: ৫ লক্ষ টাকা মাত্র। বিবাহের সাক্ষী: ১. মো. কবির হোসেন, পিতা: আ: হাশেম, ঠিকানা: ভগীরথপুর, মঠবাড়িয়া, পিরোজপুর। ২. মো. এনামুল কবীর, পিতা: আ: রাজ্জাক, ঠিকানা: ভগীরথপুর, মঠবাড়িয়া, পিরোজপুর। তালাকের তারিখ: ২০.৪.১২, তালাকের রেজিস্ট্রি তারিখ: ১.৮.১২। সাক্ষী: আবুল হাশেম ও কাওছার গাজী। ঠিকানা: সিংহখালী, ভান্ডারিয়া, পিরোজপুর।

ঐ ফেসবুক স্ট্যাটাসে পরীমনি সম্পর্কে আরো লেখা হয়,‘শামসুন্নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমনি। ৩ বছর বয়সেই তার মা মারা যান। বাবা মনিরুল ইসলাম মেয়েকে রেখে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। পরীমনি পিরোজপুরে খালা এবং নানার বাড়িতে বড় হয়। সেখান থেকে পরিচয় ইসমাইলের সাথে। পরী যখন ক্লাশ সিক্সে তখন থেকেই একে অন্যের পরিচয় ও প্রেমের শুরু। নাইনে প্রেম তুঙ্গে। তারপর চলে ৭ বছরের বাধভাঙা প্রেম। অত:পর দুজন দুজনকে বিয়ে করতে চায়। মেয়ের মা-বাবা না থাকায় রাজি হয় না ইসমাইলের পরিবার। ইসমাইলের বাবা একটি সরকারি ব্যাংকের প্রিন্সিপ্যাল অফিসার। মা একজন সরকারি চাকুরীজীবী। তারা স্বাভাবিকভাবে প্রত্যাশা করে একটি শিক্ষিত, ভদ্র, রুচিশীল এবং সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়ে তার ছেলের জন্য বউ হয়ে আসবে। তবে, হালছাড়ার পাত্র নয় ইসমাইল। ৭ বছরের প্রেমতো এভাবে বিলীন হয়ে যেতে পারে না। ইসমাইল তার নিজের পরিবারকে ম্যানেজের জন্য সবধরনের চেষ্টা করে। অবশেষে, অনেক আকুতি মিনতির পর ইসমাইলের পরিবার ছেলের আবেগের মূল্য দেয়। মা মারা যাওয়া, নিরুদ্দেশ থাকা বাবার মেয়ে পরীমনিকে ভালবাসার বাঁধনে বাঁধে ইসমাইল। ভালবাসায় ভুলিয়ে দেয় পরীমনির কষ্টের শৈশব। জীবনকে জীবনের মতো করে ভাবতে শিখে পরীমনি। আশৈশব দেখা সাদা স্বপ্নগুলো রঙিন স্বপ্নে রূপ নেয়। ইসমাইলও ভালবাসার মানুষটির জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে থাকে। স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগে তৃতীয় সেমিস্টারের ফাইনাল পরীক্ষার ফি ৫০ হাজার টাকা খরচ করে পরীমনির জন্য। ইসমাইলের পরিবার সে খবর জানার পর বন্ধ করে দেয় তার পড়ালেখা। তারপর ভর্তি হতে হয় ভোলা সরকারি কলেজে। পরীমনিরও পড়ালেখা চালিয়ে নেয় ইসমাইল। বাবার চাকরীর সুবাদে বাস করেন ভোলা শহরে। সাড়ে ৩ বছর বেশ সুখেই কাটে ইসমাইল- পরীমনির খুনসুঁটিময় দাম্পত্যজীবন। এই সুখের জীবনে কাল হয়ে আসে পরীমনির নানা। এর মধ্যে পরীমনির বাবা মেয়েকে বিয়ের পর দেখতে এসেছিল। তবে তিনি বেশিদিন বাঁচেননি। কোন এক প্রতিপক্ষের হাতে নিহত হন তিনি। নানা শামসুল হক গাজী অভাবী ও খুব লোভী প্রকৃতির মানুষ। নাতি জামাই ইসমাইলের কাছ থেকে প্রায় টাকা নিতেন তিনি। একবার ৫০ হাজার টাকা চাইলে ইসমাইল দিতে অপরাগতা জানায়। তাতেই ক্ষিপ্ত হয় নানা। তারপর নানা বেছে নেন অন্যপথ। নাতির সৌন্দর্য্যকে কাজে লাগিয়ে রাতারাতি বাড়ি গাড়ির মালিক হবার স্বপ্ন দেখেন তিনি।

নানাই মিডিয়ার বিভিন্ন পরিচালকদের সাথে যোগাযোগ করেন। পরীমনিরও ছোটবেলা থেকে নাচ-গান করার ঝোঁক। নানার প্ররোচণায় পরীমনিও পুরোদমে নায়িকা হবার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। একের এক চাপ দেয় ইসমাইলকে। ইসমাইল নিজের স্ত্রীকে মিডিয়ায় দিতে রাজি হয় না। আর ইসমাইলের পরিবার শিক্ষিত, রুচিশীল ও ধার্মিক হওয়ায় পুত্রবধূকে বর্তমান অসুস্থ ধারার এই সিনেমার জগতে দেখতে রাজি হয় না। তারপরও পরীমনি ঝামেলা করতে থাকে। দিন দিন দাম্পত্যকলহ বাড়তেই থাকে। শেষ পর্যন্ত পরীমনিকে প্রথমে ঢাকায় তারপর রংপুর, কুয়াকাটা এবং কক্সবাজারে নিয়ে ১ মাস বেড়ায় ইসমাইল। বিভিন্নভাবে পরীমনিকে সিনেমা জগতে ঢোকার ভূত নামানোর চেষ্টা করে। কিন্তু সফল হয় না। জীবনের প্রথমবার ঢাকায় যাওয়ার পর সেই ভূত আরও চেপে বসে পরীর মনে। বাধ্য হয়ে ইসমাইল অল্পবিস্তর পরিচিত কয়েকজন নাট্যকারের কাছে পরীমনিকে নিয়ে যায়। বেইলি রোড, নাটক পাড়া ও আজিজ মার্কেটে যোগাযোগ করে। অবশ্য এটা ছিল পরীকে সান্ত্বনা দেয়া। যদিও ইসমাইল জানে সে কখনও তার স্ত্রীকে এই জগতে দিবে না।’

এ বিষয়ে পরীমনির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আপনি বলেন শুটিং করবো না এসব করবো? আমার সত্যি এত টাইম নাই। যা মন চায় হতে থাকুক। আমি আমার কাজ করছি। একবার তো এরকম কাবিন প্রকাশ হলো। এখন যদি এরকম আরো ১০০টি বের হয় আমার প্রতিক্রিয়া কিন্তু একই হবে।’প্রিয়ডটকম






মন্তব্য চালু নেই