মেইন ম্যেনু

এবার ‘মাদকাসক্ত’ চিকিৎসককে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা

সরকার দুলাল মাহবুব, রাজশাহী থেকে : চিকিৎসার নামে সাধারণ রোগিদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে অবশেষে রাজশাহীর মেডিসন ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের ‘মাদকাসক্ত’ চিকিৎসক এএসএম কামরুল হুদাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমান আদালত। এর আগে সোমবার বিকেলে মেডিসন ডায়াগনষ্টিক থেকেই তাকে আটক করা হয়। পরে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে জরিমানা করেন।

অতিরিক্ত ফি আদায়সহ নানা অনিয়মের অভিযোগে মেডিসন ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে আরও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। জেলা প্রশাসন ও রাজশাহী মহানগর পুলিশ যৌথভাবে ওই অভিযান চালায়।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র ইফতেখায়ের আলম জানান, এমবিবিএস ডিগ্রিধারী হলেও ওই চিকিৎসক নিজেকে নার্ভ, ব্রেন ও লিভার বিশেষজ্ঞ বলে পরিচয় দিয়ে রোগি দেখে আসছিলেন। এছাড়া তিনি নিজেও একজন মাদকাসক্ত। এ জন্য তিনি অন্য একজন চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসাও নিচ্ছেন। তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কেউ না হওয়া স্বত্বেও তিনি তার প্যাডে ওই হাসপাতালের নাম লিখে রেখে রোগিদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন। ‘রোগি ধরা’ দালালের মাধ্যমে ওই চিকিৎসক রোগি এনে চিকিৎসার নামে তাদের সঙ্গে প্রতারণা চালিয়ে আসছিলেন। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত মেডিকেল প্রাকটিস এন্ড প্রাইভেট ক্লিনিক রেজি: ১৯৮২ এর ৭ ধারায় তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এ সময় তার ভিজিটিং কার্ড, ব্যানার ও ফেস্টুনসহ বিভিন্ন প্রচারপত্র জব্দ করে পুড়িয়ে দেয়া হয়।

অভিযানে ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নানা অনিয়ম ধারা পড়ে। মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন-২০১০ এর ২৯ ধারায় ডায়াগনস্টিক সেন্টারকেও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানে অভিযুক্তদের সর্তক করা হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে ডায়াগনষ্টিক সেন্টারটির সব অনিয়ম দূর করা না হলেও সেটি সিলগালা করে দেয়ারও ঘোষণা দেয়া হয়।

উল্লেখ্য ডা. এএসএম কামরুল হুদার কাছে প্রতারিত এক রোগির ভাই সম্প্রতি রাজশাহীর জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও রাজপাড়া থানা জোনের সহকারি কমিশনার (এসি) ইফতেখায়ের আলম অভিযোগের সত্যতা পান।

এরপর রোববার বিকেলে মেডিসন ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়ে ডা. এএসএম কামরুল হুদার দুই দালালকে আটক করে কারাদন্ড দেওয়া হয়। পরে সোমবার বিকেলে সেখানে আবারো অভিযান চালিয়ে ডা. কামরুল হুদাসহ ওই ডায়াগনষ্টিক সেন্টারকে জরিমানা করা হলো।






মন্তব্য চালু নেই