মেইন ম্যেনু

এবার রাজবাড়ীতে নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা গেছে এতিম শিশু

রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় নির্মম অত্যাচারের শিকার হয়ে মারা গেছে মিজু শেখ (১৫) নামে এক এতিম শিশু। কাঠের বাটাম দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে ও কিল ,ঘুষি মেরে, অন্ডকোষ ফাটিয়ে ১৫ দিন আগে মারাত্মকভাবে জখম করা হয় মিজুকে। অবশেষে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সে মারা যায়।

গত কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। এবার তারসঙ্গে যুক্ত হলো রাজবাড়ী জেলার নাম।

নিহত মিজু রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের রামকোল গ্রামের মৃত.মুসা শেখের ছেলে।

জানা গেছে ,পাংশা উপজেলার মাছপাড়া ইউনিয়নের নেভা এনায়েতপুর গ্রামের আফতাব এর ছেলে আজাদ এর বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতো মিজু শেখ। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ১৪/১৫ দিন আগে মিজুকে নির্মম ভাবে পিটিয়ে মারাত্মক ভাবে জখম করে আজাদ ও জয়নাল হাজারী । অসুস্থ মিজুকে কোন চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে তাকে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়।

অবস্থার মারাত্মক অবনতি হলে ঘটনার ১৪/১৫ দিন পর প্রায় মৃত অবস্থায় বৃহস্পতিবার (৬ আগষ্ট) রাত পৌনে ৮টায় তাকে (মিজু) কে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। একই দিন দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, শুক্রবার (৭ আগষ্ট) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মিজুর লাশ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সাধারণ রোগীদের সাথে বিছানাতেই রেখে দেওয়া হয়। এতে ভর্তি থাকা রোগীরা পড়েন মানসিক বিড়ম্বনায়।

মিজুর নানী জবেদা বেগম (৪৮) জানান,মিজুর বাবা মা দুজনই মৃত সে একজন এতিম সন্তান। মিজুর বয়স ১৫ বছর কিন্তু অজানা কারনে হাসপাতালে ভর্তির খাতায় মিজুর বয়স লেখা হয়েছে ২০ বছর। মিজু গত রোজায় আজাদের বাড়িতে কাজ নেয়।ঐখানেই মিজুকে ওরা অত্যাচার করেছে।মিজুকে যারা নির্মমভাবে হত্যা করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

কমপ্লেক্সে ভর্তি থাকা রোগী আব্দুর রশীদ জানান, বৃহস্পতিবার রাতে মিজুকে ভর্তি করা হয়।রাতেই তার মৃত্যু ঘটে।মিজুর শরীরে বিভিন্ন আঘাতের চিহ্ন দেখে তাদের মনে অনেক কষ্টের সৃষ্টি হয়েছে।তিনি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান।

মহিলা ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা ফরিদা বেগম জানান,মিজু ছেলেটা বৃহস্পতিবার রাতে মারা গেলেও শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত তার লাশ পুরুষ ওয়াডের বেডে পড়ে ছিল।

পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আর এম ও) ডা. এ এফ এম সফিউদ্দিন জানান, মিজু নামের রোগীকে হাসপাতালে যখন নিয়ে আসা হয় তখন তার শরীরের নিচের অংশের মাংসে গ্যাগরীন হয়ে গিয়েছিলো। মিজুর অন্ডকোষ প্রচন্ড আঘাতের মাধ্যমে ফাটিয়ে দেয়া হয়েছিলো।ধারণা করা হচ্ছে হাসপাতালে আনার ১৪/১৫ দিন আগেই মিজুকে পিটিয়ে অমানবিক ভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। তার উরুর বিভিন্ন স্থানে ক্ষত সৃস্টি হয়েছে। এতে সে সেপ্টিসিনিয়ায় আক্রান্ত হয় । এতেই তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

পাংশা থানার ওসি আবু শ্যামা মো. ইকবাল হায়াত ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান,লাশটি উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়না তদন্তের জন্য জেলা মর্গে পাঠানো হবে।






মন্তব্য চালু নেই