মেইন ম্যেনু

এবার স্কুলশিক্ষক সুমন্ত চন্দ্র রায়কে পেটালো আ.লীগ নেতারা

নারায়ণগঞ্জের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নীলফামারী সদরে ধর্মীয় শিক্ষক সুমন্ত চন্দ্র রায়কে (৪৬) পিটিয়ে আহত করেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা। তিনি পঞ্চপুকুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক।

শিক্ষক সুমন্ত রায় গণমাধ্যমকে জানান, ২১ মে রাত ১১টার দিকে পঞ্চপুকুর বাজার থেকে উত্তরাশশীতে নিজ বাড়িতে মোটরসাইকেলে ফিরছিলেন।

তিনি জানান, পথে মিলবাজারে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল হক প্রধান ও সাধারণ সম্পাদক আলী হোসেনের নেতৃত্বে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।

লাঠিসোঁটা ও ছুরির আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে এখন শহরের আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মধুসুধন রায় জানান, মারধরের পর শিক্ষক সুমন্ত অচেতন হয়ে পড়েন। পরে তাকে রাতেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এর আগে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।

নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক হাসানুর রহমান জানান, ভর্তি হওয়ার সময় শিক্ষক সুমন্ত চন্দ্র রায়ের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম ছিল।

তিনি বলেন, তার অবস্থার উন্নতি হয়েছে। কিন্তু মানসিকভাবে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় ভেঙে পড়েছেন তিনি।

পঞ্চপুকুর ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে শিক্ষক সুমন্ত রায় আমার পক্ষে নৌকা প্রতীকের হয়ে কাজ করেছিলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তাকে আক্রমণ করতে পারেন।

এদিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন পঞ্চপুকুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

প্রধান শিক্ষক বাবুল হোসেন বলেন, যেভাবে শিক্ষকরা নির্যাতিত হচ্ছেন, এভাবে চলতে থাকলে সমাজে মুখ দেখাতে পারব না। তিনি জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টায় লিপ্ত যারা তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট মমতাজুল হক।

তিনি জানান, ঘটনার সত্যতা যাচাই করে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।






মন্তব্য চালু নেই