মেইন ম্যেনু

এভারেস্ট জয় করলেন গর্বিত ১১ বাঙালি

গেল বছর ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছিল এভারেস্ট। ওই সময় বেশকিছু পর্বতারোহীও নিখোঁজ হয়েছিল। এরমধ্যে অনেকের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। এমনকি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল বেস ক্যাম্পও।

এদিকে ওই ঘটনার পর এই একবছর বন্ধ ছিল এভারেস্ট অভিযান। তবে সপ্তাহ দুয়েক আগেই ফের শুরু হয় অভিযান। আর এই অভিযান শুরু হতেই এভারেস্টে শিখরে পা রাখলেন একদল বাঙালি।

২০ মে এভারেস্টের শিখরে পা রেখেছিলেন তিন বাঙালি। ২১ মে ভোরে এভারেস্ট থেকে সূর্যোদয় দেখলেন আরও ৮ বাঙালি। হাওড়ার চ্যাটার্জি হাটের মলয় মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৮ জনের এই দলটি শুক্রবার গভীর রাতে ক্যাম্প ফোর থেকে অভিযান শুরু করে। ৫টা ৪৮ মিনিটে দলটি এভারেস্টে পা রাখে।

গতবারও এভারেস্ট জয়ের চেষ্টা করেছিলেন মলয়। কিন্তু, নেপালে ভূমিকম্পের জেরে সেই অভিযান বাতিল হয়ে গিয়েছিল। এবারে তার দলে ছিলেন পরেশ নাথ, শতরূপ সিদ্ধান্ত, রুদ্রপ্রসাদ হালদার, সুমিতা হাজরা, সুভাষ পাল, গৌতম ঘোষ, রমেশ রায়। ২০ মে এভারেস্ট পা রেখেছিলেন চেতনা সাউ, প্রদীপ সাউ, দেবরাজ দত্ত।

অভিযাত্রী দলের অন্যতম সদস্য দুর্গাপুরের পরেশ নাথ ৫৮ বছর বয়সে এভারেস্টে পা রেখে সবচেয়ে বেশি বয়সে শৃঙ্গ জয়ের রেকর্ড গড়লেন। পরেশ নাথের আবার বাঁহাতের কবজির পর থেকে কাটা। এই শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে অতিক্রম করেই তিনি এভারেস্ট জয় করেছেন।

১৯ মে-ই দলটির এভারেস্টে পা রাখার কথা ছিল। কিন্তু, আবহাওয়া খারাপ থাকায় অভিযান পিছিয়ে যায়। এদিন এভারেস্টে পৌঁছেই জাতীয় পতাকা পুঁতে দেন মলয় মুখোপাধ্যায়।

মলয়দের এভারেস্ট জয়ের খবর এদিন সকালে চ্যাটার্জিহাটের বাড়িতে পৌঁছতেই আনন্দে উদ্বেল হয়ে ওঠে মুখোপাধ্যায় পরিবার। ৭ এপ্রিল এভারেস্ট অভিযানে বাড়ি থেকে রওনা হয়েছিলেন মলয়। ছেলের সাফল্যে খুশি মলয়ের মা নমিতা।

তিনি জানিয়েছেন, ‘এখন ছেলে ভালোয়-ভালোয় বাড়ি ফিরে আসুক এটাই চাই।’ মলয়ের বাবা কল্যাণ মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘ছেলে বাড়ি না আসা অবধি আমাদের দুশ্চিন্তা কমবে না।’

তার এই বক্তব্য আরও একবার খেয়াল পড়িয়ে দিল পর্বতারোহী রাজীব ভট্টাচার্যের করুণ পরিণতিকে। কারণ, ১৯ তারিখে রাজীবও ধৌলাগিরি শৃঙ্গ জয় করে ফিরে আসছিলেন। কিন্তু, খারাপ আবহাওয়ায় স্নো-ব্লাইন্ডনেসে আক্রান্ত হয়ে মাঝপথেই শ্বাসকষ্টে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন রাজীব। সেই দেহ এখনও হিমালয়ের কোলেই পড়ে রয়েছে।



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই