মেইন ম্যেনু

এভারেস্ট জয় করেছেন যে ৭জন প্রতিবন্ধী!

নেপালে ভয়ানক ভূমিকম্পের পর দেশের উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন ধরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমানে তারা এভারেস্ট নিয়ে অনেক বেশি চিন্তিত রয়েছেন। তারা সাম্প্রতিক ঘোষণা দিয়েছেন যে কোন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এভারেস্টে উঠার অনুমতি পাবেন না।

তাদের ভাষ্যমতে, ‘আমরা মনে করি কোন পা’ ছাড়া ব্যক্তি, যে দেখতে পারে না এবং যাদের কোন না কোন অঙ্গে সমস্যা রয়েছে তাদের পাহাড়ে উঠতে দেয়ার অনুমতি দেয়া যাবে না। পাহাড়ে উঠা কোন কৌতুক নয়, এখানে বর্ণবাদী নিয়েও আলোচনা করা হচ্ছে না, কিন্তু পা না থাকলে সে পাহাড়ে উঠবে কীভাবে?’
তাদের এ সকল প্রশ্নের উত্তর দেয়ার জন্য আজ আমাদের এই আয়োজন। আজ এভারেস্ট জয় করা ৭জন প্রতিবন্ধী মহানায়কের কথা আলোচনা করা হল-

১. এরিক হেন্মায়ের:
এরিক এমন একজন ব্যক্তিত্ব যিনি তার অন্ধত্বকে জয় করে এভারেস্টের চূড়ায় আরোহণ করেছেন। তিনি ২০০১ সালে এই অসাধ্যকে সাধ্য করেছেন। এখানেই তার কৃতিত্বের শেষ নয়। তিনি ২০০৮ সালের মধ্যে মহাদেশের আরও সাতটি সামিটের চূড়ায় আরোহণ সম্পন্ন করেন।

এরিক যুক্তরাষ্ট্রের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তিনি একটি সংঘটনে সাহায্য করেন যা প্রতিবন্ধী শিশুদের যেকোনো চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করতে শিখায়।

২. আরুনিমা সিনহা:
২০১১ সালে ২৪ বছর বয়সে আরুনিমা ছিনতাইকারীর কবলে পড়লে তারা তাকে চলন্ত ট্রেন থেকে নিচে ফেলে দিয়েছিল। সেই ঘটনায় তিনি তার দু’টি পা হারিয়ে ফেলেন।

ঘটনার ২ বছর পর তিনি প্রথম ভারতীয় মহিলা হিসেবে এবং এক পা’হীন ব্যক্তি হিসেবে এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছান। তার বাম পা কেটে ফেলা হয় এবং ডান পায়ে লোহার রড লাগিয়ে দেয়া হয়। যাতে তার পায়ের হার আবার জোড়া লেগে যায়। তার জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন ছিল তিনি এভারেস্টের চূড়ায় আরোহণ করবেন। তিনি তার এই স্বপ্ন পূরণও করেছেন।

৩. মার্ক ইংলিস:
তিনি প্রথম ব্যক্তি যিনি তার দুই পা না থাকা সত্ত্বেও এভারেস্টে পৌঁছেছেন। তিনি ২০০৬ সালে পর্বতে আরোহণ করেছেন। নিউ জি ল্যান্ডের এই নাগরিক ৪৭ বছর বয়সে পর্বতে আরোহণ করেন।

তিনি পর্বতে উঠার সময় বলেছিলেন, ‘আমি পা’হীন ব্যক্তি হিসেবে প্রথম এখানে উঠার জন্য এই কাজ করছি না। আমি যদি তা করতে পারি তাহলে তা সোনায় সোহাগা হবে। কিন্তু আমার জন্য বেশি বড় ব্যাপার হল আমি এখানে উঠতে অনেক সময় অতিবাহিত করেছি এবং এভারেস্ট আরোহণ করা সত্যিই অনেক কৃতিত্বের কাজ’।

৪. লরি স্নেইডার:
১৯৯৯ সালে লরির ৪৩ বছর বয়সে তার একাধিক বার স্ক্লেরোসিস রোগ ধরা পড়েছিল। এক যুগ পর আমেরিকার এই শিক্ষক সেভেন সামিট চ্যালেঞ্জ সম্পন্ন করেন। তার পায়ে কোন শক্তি না থাকার পরও তিনি সর্বোচ্চ শৃঙ্গে আরোহণ করেছেন।

৫. পাউল হকি:
পাউল তার জন্মের মাত্র তিন সপ্তাহ বয়সেই নিজের ডান হাত হারিয়ে ফেলেন। তার শরীরে ক্যান্সার ধরা পড়েছিল। তিনি ২০০৫ সালে পর্বতের চূড়ায় আরোহণ করেছেন। তিনি সর্বপ্রথম একজন হাতহীন ব্যক্তি হিসেবে পর্বতে আরোহণ করেন।

৬. রব হিল:
রব হিলের ক্লোন ডিজিজ থাকা সত্ত্বেও তিনি ২০১০ সালে এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছায়। এভারেস্টে আরোহণ করা ছাড়াও তিনি সেভেন সামিটের চ্যালেঞ্জ সম্পন্ন করেন।

৭. টম হুইট টেঁকার:
টমের বর্তমান বয়স হবে ৬৭ বছর। ১৯৭৯ সালে গাড়ির দুর্ঘটনায় তিনি তার ডান পা হারিয়ে ফেলেন। কিন্তু এতে তিনি দমে যান নি। তিনি তিনবার চেষ্টা করে তৃতীয়বার সাফল্য পান। তিনি বিশ্বের প্রথম প্রতিবন্ধী হিসেবে এভারেস্ট জয় করেন।–সূত্র: মেট্রো।






মন্তব্য চালু নেই