মেইন ম্যেনু

এমপিওভূক্ত করার বিরুদ্ধে সংসদীয় কমিটি

আগামী ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের বিভিন্ন কর্মসূচির বিপরীতে সংশ্লিষ্ট এলাকার দারিদ্র্য ও জনসংখ্যার ভিত্তিতে বরাদ্দ দেওয়ার সুপারিশ করেছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতিরা। এ ছাড়া নতুন আর কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভূক্ত না করার পক্ষে মত দিয়েছেন তারা।

রোববার রাতে রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে প্রাক-বাজেট আলোচনায় সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতিরা এসব পরামর্শ দিয়েছেন বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, বৈঠকে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির মোট ১৮টি কমিটির সভাপতিকে প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তাদের পরামর্শ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এর মধ্যে পাঁচজন বিদেশে অবস্থান করছেন। বাকি ১৩ জনের মধ্যে বৈঠকে মাত্র পাঁচ জন উপস্থিত থেকে বাজেট সম্পর্কে মত দেন।

এর আগে এক বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আগামী বাজেটে নতুন কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভূক্ত না করার ঘোষণা দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত সংসদীয় কমিটির সব চেয়ারম্যান অর্থমন্ত্রীকে সমর্থন জানান।

বৈঠকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রমেশ চন্দ্র সেন চলতি অর্থবছরের বাজেট পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে কিনা তা জানতে চান। জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, না, অন্যান্য বছরের মতো এবারও বাজেট বাস্তবায়নের হার ভালো না। আমরা যে বাজেট দেই তা বস্তবায়নের মতো দক্ষতা এখনো অর্জন করা সম্ভব হয়নি। তবে তুলনামূলকভাবে আগের চেয়ে বাজেট বাস্তবায়নের হার বেড়েছে।

এ প্রসঙ্গে রমেশ চন্দ্র সেন বলেন, বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হলেও অনেক মন্ত্রণালয় টাকা ব্যয়ের সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি। অথচ পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় বরাদ্দের অভাবে অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারছে না। আমাদের বরাদ্দ বাড়ানো হলে উন্নয়ন কর্মকা- ত্বরান্বিত করা সম্ভব হবে। তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভূক্ত না করার বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর ঘোষণাকে সমর্থন দেন।

বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ফারুক খান বলেন, ‘এখন বেশির ভাগ ছাত্রছাত্রী মোবাইল ফোন ব্যবহার করে। মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারলে তারা স্কুলের বেতন কেন দিতে পারবে না? সরকার তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকলে এমপিও নিয়ে কোনো সমস্যা হবে বলে আমি মনে করি না।’

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করি। শিক্ষার্থীরা শতভাগ টিউশন ফি পরিশোধ করছে। এ অর্থ থেকে ৫০ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে, ৩০ শতাংশ শিক্ষকদের বেতন-ভাতা, ১০ শতাংশ গরিব শিক্ষার্থীদের জন্য এবং বাকি ১০ শতাংশ অন্যান্য খাতে ব্যয় করা হয়।’ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই পদ্ধতি অনুসরণের পরামর্শ দেন ফারুক খান।

ফারুক খান পিপিপি আইন সহজ করাসহ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী সব বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগসহ অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিতের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি দেশে বিনিয়োগের স্বার্থে চীনের ২৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রস্তাব গ্রহণের সুপারিশ করেন।

এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘চীনের বিনিয়োগ প্রস্তাব এ মুহূর্তে গ্রহণ করা যাবে না। কারণ, তারা ঋণ দিয়ে নানা শর্ত জুড়ে দেয়। বিশেষ করে ঋণের বিপরীতে তাদের কাছ থেকে সেবা ক্রয় করার শর্ত দেয়। এটা আমাদের জন্য সুবিধাজনক নয়।’

বৈঠকে পার্বত্য চট্রগ্রাম বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী বিভিন্ন প্রকল্পের গুণগত মান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের যেসব দরপত্র আহ্বান করা হয়, সেগুলো প্রাক্কলিত দরের চেয়ে অনেক কম দর উল্লেখ করে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ আদায় করে। পরবর্তীতে ওইসব প্রকল্পের গুণগত মান অত্যন্ত খারাপ হয়। এতে দেশের কষ্টার্জিত অর্থের অপচয় হয়। এজন্য প্রাক্কলিত দরের ৫ শতাংশের বেশি হলে তাকে কাজ না দেওয়া উচিৎ।’

এ সময় তিনি ট্যাক্সনেট বাড়ানোর পরামর্শ দেন। এ ছাড়া পার্বত্য এলাকায় পশ্চাদপদ জনগোষ্ঠিকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে ২৮০টি স্কুল সরকারি করার পরামর্শ দেন। এ ছাড়া তিনি আখাউড়া স্থলবন্দরের উন্নয়ন এবং তার নির্বাচনী এলাকায় বর্ডার হাট স্থাপনের দাবি জানান।

বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ধর্ম মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতিরাও উপস্থিত ছিলেন।






মন্তব্য চালু নেই