মেইন ম্যেনু

এমপি লিটন কারাগারে, মিষ্টি বিতরণ

গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের জামিন ও পুলিশের রিমান্ড আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এমপিকে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানোর খবরে উপজেলার সর্বত্রই স্বস্তি ফিরে এসেছে। শুধু তাই নয় বিভিন্ন স্থানে চলছে মিষ্টি বিতরণ।

বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১২টায় গাইবান্ধার অতিরিক্ত জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সুন্দরগঞ্জ) ময়নুল হাসান রনি এমপি লিটনের জামিন ও রিমান্ড আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে, বুধবার রাত সোয়া ১০টার দিকে ঢাকাস্থ উত্তরায় বোনের বাসা থেকে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল এমপি লিটনকে গ্রেপ্তার করে। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় স্বস্তি নেমে আসে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকায় চলে মিষ্টি বিতরণ।

গত ২ অক্টোবর ভোর পৌনে ৬টায় উপজেলার গোপাল চরণ গ্রামের সাজু মিয়ার ছেলে চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র শাহাদত হোসেন সৌরভের পায়ে গুলি করেন এমপি লিটন। এ ঘটনায় সাজু মিয়ার দায়ের করা মামলা লিটন জামিন চাইলে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

এ ব্যাপারে সৌরভের বাবা সাজু মিয়া বলেন, ‘আমি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছেলের চিকিৎসার জন্য ধার দেনা ও গরু বিক্রি করে টাকা জোগাড় করছি। এমপি লিটনের বোন আমাকে নয় হাজার টাকা দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমি তা নেইনি।’

পৌর মেয়র ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম, উপজেলা নাগরিক কমিটির সভাপতি বীরেণ সরকার মিন্টু, সহ-সভাপতি ও পৌর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি এটিএম মাসুদ-উল-ইসলাম চঞ্চল প্রশাসন ও সরকারের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এখানেই যথেষ্ট নয়। এমপি লিটন ও তার ক্যাডার বাহিনীর হাতে থাকা অবৈধ অস্ত্রগুলো উদ্ধার, যথাযথ বিচার, বিভিন্ন প্রকল্পসহ তার সব অনিয়ম দুর্নীতি ও অপকর্মের বিচার হওয়া দরকার।

এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা আহম্মেদের সঙ্গে কয়েক দফা কথা বলার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এদিকে, এমপি লিটনকে আদালতে নেয়ার পর তার সমর্থকরা মুক্তি দাবি মিছিল করলে পুলিশ তাদের লাঠিচার্জ করে। এক পর্যায়ে টিআর সেল, রাবার বুলেট ও কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়লে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পুলিশের লাঠিচার্জে কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। ঘটনার পর আদালত প্রাঙ্গনে বিজিবিসহ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

লিটনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ
শিশুকে গুলি করে হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম লিটনের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন গাইবান্ধার আদালত।

বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার গাইবান্ধার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ময়নুল হাসান ইউসুফের আদালত এ নির্দেশ দেন। এর আগে পৌনে ১২টায় কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সাংসদ লিটনকে পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে আদালতে আনা হয়। তার জামিন আবেদনের শুনানি শেষে আদালত তা নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এদিকে সাংসদ লিটনের মুক্তির দাবিতে সকাল থেকেই তার কর্মী-সমর্থকরা বিক্ষোভ মিছিল করে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তার আত্মীয়স্বজন ও কর্মী-সমর্থকরা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের দিকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে রওনা হলে পুলিশি বাধায় তারা গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী সড়কে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সে সময় বেশ কয়েক রাউন্ড টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে এমপির বেশ কয়েকজন সমর্থক আহত হন।






মন্তব্য চালু নেই