মেইন ম্যেনু

এমপি লিটন হত্যা : ৪ দিনেও ক্লু পায়নি পুলিশ

গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মো. মনজুরুল ইসলাম লিটন হত্যাকাণ্ডের চারদিনেও কোনো ক্লু খুঁজে পায়নি পুলিশ। শনিবার সন্ধ্যায় হত্যার পর থেকে সোমবার বিকেল পর্যন্ত হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পুলিশ ৩২ জনকে আটক করে। তাদের সুন্দরগঞ্জ থানা হাজতে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে পাঠানো হয়।

এদিকে চারদিনেও হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়া পাঁচ যুবককে শনাক্ত ও তাদের গ্রেফতারসহ কোনো ক্লু উদঘাটন করতে না পারায় আওয়ামী লীগের দলীয় নেতাকর্মীসহ সুন্দরগঞ্জ উপজেলাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে কি ধরনের অস্ত্র (পিস্তল) ও গুলি ব্যবহার করা হয়েছে তাও এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। এমনকি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা দুটি মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা সুন্দরগঞ্জ উপজেলা। হত্যার পর সোমবার দুপুর পর্যন্ত হরতাল-অবরোধ, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে বিক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের জনসাধারণ।

লিটন হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ মঙ্গলবার সকাল থেকে তিনদিনের শোক কর্মসূচি পালন করছে। মঙ্গলবার দুপুরে বিক্ষোভ ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলা শহরের বঙ্গবন্ধু চত্বরে প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও লিটনের পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে দুটি মোটরসাইকেলে আসা অজ্ঞাত ৪/৫ যুবক লিটনের সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের সাহাবাজ (মাস্টারপাড়া) বাড়িতে প্রবেশ করে। এসময় লিটন তার বৈঠকখানায় বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। এর মধ্যে দুজন বাড়ির বাইরে মোটরসাইকেলে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনজন লিটনের বৈঠকখানায় প্রবেশ করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে মোটরসাইকেল নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।

ঘটনার বর্ণনা দিতে ১০-১৫ বছরের কয়েক শিশু-কিশোর জানায়, ঘটনার আগে তারা লিটনের বাড়ির উঠানে ক্রিকেট খেলছিল। এসময় দুটি মোটরসাইকেলে আসা যুবকরা তাদের বাড়ি ফিরে যাওয়ার জন্য বলে। কিন্তু বাড়িতে ফিরে না গিয়ে শিশুরা ক্রিকেট খেলতে থাকলে তারা তাদের আবারো বাড়ি যেতে তাড়া দেন।

এরপর শিশুরা বাড়ি ফেরার পরপরই গুলির ঘটনা ঘটে। এদের মধ্যে জুয়েল রানা নামে এক কিশোর (পিবিআই) কর্মকর্তার কাছে জবানবন্দি দিয়েছে।

এমপি লিটনের বাড়িতে থাকা কর্মচারী জুয়েল মিয়া বলনে, ঠিক সন্ধ্যার আগে দুটি মোটরসাইকেলে পাঁচ যুবক লিটন স্যারের বাড়িতে আসে। তাদের দুজন বাড়ির উঠানে মোটরসাইকেলের ওপর দাঁড়িয়ে ছিল। আর তিনজন বৈঠকখানায় ঢুকেই গুলি চালায়। এরপর তারা দৌড়ে মোটরসাইকেলে নিয়ে পালিয়ে যায়। এসময় তিনি তাদের পিছনে ছুটলেও একটু সামনে যাওয়ার পর আর তাদের দেখতে পাননি।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তাফা বলেন, সুন্দরগঞ্জ জামায়াত-শিবির অধ্যুষিত এলাকা। এখানে জামায়াতের শক্ত ঘাঁটি রয়েছে। এর আগে ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি বামনডাঙ্গা ফাঁড়িতে হামলা চালিয়ে পুলিশ সদস্যসহ ছয়জনকে হত্যা করে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। এছাড়া লিটন ছাত্রলীগ করার সময় গোলাম অাযমকে সুন্দরগঞ্জে ঢুকতে দেয়নি। এ নিয়ে জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে তার একটা বড় জের ছিল। জামায়াত-শিবির পূর্বপরিকল্পিতভাবে লিটনকে হত্যা করেছে।

তিনি আরো বলেন, লিটন হত্যার চারদিনেও হত্যার ক্লু ও হত্যাকারীদের গ্রেফতার করতে পারেননি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও তাদের ফাঁসির দাবি জানান তিনি। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে।

গাইবান্ধা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) মো. রবিউল ইসলাম বলেন, হত্যার পর থেকে পুলিশের বেশ কয়েকটি টিম হত্যাকারীদের শনাক্ত ও তাদের গ্রেফতার করতে অভিযান অ্যাবাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে আটকদের জিজ্ঞাসাবাদও করা হচ্ছে। পাশাপাশি হত্যায় অংশ নেয়া পাঁজজনকে শনাক্ত ও মোটরসাইকেল দুটি উদ্ধারেও চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, হত্যার সময় যে অস্ত্র ও গুলি ব্যবহার করা হয়েছে তার আলামত হিসেবে গুলির খোসা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেলে নিশ্চিত হওয়া যাবে কি ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করেছে হত্যাকারীরা। হত্যাকাণ্ডের ক্লু উদঘাটনে বেশ কয়েকভাবে তদন্ত চালানো হচ্ছে। তবে আশা করি, শিগগিরই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার ও সঠিত রহস্য উন্মোচন হবে।

উল্লেখ্য, শনিবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের সাহাবাজ (মাস্টারপাড়া) গ্রামে এমপি লিটনকে বাড়িতে ঢুকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। পরে রাত সাড়ে ৭টার দিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় লিটনের বোন তাহমিদা বুলবুল বাদী হয়ে অজ্ঞাত ৪-৫ জনকে আসামি করে রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন।

এরপর সোমবার বাদ আসর নিজ বাড়ির চত্বরে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহ দাফন করা হয়।






মন্তব্য চালু নেই