মেইন ম্যেনু

এরশাদ ও হাওলাদার আবারও নির্বাচিত

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে এইচ এম এরশাদ ও দলের মহাসচিব হিসেবে এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার আবারও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

কাউন্সিলের প্রথম অধিবেশন শেষে দলের এই সম্মেলনে নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ সিরাজুল ইসলাম তাদের নাম প্রস্তাব করলে উপস্থিত কাউন্সিলররা এই প্রস্তাব সমর্থন করেন।

সম্মেলনে শুধু চেয়ারম্যান ও মহাসচিব নয়, দলের জ্যেষ্ঠ কো-চেয়ারম্যান হিসেবে জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ ও কো-চেয়ারম্যান হিসেবে জি এম কাদেরকে নির্বাচিত করা হয়। দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও নির্বাহী কমিটি গঠনের ক্ষমতা দেওয়া হয় পার্টির চেয়ারম্যানকে।
পরে নবনির্বাচিতদের ফুলের তোড়া দিয়ে নেতা-কর্মীরা অভিনন্দন জানান।

এর আগে দলের গঠনতন্ত্র পাস করা হয়। কো-চেয়ারম্যান পদের অনুমোদন ও পার্টির চেয়ারম্যানের ৩৯ ধারায় কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। পার্টির চেয়ারম্যান যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পার্টির প্রেসিডিয়ামের সম্মতি নেবেন- এই শর্ত এতে যুক্ত করা হয়েছে।

চেয়ারম্যান পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর এরশাদ নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘যত দিন বেঁচে আছি তোমাদের সঙ্গেই আছি। তোমাদের নিয়েই আমি আরেকবার ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করব।’ তিনি বলেন, ‘দুঃখকষ্ট ভুলিয়ে মানুষের মুখে হাসি ফোটাবই।’

দলের নবনির্বাচিত জ্যেষ্ঠ কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ জাতীয় পার্টিকে শক্তিশালী করে আগামী দিনে ক্ষমতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য নেতা-কর্মীদের আহ্বান জানান। পরে দলীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে তিনি সম্মেলনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

দলের মহানগর দক্ষিণের সভাপতি সাংসদ সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা ও মহানগর উত্তরের সভাপতি এস এম ফয়সল চিশতীর যৌথ সঞ্চালনায় সম্মেলনে দলের সাংগঠনিক রিপোর্ট পেশ করেন মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার।

সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদের সভাপতিত্বে সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পার্টির জ্যেষ্ঠ কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ, কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের, মহাসচিব এ বিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, জ্যেষ্ঠ নেতা পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, সাবেক মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, কাজী ফিরোজ রশীদ, প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা, অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খান, প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু, প্রেসিডিয়াম সদস্য মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, সংসদে বিরোধী দলের চিফ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, প্রেসিডিয়াম সদস্য ফখরুল ইমাম, এম এ সাত্তার, সালমা ইসলাম, এম এ কাসেম, মাসুদা রশীদ চৌধুরী, মীর আবদুস সবুর আসুদ, দক্ষিণের সেক্রেটারি জহিরুল আলম রুবেল, মহিলা পার্টির সেক্রেটারি অনন্যা হোসেন মৌসুমীসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতা ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা। সম্মেলনে প্রায় ১৫টি দেশের রাষ্ট্রদূতরা অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় পতাকা, দলীয় পতাকা ও শান্তির পায়রা উড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পার্টির অষ্টম কাউন্সিলের শুভ উদ্বোধনী ঘোষণা করেন দলটির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। সঙ্গে ছিলেন দলের জ্যেষ্ঠ কো-চেয়ারম্যান বেগম রওশন এরশাদ, কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের ও দলের মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার।

তারপর সম্মেলনের মঞ্চে আসীন হন এরশাদসহ সিনিয়র নেতারা। এরপর পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, গীতা ও বাইবেল পাঠ করা হয়। সম্মেলনের সফলতা, দলের চেয়ারম্যানসহ দেশের মানুষের সুখ সমৃদ্ধি কামনা করে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য কারি মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ বেলালী মোনাজাত করেন। এর আগে শোক প্রস্তাব পাঠ করেন প্রেসিডিয়াম সদস্য এস এম ফয়সল চিশতী।






মন্তব্য চালু নেই