মেইন ম্যেনু

এসএসসি’র পূর্ণরূপ জানে না জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী!

এসএসসি’র পূর্ণরূপ বলতে পারেনি এ বছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কয়েকজন শিক্ষার্থী! এমনকি বলতে পারেনি জিপিএ বলতে কী বুঝায়! দেশের রাষ্ট্রপতি কিংবা নিউটনের সূত্র সম্পর্কেও নেই তাদের কোনো ধারণা। এ বছর এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাক্ষাৎকার নিয়ে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন চিত্র।

ওই প্রতিবেদনে প্রতিবেদক এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১৩ জন শিক্ষার্থীকে সাধারণ জ্ঞাণ, গনিত, সাধারণ বিজ্ঞানসহ কিছু বিষয়ে কয়েকটি প্রশ্ন করেন। কোনো প্রশ্নের সঠিক উত্তর দূরের কথা, উত্তরের ধার ঘেঁষেও যেতে পারেনি ওই শিক্ষার্থীরা। প্রতিবেদনে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত একজন শিক্ষার্থীকে প্রশ্ন করা হয়, ‘আমি জিপিএ-৫ পেয়েছি’ -এই বাক্যের ইংরেজি কি? জবাবে ওই শিক্ষার্থী বলেন- ‘আই এম জিপিএ-৫’, অপর এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আই গিভ এ জিপিএ ফাইভ’, অন্য একজন বলেন, ‘আই গেট এ জিপিএ ফাইভ’।অপরেশন সার্চলাইট কী, এই প্রশ্নের জবাবে জিপিএ-৫ পাওয়া এক ছাত্রী বলেন, ‘অপারেশন করার সময় যে লাইট জ্বালায় সেটাই অপারেশন সার্চলাইট।’

এই শিক্ষার্থীরা জানে না, শহীদ মিনার কিংবা জাতীয় স্মৃতিসৌধ কোথায়। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস কবে- তাও জানে না তারা। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস কবে জানতে চাইলে- একজন বলেন, ১৭ আগস্ট। আরেকজন বলেন, ১০ ডিসেম্বর। রণসঙ্গীত কে রচনা করেছেন, এর জবাবে দু’জন বলেন, ‘পারি না’, একজন বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর’। আর বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতের রচয়িতা হিসেবে একজন বলেন, কাজী নজরুল ইসলামের নাম।

প্রতিবেদকের অন্যান্য প্রশ্ন ও শিক্ষার্থীদের উত্তর:

মাউন্ট এভারেস্ট কোথায়? – ইংল্যান্ডে।

পিথাগোরাস কে? – একজন ঔপন্যাসিক

নিউটন কোন তত্ত্বের জন্য বিখ্যাত? – গাছ থেকে যে আপেল পড়ে।

বাংলাদেশের বর্তমান রাষ্ট্রপতির নাম কী? – জানি না।

মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে? ৯টি।

নেপালের রাজধানীর নাম কী? নেপচুন।

এগুলো না জানার কারণ হিসেবে শিক্ষার্থীরা বলেন, ”আমরা সংবাদ বেশি দেখি না, নিউজ পেপার পড়ি না। সিলেবাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ, সাইন্সের সাবজেক্ট বেশি পড়ি। বাংলা, সমাজ এগুলো নিয়ে ঘাঁটি না।”

এ ব্যাপারে অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, ”শিক্ষার্থীরা যে জিপিএ-৫ পাচ্ছে, এটা সত্যিকারের জিপিএ-৫ না। তাদের হাতে জিপিএ-৫ তুলে দেওয়া হচ্ছে। এতে শিক্ষার মান বাড়ছে না কেবল সংখ্যা বাড়ছে।”

প্রকাশিত ওই সংবাদ নিয়ে ফেসবুকে ব্যাপক তোলপাড় চলছে। অনেকেই বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থাকে দুষছেন। অনেকেই বলছেন, অভিভাবকই বা কতটুকু শেখানোর চেষ্টা করেছেন? উঠে এসেছে, প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনাগুলোও। তবে এসব গণমাধ্যমে সরাসরি শিক্ষার্থীদের ভিডিও প্রকাশও করা ঠিক হয়নি বলছেন অনেকে। তারা বলছেন, এসব শিক্ষার্থীদের এই সমাজে, বন্ধুদের নিয়েই চলতে হয়। তাদের মুখটা দেখানো উচিত হয়নি।-বিডি প্রতিদিন






মন্তব্য চালু নেই