মেইন ম্যেনু

এসপির স্ত্রী হত্যা : অনেক প্রশ্নেরই উত্তর মিলছে না

সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (এসপি) বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকাণ্ডে অনেক প্রশ্নেরই উত্তর মিলছে না। পুলিশ কর্মকর্তারা বলেছেন, এই হত্যাকা- অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। এতে জঙ্গি গোষ্ঠী জড়িত বলে তারা ধারণা করছেন।

এদিকে এই হত্যাকা-ের তদন্তে অনেক প্রশ্ন সামনে এসেছে। প্রথমতঃ মিতু সাধারণত ছেলে মাহিরকে স্কুল বাসে তুলে দিতে বাসার বাইরে আসতেন না। প্রতিদিন ভোরে স্কুল বাসে তুলে দিয়ে আসতেন পুলিশ কনস্টেবল সাদ্দাম হোসেন। কিন্তু ঘটনার দিন সাদ্দাম হোসেন বাসায় আসেন নি। তার পরিবর্তে মিতুই স্কুল বাসে মাহিরকে তুলে দিতে রাস্তায় আসেন। ঘটনার দিন কনস্টেবল সাদ্দামের অনুপস্থিতি এবং মিতুর বাসার বাইরে আসার কথা ঘাতকরা আগে থেকেই জানলো কিভাবে?

সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র বলেছে, মিতুকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে তাতে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, বাচ্চাকে নিয়ে প্রতিদিনই বাসার বাইরে বের হলে সে ক্ষেত্রে ঘাতকদের এ ধরনের পরিকল্পনা থাকার কথা। কিন্তু হঠাৎ একদিন তিনি বের হলেন আর সে দিনই খুন হয়েছেন। মিতুই যে ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে আসবেন এবং বাবুল আক্তার চট্টগ্রামের বাইরে আছেন- এই বিষয়গুলি ঘাতকদের জানালো কে?

পুলিশ সূত্র জানায়, এসপি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তার বাসার গেইটে সবসময় একজন কিংবা দুজন কনস্টেবল পাহারায় থাকেন। এ ছাড়া বাবুল ও তার পরিবারের উপর জীবনের হুমকি রয়েছে এটা পুলিশ সদর দপ্তর ও চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের সব ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাই জানতেন। বাবুল ঢাকায় হেডকোয়ার্টারে যোগদান করতে যাওয়ার সময় তার পরিবারকে দেখে রাখার জন্য পাঁচলাইশ থানার ওসি ও তার সহকর্মীদের বলে গিয়েছিলেন। কিন্তু ঘটনার দিন বাবুল আক্তারের বাসার নিচে পুলিশের কোন নিরাপত্তা প্রহরা ছিলো না। এমনকি কনস্টেবল সাদ্দামও সকালে বাসায় আসেননি।

রোববার স্ত্রী হত্যার খবর পেয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পৌঁছেই বাবুল আক্তার আহাজারি করতে করতে সহকর্মী পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলছিলেন ‘আমি আপনাদের বলে গিয়েছিলাম আমার পরিবারকে দেখে রাখতে, কেন আপনারা আমার পরিবারকে দেখে রাখেননি?’

কনস্টেবল সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘প্রতিদিন স্যারের ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিয়ে আসি। কিন্তু শনিবার সন্ধ্যায় বাসা থেকে পুলিশ লাইনে গিয়ে সেখানেই অবস্থান করি। রোববার সকালে ম্যাডাম আমাকে ফোন না করায় আমি স্যারের ছেলেকে বাসে তুলে দিতে আসিনি।’

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার বলেছেন, ‘আমরা সবগুলো বিষয় খতিয়ে দেখছি। প্রতিটি বিষয় পর্যালোচনা করা হয়েছে। যে কোন মূল্যে খুনিদের সনাক্ত ও গ্রেফতার করতে আমরা কাজ করছি।’






মন্তব্য চালু নেই