মেইন ম্যেনু

এ আবার কেমন ধর্মগুরু? যে সুন্দরী নারী ভক্তদের দুধ দিয়ে গোসল করেন!

স্বঘোষিত ধর্মগুরু রামপাল পানি দিয়ে গোসল করতেন না। তাঁর গোসলের জন্য প্রতিদিন ভারতের হিসারের সৎলোক আশ্রমে যেত লিটার লিটার খাঁটি দুধ। পরম ভক্তি ভরে বাবার গায়ে সেই দুধ ঢেলে দিতেন তাঁর সুন্দরী ভক্তরা। আশ্রমের পুরুষ ভক্তদের তখন সেখানে প্রবেশ নিষেধ। ভক্তদের দুগ্ধ-স্নানে শুদ্ধ হতেন বাবা। দৈব প্রসাদও দিতেন খুশি হয়ে!

আসলে যে দুধ বাবার গায়ে ঢালা হত, তা দিয়েই পরে তৈরি হত ক্ষীর। আর সেই ক্ষীরই বাবার প্রসাদ হিসাবে ভক্তদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়। শুধু কি তাই! সমাজের চোখ এড়িয়ে বাবার আমোদ-প্রমোদের হরেক উপকরণ মজুত ছিল সৎলোক আশ্রমের নিরাপদ গণ্ডির ভিতরেই। ছিল বিশাল সুইমিং পুল। বিলাসব্যসনের অভিনব ব্যবস্থা। বাবার নিরাপত্তার জন্য ছিল সিসিটিভি ও মেটাল ডিটেক্টরও। ধর্মগুরু রামপাল নিজেকে সন্ত কবীরের আধ্যাত্মিক বরপুত্র বলে মনে করতেন। কারণ তাঁর চোখে ব্রহ্মা, বিষ্ণু কিংবা মহেশ্বর নয়, দোঁহা-রচয়িতা কবীরই সর্বশক্তিমান ঈশ্বর।

রামপালের দাবি ছিল, তাঁর জন্মের পূর্বাভাস করেছেন স্বয়ং নস্ত্রাদামুস। আর তাই, তিনি জাগতিক লৌকিকতার অনেক উর্ধ্বে। তবে ‘গডম্যান’-র থেকেও ভয়ঙ্কর ছিল তাঁর আশ্রমের দায়িত্বে থাকা শিষ্য-সমর্থকদের কাজকর্ম। আশ্রম চত্বরের ভিতরেই বহু মহিলা ভক্তদের বিবস্ত্র করে নিগ্রহ করা হত। আশ্রমকর্মীদের আতঙ্কে কখনও কখনও ঘরের বাইরে বেরোতে পারতেন না তাঁরা। এই কারণেই মহিলা ভক্তদের অধিকাংশই কোনওদিন আশ্রমের বন্দি-জীবন থেকে মুক্তি পাওয়ার আশা দেখেননি।

বৃহস্পতিবারই হাই কোর্টে জামিনের আর্জি খারিজ হয়েছে তাঁর৷ যার ফলে আরও বিপাকে পড়েছেন বিতর্কিত বন্দি ‘গডম্যান’ রামপাল৷ এদিন পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাই কোর্টে রামপালকে তোলা হলে আদালত তাঁর জামিনের আর্জি খারিজ করে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত জেল হেফাজত দিয়েছে৷






মন্তব্য চালু নেই