মেইন ম্যেনু

কল্যাণপুর থেকে আমিনবাজার ব্রিজ পার্কিংমুক্ত

এ যেন অচেনা সড়ক

রাজধানীর কল্যাণপুর থেকে গাবতলী হয়ে আমিনবাজার ব্রিজ পর্যন্ত সড়কের দুপাশে দাঁড়িয়ে থাকত সারি সারি যানবাহন। যানজট সেখানে ছিল নিত্যদিন। কিন্তু গতকাল দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। রাস্তার কোথাও কোনো যানবাহন দাঁড়িয়ে নেই। হঠাৎ দেখে মনে হতে পারে, এ যেন অচেনা সড়ক।

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী গতকাল শুক্রবার থেকে পার্কিং মুক্ত হয়েছে কল্যাণপুর-গাবতলী এলাকার প্রধান সড়ক। সড়কের দুই পাশে অর্ধেকের বেশি জায়গাজুড়ে থাকা বাস, পিকআপ, ট্রাক সরিয়ে ফেলেছেন মালিক-শ্রমিকেরা। তবে সড়কের এক পাশে এখনো সিটি সার্ভিসের বাস দাঁড়িয়ে থাকছে।

গতকাল দেখা যায়, কল্যাণপুর থেকে গাবতলী টার্মিনাল পর্যন্ত সড়কে দূরপাল্লার কোনো বাস রাখা হয়নি। মানিকগঞ্জ পথে চলাচলকারী ভিলেজ লাইন, পদ্মা লাইনের যেসব বাস টার্মিনালের বাইরের সড়কে যাত্রা শুরু ও শেষ করত, সেগুলো সরিয়ে টার্মিনালের ভেতরে ঢোকানো হয়েছে। সড়কে বাস, ট্রাক অবৈধভাবে দাঁড় না করিয়ে রাখায় সড়কে কোনো যানজট লাগছিল না।

টার্মিনালের সামনের সড়কে ভিলেজ লাইন পরিবহনের ১৫ থেকে ২০টি গাড়ি সব সময় দাঁড়িয়ে থাকত। গতকাল টার্মিনালের ভেতরে বাস রেখে যাত্রী তোলা হচ্ছিল। টিকিট কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা মো. সিদ্দিক বলেন, সকাল থেকে বাসগুলো টার্মিনালের ভেতরে ঢোকানো হয়েছে। এখন একসঙ্গে বেশি বাস রাখা হচ্ছে না।
তবে টার্মিনালের অপর পাশের সড়কে আবদুল্লাহপুর, গাজীপুর, যাত্রাবাড়ী পথে চলাচলকারী সিটি সার্ভিসের বাসগুলো দাঁড়িয়ে ছিল। গাবতলী পাতালপথ (আন্ডারপাস) ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) কার্যালয়ের সামনে অন্তত ১৫টি বাস দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এর কয়েকটিতে চালকের সহকারীরা ডাকাডাকি করে যাত্রী তুলছিল।

বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ফারুক তালুকদার বলেন, সিটি সার্ভিসগুলো যেন এই টার্মিনাল ব্যবহার করতে পারে, তা মাথায় রাখতে হবে। এই বাসগুলো ছাড়ার কোনো জায়গা নেই। সিটি বাসগুলোর জন্য টার্মিনালে জায়গা করে দিতে হবে। টার্মিনালের ভেতরের অবৈধ স্থাপনা ও দোকান উচ্ছেদ শুরু হয়েছে।

গত ২৩ ডিসেম্বর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হক গাবতলী টার্মিনাল এলাকা পরিদর্শন করে ঘোষণা দিয়েছিলেন, ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে গাবতলী বাস টার্মিনালের পাশের রাস্তা যানজটমুক্ত করা হবে। সড়কে কোনো বাস-ট্রাক-মিনিবাস দাঁড়াতে দেওয়া হবে না।

পরে ২৯ ডিসেম্বর গাবতলী টার্মিনালে শ্যামলী, কল্যাণপুর ও গাবতলী এলাকায় প্রধান সড়ক যানজট ও পার্কিং মুক্ত ঘোষণা দিতে ডিএনসিসি এক সভার আয়োজন করে। তাতে মালিক-শ্রমিকদের অনুরোধে ১ জানুয়ারি থেকে কল্যাণপুর-গাবতলী পর্যন্ত সড়ক অবৈধ পার্কিং মুক্ত ঘোষণা করেন মেয়র আনিসুল হক।

আনিসুল হক গতকাল বলেন, ‘সব সময় যানজট লেগে থাকত, ঢাকার এমন ১০টির মতো জায়গা গত মাসে পার্কিং ও যানজটমুক্ত করা হয়েছে। পুলিশের মহাপরিদর্শক ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছি, যাতে এই অবস্থা পুলিশ দিয়ে বজায় রাখা হয়। পুরো গাবতলী এলাকাই খালি হবে।’

দেখা যায়, মাজার রোড ক্রসিং ও গাবতলী বাস টার্মিনালের বাইরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যানবাহন টেনে নেওয়ার দুটি রেকার দাঁড়িয়ে আছে। ডিএমপি কিছুদূর পরপর ‘গাড়ি পার্কিং সম্পূর্ণ নিষেধ’ লেখা নির্দেশিকা লাগিয়েছে।

টেকনিক্যাল মোড় থেকে মাজার রোডে যাওয়ার পথে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের কার্যালয়ের সামনে অন্তত ১৫ থেকে ২০টি পিকআপ দাঁড়িয়ে থাকত। দূরপাল্লার বাসগুলো যাত্রী নামিয়ে মাজার রোড, টেকনিক্যাল মোড় ঘুরে এসে গাবতলী টার্মিনালের সামনে দাঁড়াত। ফলে সারাক্ষণই এ এলাকায় যানজট লেগেই থাকত। সেগুলো সরিয়ে ফেলায় গতকাল সড়কে যানজট ছিল না বললেই চলে।-প্রথম আলো






মন্তব্য চালু নেই