মেইন ম্যেনু

‘ঐক্যবদ্ধভাবে জঙ্গিবাদ মোকাবিলা করতে হবে’

‘জঙ্গিবাদ একটি বিশ্বজনীন সমস্যা। এটা বাংলাদেশের একক কোনো সমস্যা নয়। গোটা বিশ্বে এ সমস্যা দেখা দিয়েছে, যা মোকাবিলায় আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

মঙ্গলবার সকালে গণভবনে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে দেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী দেশবাসী ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঈদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মুসলমানদেরও মোবারকবাদ জানান তিনি।

জনগণকে জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ জন্য যার যার জায়গা থেকে কাজ করতে হবে। প্রত্যেকের অবস্থান থেকে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। যারা জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িত তারা শান্তির ধর্ম ইসলামকে হেয় করতে চায়। যতই ষড়যন্ত্র হোক দেশের অগ্রগতি কেউই থামাতে পারবে না। দেশ এগিয়ে যাবেই।’

বাংলাদেশে কোনো জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ চাই না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এদেশের মানুষ শান্তিপ্রিয়, সহনশীল। অসাম্প্রদায়িক চেতনায় তারা বিশ্বাস করে। যার যার ধর্ম সে সে পালন করবে। প্রত্যেক মানুষ যেন তার ধর্ম শান্তিপূর্ণ ও সম্মানের সঙ্গে পালন করতে পারে, এটাই হচ্ছে ইসলামের মূল শিক্ষা। আমরা সেভাবেই এ দেশকে গড়ে তুলতে চাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নিরীহ মানুষকে হত্যা করে কেউ বেহেশতে যেতে পারে না। আমাদের নবী করিমও (সা.) বলে গেছেন, নিরীহ মানুষকে যেন হত্যা না করা হয়। তারপরও ধর্মের নামে মানুষ হত্যা করা, জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করা হচ্ছে। আমি মনে করি, এতে আমাদের ইসলামেরই ক্ষতি হচ্ছে। ইসলাম ধর্মের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘ইসলাম ধর্ম পবিত্র ধর্ম। এই শান্তির ধর্মকে যারা হেয়প্রতিপন্ন করছে, তারা শান্তিপ্রিয় মানুষের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মসজিদের ইমাম, যাঁরা ধর্মীয় শিক্ষা দেন, ওলামা মাশায়েখ, ছাত্র-শিক্ষকসহ সারা বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে, জঙ্গিবাদের প্রতিরোধের ব্যাপারে আপনারা সচেতন থাকবেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের যে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা, সেটা যেন অব্যাহত থাকে। মাঝে মাঝে দু-একটি ঘটনা আমাদের থমকে দেয়। কিন্তু আমরা যেকোনো ঘটনা মোকাবিলা করতে পারি’।

তিনি আরও বলেন, ‘এত রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। কোনো ষড়যন্ত্রকারী যেন এই স্বাধীনতাকে ক্ষতি করতে না পারে। এ ব্যাপারে আমাদের সবাইকে সচেতন থেকে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি যেন সচল থাকে, তার জন্য কাজ করতে সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

গাজীপুরের টঙ্গীতে ট্যাম্পাকো ফয়েলস কারখানায় আগুনে ৩৩ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘টাম্পাকো ফয়েলস কারখানায় যে ৩৩ জন নিহত হয়েছে, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। আমি তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। যারা আহত, তাদের চিকিৎসা চলছে। যারা নিহত হয়েছে, তাদের পরিবারবর্গকে সচরাচর যেভাবে সাহায্য করে থাকি, আমরা সেভাবেই করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা কারখানা বা ফ্যাক্টরি করবেন, এর জন্য আলাদা ব্যবস্থা করবেন। এ বিষয়গুলো আমি ইতিমধ্যে শিল্পমন্ত্রীকে বলেছি। সারা বাংলাদেশে যেখানে এ ধরনের কারখানা রয়েছে, সেখানে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে। যাতে এ ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে তার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন।’

প্রধানমন্ত্রী কানাডা এবং জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে আগামীকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে যাবেন এ জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চান তিনি।

সকাল ৯টার পর থেকে গণভবনে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি, আন্তর্জাতিক-বিষয়ক সম্পাদক ফারুক খান প্রমুখ।






মন্তব্য চালু নেই