মেইন ম্যেনু

ঐতিহাসিক আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ

সাফাত জামিল শুভ, চট্টগ্রাম থেকে: আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ বাংলাদেশের চট্টগ্রামের চাটগছায় অবস্থিত একটি ঐতিহ্যবাহী স্থাপণা । মসজিটির সাথে মোঘলদের চট্টগ্রাম বিজয়ের কাহিনী সম্পর্কিত। এই কিল্লা বা কেল্লায় মগ ও পর্তুগিজ জলদস্যুদের আস্তানা ছিল। ১৬৬৬ সালের ২৭ জানুয়ারি শায়েস্তা খাঁ’র ছেলে উমেদ খাঁ আন্দরকিল্লার অন্দরে বা ভিতরে প্রবেশ করলে এর নাম হয়ে যায় আন্দরকিল্লা। চট্টগ্রাম বিজয়েয়র স্মৃতি ধরে রাখতে আওরঙ্গজেবের নির্দেশে শায়েস্তা খাঁ ১৬৬৭ সালে এখানে নির্মাণ করেন আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ।

১৭২৩ সালে চট্টগ্রামের আরেক শাসনকর্তা নবাব ইয়াসিন খাঁ এই জামে মসজিদটির কাছাকাছি আরেকটি পাকা মসজিদ নির্মাণ করে কদম-রসূল রাখলে সাধারনের কাছ ঐ মসজিদটির গুরুত্ব পেয়ে যায়। এসময় আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ লোকশূণ্য হয়ে পড়ে। ১৭৬১ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী এই মসজিদটিকে গোলাবারুদ রাখার গুদাম হিসেবে ব্যবহার করতে থাকে। ১৮৮৫ সালে ঐতিহাসিক হামিদুল্লাহ খাঁ’র আবেদনের প্রেক্ষিতে মসজিদটি মুসলমানদের জন্য আবারো উন্মুক্ত করা হয়।

১৬৬৭ সালে এই মসজিদ নির্মাণের পর থেকে চট্টগ্রামের ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান হয়ে উঠে আন্দরকিল্লার এই মসজিদ। এই মসজিদের ইমাম বা খতিব নিযুক্ত হতেন পবিত্র মদিনার আওলাদে রাসুল (রা:) গণ। ফলে অল্পদিনের মধ্যেই এই মসজিদ জনপ্রিয় হয়ে পরে। রোজা, ফিতরা এবং ঈদের চাঁদ দেখা প্রশ্নে এই মসজিদের ফয়সালা চট্টগ্রামের সর্বস্তরের জনগন মেলে চলতেন। আন্দরকিল্লা জামে মসজিদের স্থাপত্য ও গঠন মোঘল রীতি অনুযায়ী। সমতল ভূমি থেকে প্রায় ত্রিশ ফুট উপরে ছোট পাহাড়ের ওপর এর অবস্থান। মূল মসজিদের নকশা অনুযায়ী এটি ১৬ মিটার দীর্ঘ এবং প্রায় সাত মিটার প্রস্থ।

মসজিদের মূল স্থাপণার প্রবেশপথে কালো পাথরের গায়ে খোদাইকৃত সাদা অক্ষরে লেখা ফার্সি লিপির বঙ্গানুবাদ যা দায়ায় তা হলো,’হে জ্ঞানী, তুমি জগতবাসীকে বলে দাও, আজ এ দুনিয়ায় ২য় কাবা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যার প্রতিষ্ঠাকাল ১৭৬৬ সাল। এই শিলালিপি থেকে এর প্রতিষ্ঠার নামও পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে বলা যায় যে, এই মসজিদে পাওয়া সকল শিলালিপির সাথে সিরিয়ার রাক্কা নগর এর স্থাপত্যকলার মিল পাওয়া যায়।

আরেকটি সূত্র জানায়,বর্তমানে যেখানে জেনারেল হাসপাতাল অবস্থিত, ঔ পাহাড়ে মগদের দুর্গ ছিল। মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেব আলমগীর এর শাসনামলে তাঁর নির্দেশে চট্টগ্রামের জনসাধারণকে বিশেষ করে নির্যাতিত, নিপীড়িত মুসলমানদের পর্তূগীজ জলদস্যূ ও আরাকানী মগদের নিষ্ঠুর লুন্ঠন ও অত্যাচার থেকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে তৎকালীন বাংলার শাসনকর্তা নওয়াব শায়েস্তা খাঁন তাঁর ছেলে উমেদ খানকে মগ লুটেরা ও পর্তূগীজ জলদস্যূদের কবল হতে চট্টগ্রামকে পুনরূদ্ধারের আদেশ দেন। এ আদেশের প্রেক্ষিতে উমেদ খাঁন ১৩ হাজার সৈন্যের এক বিশাল বাহিনী নিয়ে ফেনী নদী পার হয়ে বীর বিক্রম হুসেন বেগের সহায়তায় চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লায় প্রবেশ করেন এবং শত্রু সৈন্যদের পরাজিত ও বিতাড়িত করেন। সম্রাট আওরঙ্গজেব এই মহান বিজয়ের সংবাদ পেয়ে খুবই খুশী হন। ঐ সময় (২৭-০১-১৬৬৭ খ্রি: তারিখ) হতে চট্টগ্রামে মুসলমান রাজত্বের সূচনা হয় এবং এক শাহী ফরমানে চট্টগ্রামের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘‘ইসলামাবাদ’’। সম্রাটের নির্দেশে এই মহান বিজয়ের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য উমেদ খাঁন হিজরী ১০৭৮ সালে (১৬৬৭ খ্রি:) ‘আন্দরকিল্লা শাহী মসজিদ’ প্রতিষ্ঠা করেন। নিরাপত্তা পায় মুসলিমরা, সুরক্ষিত হয় ইসলাম।






মন্তব্য চালু নেই