মেইন ম্যেনু

ওদের প্রত্যয় দুর্যোগে ক্ষতি কমিয়ে আনা

দুর্যোগ প্রবণ বর্তমান বিশ্বের আলোচনা ও শঙ্কার অন্যতম বিষয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা। উন্নত দেশগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ২০ শতাংশ হ্রাস পাচ্ছে দুর্যোগের কারণে। উন্নয়নশীল দেশের ৯৫ শতাংশ মানুষের মৃত্যুর কারণও দুর্যোগ। বর্তমান বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত উন্নয়নশীল বাংলাদেশেও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বর্তমানে ব্যাপক সম্প্রসারিত একটি বিষয়।

সরকারি ও বেসরকারিভাবে নানা উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে দুর্যোগ মোকাবেলা এবং দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনার।সাধারণ মানুষের মাঝে সৃষ্টি করা হচ্ছে দুর্যোগ মোকাবেলায় সচেতনতা।এরই পথ ধরে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু করা হয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ। যা সারাদেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে দ্বিতীয়।

ইউএনডিপির আওতাধীন কম্প্রিহেনসিভ ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম বা সিডিএমপি’র সহায়তায় চালু হয় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা বিভাগ। দুইজন শিক্ষক এবং ৬৫ জন শিক্ষার্থী নিয়ে ২০১২ সালে ২১ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে এই বিভাগ। বর্তমানে ছয়জন শিক্ষক ও প্রায় ২৫০জন শিক্ষার্থী নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা বিভাগ ।

এই বিভাগে রয়েছে একটি অত্যাধুনিক ই-লার্নিং সেন্টার। যেখানে বিভিন্ন ধরনের বইসহ আধুনিক পদ্ধতিতে শিক্ষা গ্রহণের সব ধরনের উপকরণ রয়েছে। দুর্যোগে ঝুঁকিহ্রাস ও দুর্যোগ মোকাবেলা করার মূল উদ্দেশ্য নিয়ে বিষয়ভিত্তিক বিভিন্ন বিষয় তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক পদ্ধতিতে পাঠদান করা হয় এই বিভাগে।

সম্মান শ্রেণীতে প্রতি বছরেই থাকে পাঠ্যসূচীর আওতাধীন শিক্ষা সফর। এই সফর হয় বিভিন্ন দুর্যোগপ্রবণ এলাকায়। শিক্ষার্থীরা এসব এলাকা পরিদর্শন করে মানুষের জীবনযাত্রা, তাদের দুর্যোগের পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও তাদের দুর্যোগ মোকাবেলার বিভিন্ন ধরনের পদ্ধতি সম্পর্কে জেনে জ্ঞান অর্জন করতে পারে।

গতানুগতিক একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি এসব শিক্ষা সফর শিক্ষার্থীদের মনে পড়াশোনার প্রতি আকর্ষণ বাড়িয়ে তোলে। যা শিক্ষার পাশাপাশি বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম হিসেবেও কাজ করে। এছাড়াও এই বিভাগের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে নিজেদের নিয়োজিত করছে। এর মধ্যে অসহায় ও দুঃস্থ লোকদের শীতবস্ত্র বিতরণ, দুর্যোগ আক্রান্ত অসহায় লোকদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অন্যতম।

দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষকরাও পিছিয়ে নেই। উচ্চশিক্ষার জন্য তাদের অনেকেই বিভিন্ন দেশে অধ্যয়নরত আছেন। সুযোগ পেলেই তারা দেশে ফিরে নিজেদের অর্জিত জ্ঞান দিয়ে সমৃদ্ধ করেন শিক্ষার্থীদের।






মন্তব্য চালু নেই