মেইন ম্যেনু

ওরা আসবে, চুপি চুপি

‘ওরা আসবে, চুপি চুপি, যারা এ দেশটাকে ভালোবেসে দিয়ে গেছে প্রাণ’- আহ, কি গানের গলা সাবিনা ইয়াসমিনের! এত সুরেলা কন্ঠে দেশের গান শুনলে প্রেম না জেগে যাই কই। না জানি কোন দিবস উপলক্ষে এ দেশপ্রেম বিতরণ চলছে? কিন্তু একি, দু লাইন সাবিনার পর এ ভারিক্কি কন্ঠ কার?

গানের বদলে ভেসে আসছে, মলম পার্টি থেকে সাবধান, অজ্ঞান পার্টি থেকে সাবধান। অচেনা লোকের কাছ থেকে কিছু খাবেন না।

গত কয়েকদিন ধরে এভাবেই বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র মতিঝিলে কুখ্যাত অজ্ঞান-মলম পার্টি বিরোধী জনসচেতনতামূলক প্রচারণায় মাইকিং করছে শাহজাহানপুর থানা।

প্রচারণা শুনে প্রথমবার ভড়কে গিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম দেশ উদ্ধারে নিয়োজিত আধা পেশাজীবী আধা রাজনৈতিক কোনো হাইব্রিড সংগঠন মাসব্যাপী শোক পালন অথবা সুখ উদযাপন করছে। কিন্তু পুরোটা শুনে ভুল ভাঙতে আর বাকি রইল না। বাঙালী হিসেবে নন্দের ঘাঁড়ে দোষ চাপানোর চিরাচরিত অভ্যাসও নিজের মাঝে টের পেলাম। তাই প্রায়শ্চিত্ত করতে এগিয়ে গেলাম প্রচার গাড়ির কাছে।

প্রচারে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য জানালেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে প্রায় এক মাস ধরে এ ধরনের প্রচারণা চালানো হচ্ছে। মূলত জনসচেতনতা তৈরির জন্যই এ প্রচারণা।

তিনি জানান, মাইকিংয়ের পাশাপাশি লিফলেটেও অজ্ঞান-মলম পার্টি বিরোধী প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এই প্রচারণা চলছে। সাধারণ মানুষকে ঘিরে অজ্ঞান-মলম পার্টির কোন অঘটন ঘটানোর পরিকল্পনা ঠেকাতে এ প্রচারণা কিনা জানতে চাইলে তিনি কিছু জানতে পারেননি।

তবে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে শাহজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, শাহজাহানপুর থানা এলাকার মধ্যে রেলস্টেশন থেকে শুরু করে বহু বাস টার্মিনাল রয়েছে। সেখানে প্রতিদিন গ্রাম থেকে অনেক সহজ সরল লোকজন ঢাকায় আসেন। তাদেরকে সচেতন করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্যে।

ডিএমপির সব এলাকায় এ ধরনের প্রচারনা চলছে বলেও জানান তিনি।

সাধারণত ঈদের আগে রাজধানীতে অজ্ঞান পার্টি-মলম পার্টির তৎপরতা বেড়ে যায়। এরা চুপি চুপি এসে কথার মধুতে ভাব জমিয়ে গরু ব্যবসায়িসহ সাধারণ মানুষের সর্বস্ব লুটে নিয়ে পালায়। এই বেড়ালদের ধরতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরও নাকানি-চুবানি খেতে হয়।

তাই কানের উপর নির্যাতন হলেও সন্দেহ নেই যে এটা একটা ভালো উদ্যোগ। কারও কানের বদলে কারও জান যদি বেঁচে যায় তাতে ক্ষতি কি? তবে দেশে মলম পার্টির উৎপাত যেভাবে বাড়ছে তাতে এ ধরনের প্রচারণার পরও শঙ্কা কতটুকু সেটাই দেখার বিষয়।






মন্তব্য চালু নেই