মেইন ম্যেনু

ওষুধ ছাড়াই আপনার ক্ষুধা কমিয়ে আনবে যেসব খাবার

ওজন কমবে আবার স্বাস্থ্যেরও ক্ষতি হবে না, এমন ওষুধ যদি থাকতো! ওষুধ না থাকলেও এমন কিছু খাবার আপনি খেতে পারেন যেগুলো আপনার রাক্ষুসে ক্ষুধা কমিয়ে রাখবে, ফলে ওজন অতিরিক্ত বাড়া বন্ধ হয়ে যাবে। যারা খাওয়া কমাতে পারেন না, ওজন কমাতে সাধারণত তাদের বেশ সমস্যা হয়। ডায়েটিশিয়ান জুলি আপটন, এমএস, আরডি, বিজ্ঞানের সহায়তায় ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যাপারে আলোচনা করেন। সাম্প্রতিক গবেষণা থেকে তিনি বের করে নিয়ে আসেন কী কী খাবার খেলে ক্ষুধা কম থাকবে।

১) আপেল

আপেল খেলে যে রোগবালাই কম হয় এটা পশ্চিমা সংস্কৃতির একটা বড় অংশের মানুষ বিশ্বাস করেন। শুধু যে আপেলে অনেকটা ফাইবার আছে তাই নয়, বরং এতে আছে আরসোলিক এসিড, যা ফ্যাট পুড়িয়ে পেশীর পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করে। আইওয়া ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় ইঁদুরের ওপর পরীক্ষায় আরসোলিক এসিডের এই কার্যকারিতার প্রমাণ পাওয়া যায়। মানুষের ওপর করা আরেক গবেষণায় দেখা যায়, যেসব নারী প্রতিদিন তিনটি করে আপেল যোগ করেন নিজেদের খাদ্যভ্যাসে, তাদের ১০ সপ্তাহের মাঝে দুই পাউন্ড ওজন কমানো সহজ হয়ে যায়।

মাঝারি আকৃতির একটি আপেলে ৯৫ ক্যালোরি এবং ৬ গ্রাম ফাইবার থাকে। উপকার পেতে আপেলের খোসা সহই খাবার চেষ্টা করুন। কারণ আরসোলিক এসিড সহ অন্যান্য উপকারী উপাদান থাকে এর ত্বকে।

২) ডাল এবং শিমজাতীয় খাবার

শিম, মটরশুঁটি, এবং ডালজাতীয় সব খাবারগুলোতে প্রচুর ফাইবার থাকে, এগুলোতে থাকা প্রোটিন ধীরে ধীরে হজম হয় এবং এদের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম তাই ব্লাড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে থাকে। এসব কারণে এগুলো খেলে অনেক বেশি সময় ধরে ক্ষুধা দূর হয়। ওবেসিটি জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা যায়, যারা মোটামুটি এক কাপ পরিমাণ ডালজাতীয় শস্য খেয়ে থাকেন, অন্যদের চাইতে তাদের ক্ষুধা কম হয়। আরেকটি গবেষণায় দেখা যায়, ডালজাতীয় খাবার খাওয়ার ফলে অতিরিক্ত ওজনের মানুষের ওজন কমানো সহজ হয়।

৩) ডিম

বেশীরভাগ মানুষই মনে করেন ডিম খেলে ওজন বাড়বে। কিন্তু ব্রেকফাস্টে প্রোটিন খেলে শরীরে ক্ষুধার হরমোন গ্রেলিন কমে। European Journal of Clinical Nutrition এর এক গবেষণায় দেখা যায় ডিমের মতো প্রোটিনযুক্ত খাবার ব্রেকফাস্টে খেলে সারাদিনে খাওয়া কম হয়। ব্রেকফাস্টে অন্য কিছু খাওয়ার চাইতে ডিম খাওয়াটা স্বাস্থ্যকর।

৪) ঘন টক দই বা গ্রিক ইয়োগার্ট

এটা আমাদের দেখে খুব একটা পাওয়া যায় না বটে। তবে ইউরোপীয় ধাঁচের এই টক দই খাওয়ার অভ্যাসটা ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। এতে থাকা প্রোটিন, ক্যালসিয়াম এবং প্রোবায়োটিকস আপনার জন্য স্বাস্থ্যকর। কোনো রকমের চিনি বা ফ্লেভারিং ছাড়াই গ্রিক ইয়োগার্ট সবচাইতে ভালো।

৫) আম

আমের মতো মজাদার ফলটা কী করে ক্ষুধা কমাতে সহায়ক? The Journal of Nutrition and Food Sciences এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, আম খাওয়ার ফলে ওজন কমে এবং ডায়েট থেক এবেশি সুবিধা পায়। এতে অন্যান্য উপাদানের পাশাপাশি আছে ম্যাঞ্জিফেরিন যা শরীরের ফ্যাট কমায় এবং ব্লাড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে থাকে। এক কাপ কাটা আমে আছে ১০০ ক্যালোরি এবং ৩ গ্রাম ফাইবার।

৬) পেস্তা এবং অন্যান্য বাদাম

বাদামে ক্যালোরি বেশি থাকা সত্ত্বেও (এক আউন্সে ১৬০ থেকে ১৭০ ক্যালোরি) এগুলো ওজন কমিয়ে শরীর ছিপছিপে করতে খুব উপকারী। এগুলো অনেক সময় ধরে পেট ভরা রাখতেও খুব কার্যকরী। যারা নিয়মিত বাদাম খান তারা এ ব্যাপারটা জানেন। এগুলো মেটাবলিজম বাড়াতেও সহায়ক।

৭) ধান অথবা গমের ছাতু

ছাতুর সিংহভাগটাই ফাইবার। আর ফাইবারে কোনো ক্যালোরি থাকে না বলে যারা ওজন কমাতে চান তারা ছাতু খেতে পারেন সহজেই, দুই টেবিল চামচ ছাতু আপনার পেট ভরা রাখতে পারে ঘন্টাখানেকের মতো।
৮) গ্রিন টি

খাওয়ার আগে বা পরে গ্রিন টি পান করতে পারেন। এতে থাকা EGCG নামের এক ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট শরীরে CCK হরমোন বাড়ায়, ফলে পেট ভরা মনে হয়। প্রতিদিন গ্রিন টি পান করলে শরীরের ফ্যাট পোড়ানোর ক্ষমতা বাড়ে।

জেনে গেলেন তো কী কী খেলে ক্ষুধা কম থাকবে। এবার ক্ষুধা পেলে এসব খাবার খেয়ে নিন। দেখবেন অনেক বেশি সময় ধরে পেট ভরা থাকছে। বারবার এটাসেটা খেতেও ইচ্ছে করবে না। ফলে আপনার ওজন কমানোর কাজটা হয়ে যাবে অনেক বেশি সহজ।






মন্তব্য চালু নেই