মেইন ম্যেনু

ওয়াসার এমডিকে দুদকের দায়মুক্তি

শর্ত সাপেক্ষে দুর্নীতির অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেলেন ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাসকিম এ খান।

তার বিরুদ্ধে ওয়াসার পদ্মা জশলদিয়া পানি শোধনাগার প্রকল্পে সরকারের কমপক্ষে ৫০০ কোটি টাকার ক্ষতিসাধনের অভিযোগ রয়েছে।

তবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) থেকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়কে অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।

অন্যদিকে দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে ওয়াসার এমডির বিরুদ্ধে ওই অভিযোগ নথিভুক্তির (অব্যাহতি) মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। দুদকের একটি ঊর্ধ্বতন সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

দুদক সচিব আবু মো. মোস্তফা কামাল স্বাক্ষরিত আদেশপত্র সূত্রে জানা যায়, ওয়াসার এমডি তাসকিম এ খানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকারি বিভাগ বরাবর নির্দেশ প্রেরণ করা হয়েছে। প্রকল্পের এ পর্যায়ে দুদকের কিছু করণীয় না থাকায় নথিভুক্তির মাধ্যমে নথির কার্যক্রম নিষ্পত্তি হিসেবে গণ্য করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

দুদকে আসা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রকল্প এলাকায় জমি অধিগ্রহণ এবং পরামর্শক নিয়োগের আগে অনেকটা তড়িঘড়ি করে নিম্নমানের পাইপ আমদানি করেন ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খান। অসৎ উদ্দেশ্যে প্রকল্প অনুমোদনের ১৩ মাস আগেই তিনি ঢাকা ওয়াসার ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি সই করেন। ওই কাজের জন্য কোনো দরপত্র চাওয়া হয়নি, এমনকি ভেটিং (দর-কষাকষি) হয়নি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। এর ফলে সরকার ৫০০ কোটি টাকার ক্ষতির শিকার হবে।

অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, ভেটিংয়ের সুযোগ থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তা না করায় কমপক্ষে ৩৫০ কোটি টাকার ক্ষতি হবে। আর জমি অধিগ্রহণের আগেই বিদেশ থেকে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী (পাইপ) আমদানির জন্য ব্যয় হয়ে যাওয়া টাকার ওপর অতিরিক্ত সুদ গুনতে হবে প্রায় দেড় শ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে সরকারের বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীবাসীর বিশুদ্ধ পানির চাহিদা মেটাতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মুন্সীগঞ্জের পদ্মা (জশলদিয়া) পানি শোধনাগারটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ঢাকা ওয়াসার পদ্মা (জশলদিয়া) পানি শোধনাগার প্রকল্পের (ফেজ-১) ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ৩ হাজার ৫০৮ কোটি ৭৯ লাখ ১৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে ২ হাজার ৪২ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ঋণ হিসেবে দেবে চীনা এক্সিম ব্যাংক। বাকি অর্থ দেবে বাংলাদেশ সরকার ও ঢাকা ওয়াসা। সরকার ২০১৩ সালের ৮ অক্টোবর একনেকের বৈঠকে এ-সংক্রান্ত প্রকল্প অনুমোদন দেয়। পদ্মার জশলদিয়া পয়েন্টে এই শোধনাগার স্থাপন করা হবে। এখান থেকে পরিশোধিত পানি কেরানীগঞ্জ পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার জন্য বসানো হবে পাইপ। বুড়িগঙ্গা নদীর তলদেশ দিয়ে এই পাইপ নেওয়া হবে। এ জন্য জশলদিয়া পয়েন্ট এবং কেরানীগঞ্জ পর্যন্ত পাইপ বসানোর জন্য জমি প্রয়োজন হবে। এই জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু করেছে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সূত্র জানায়, ঋণের শর্তানুযায়ী প্রকল্পের মাঝামাঝি সময়ে চীন থেকে পাইপ কেনার কথা। কিন্তু ঢাকা ওয়াসা ঋণের শর্ত উপেক্ষা করে জমি অধিগ্রহণের চার মাস আগেই চীন থেকে পাইপ নিয়ে এসেছে। কাজ শুরু করার আগেই চীনা ব্যাংকের টাকায় পাইপ কেনায় সুদ গোনা শুরু হয়ে গেছে। অথচ ওয়াসার অধিগ্রহণ করা জমি বুঝে নিয়ে কনসালট্যান্ট নিয়োগ শেষে কাজ শুরু করতে কমপক্ষে এক বছর সময় দরকার। প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ শুরুর পর পাইপ আনার সুযোগ ছিল। কিন্তু আগে পাইপ আমদানির জন্য চায়না এক্সিম ব্যাংককে অতিরিক্ত দেড় শ কোটি টাকা সুদ দিতে হবে।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের মে মাসে অনুসন্ধানে নামে দুদক। এরই মধ্যে এ প্রকল্পে ব্যবহারের জন্য চীন থেকে আনা কে-৯ ক্লাস ডিআই পাইপের বিষয়ে বুয়েট আপত্তি করেছেন বলে দুদক সূত্রে জানা যায়। বুয়েট বলেছে, এই প্রকল্পের জন্য কে-১০ ক্লাস ডিআই পাইপ উপযুক্ত। অথচ আমদানি করা হয়েছে কে-৯ ক্লাস। বুয়েট থেকে এমন মতামত পাওয়ার পরপরই দুদক থেকে সরেজমিনে আরো বিশদ পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য এলজিআরডি মন্ত্রণালকে খতিয়ে দেখার জন্য অনুরোধ করা হয়।

ঢাকা ওয়াসার পদ্মা (জশলদিয়া) প্রথম থেকে প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন প্রকৌশলী এম এ রশিদ সিদ্দিকী। অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তাকে প্রকল্প থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও দুদকের উপপরিচালক শেখ আবদুস সালাম বলেন, ‘আমি কোনো ধরনের সুপারিশ করিনি। অভিযোগসংক্রান্ত ফাইল কমিশনে রয়েছে। এর বেশি কিছু বলতে পারব না।’

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুদকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রকল্পটি বর্তমানে চলমান রয়েছে। এই অবস্থায় দুদক থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে প্রকল্পকাজে স্থবিরতা দেখা যেতে পারে। তাই দুদক থেকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা নিয়ে কমিশনকে অবহিত করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগটি নথিভুক্তির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছে।’রাইজিংবিডি






মন্তব্য চালু নেই