মেইন ম্যেনু

মার্কেটে নিষিদ্ধ পণ্যের ছড়াছড়ি ॥ নিরব প্রশাসন

মোঃ আমান উল্লাহ, কক্সবাজার থেকে: কক্সবাজার শহরের ব্যস্ততম এলাকা বাজারঘাটা এবিসি সড়কে অবস্থিত জমজম মার্কেটে দীর্ঘদিন যাবৎ চিহ্নিত কতিপয় চোরাকারবারি অবৈধ পণ্য সামগ্রীর পাশাপাশি মাদকদ্রব্য ইয়াবার জমজমাট ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, শহরের এবিসি সড়কে অবস্থিত জমজম মার্কেটে চিহ্নিত কতিপয় ব্যক্তি বার্মিজ পন্য সামগ্রী ব্যবসার অন্তরালে অবৈধ আমদানী নিষিদ্ধ চোরাই পন্যের পাশাপাশি মাদকদ্রব্য ইয়াবার জমজমাট ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের নাকের ঢগায় ওই মার্কেটের কতিপয় সিন্ডিকেট ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন যাবৎ আমদানী নিষিদ্ধ চোরাই পন্যের ব্যবসা চালিয়ে গেলেও বিষয়টি আইন শৃংখলা বাহিনীর নজরে না পড়ার ঘটনা রহস্যজনক বলে প্রতিয়মান হচ্ছে।

প্রত্যেক্ষদর্শীদের অভিযোগে জানা গেছে প্রতিদিন ভোরে এবং সন্ধ্যার পর কতিপয় সন্দেহভাজন লোক সিএনজি যোগে জমজম মার্কেটে বস্তাবন্দি মালামাল আনা নেয়া করতে দেখা যায়। এসব অবৈধ মালামাল বহনকারীদের মধ্যে একদল চিহ্নিত হিজড়া এবং রোহিঙ্গা নারীসহ চোরাকারবারীরা জড়িত রয়েছে বলে জানা যায়। চোরাকারবারীরা আমদানী নিষিদ্ধ লুঙ্গি, থামি, থান কাপড়, আচার, কসমেটিক, লজেন্স, বাদাম, শক্তিবর্ধক টেবলেট, শোপিচ, পাম বড়ি, স্যাকনি, আতশবাজি, পলিথিন ও মাদকদ্রব্য ইয়াবা টেবলেটসহ বিভিন্ন প্রকার মদ মিয়ানমার সীমান্ত অতিক্রম করে কক্সবাজার শহরের ওই মার্কেটে সরবরাহ করে থাকে। ওই মার্কেটের জনৈক ভূলু ও সৈয়দ নামের দুই দোকানদার শক্তিশালী সিন্ডিকেট গতে তুলে নিষিদ্ধ ওইসব পন্য ক্রয় করে চোরাচালানের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে থাকে। ওই দুই ব্যক্তি জমজম মার্কেটে বার্মিজ পন্য সামগ্রী বেচাকেনার পাশাপাশির অন্তরালে দীর্ঘদিন যাবৎ আমদানী নিষিদ্ধ পণ্যসামগ্রী সহ মাদকদ্রব্য চোরাচালান করে আসছিল। প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে ওই দুই ব্যক্তি মাসে অর্ধকোটি টাকার আমদানী নিষিদ্ধ চোরাই পন্য ও মাদকদ্রব্য চোরাই পথে সরবরাহ করে আসছে বলে অভিযোগে প্রকাশ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভূক্তভোগী কয়েকজন ব্যবসায়ীর অভিযোগ, সম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সংস্থার কতিপয় কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে ওই দুই ব্যক্তি দাপুটের সাথে চোরাই পন্য এবং মাদকদ্রব্য ইয়াবা টেবলেট বেচাকেনার সাথে প্রত্যেক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছে। এতে করে ওই মার্কেটের অন্যান্য দোকানদারদের ব্যবসা লাটে উঠেছে বলে জানান তারা।

তারা আরও জানান, টেকনাফ সীমান্ত এলাকা দিয়ে ওই মার্কেটে চোরাইপন্য সরবরাহকারীদের মধ্যে রয়েছে নুরুনী, বাবুল, নুরুল কবির, ধইল্ল্যা, জোবায়ের, ছমনি, দিলু, মাধুরী, শিউলী, রশিদা, পুতুবী, লালুবুড়ি, আনু, মোহছেনা, কালছড়া, এলমবাহার, রানছড়া, সুজনি, জোহরা, আবু কালাম, রোজিনা সহ আরো অনেকে। ওইসব নারী পুরুষদের আনিত চোরাইপন্য গুলো পাচারে যারা নিয়ন্ত্রন করে তাদের মধ্যে রয়েছে ছৈয়দ, ছলিমুল্লাহ, কালাম, ইছাক সওদাগর, রাশেদ, সিরাজ ও হাশেম সওদাগর। টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে বিভিন্ন উপায়ে চোরাই পথে আনিত এসব মালামাল গুলো জমজম মার্কেটে আনার পর ভূলু ও ছৈয়দের নেতৃত্বে হাত বদল করে আর একটি শাক্তিশালী সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দেয়। ওই গ্র“প চোরাইপন্য গুলো চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌছে দেয়ার দায়িত্ব পালন করেন তারা হচ্ছেন- গিয়াস, আকবর হাজী, লেবার হাশেম, ক্যাছিংগা, টিপু ও শরীফ।

এ ব্যাপারে স্থানীয় সচেতন মহল সংশ্লিষ্ট আইন শৃংখলা বাহিনী ও ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অভিযোগ পরিচালনা করে অপরাধীদের গ্রেফতার পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই