মেইন ম্যেনু

কক্সবাজার সৈকতে হটাৎ ভেসে এল কিশোরীর লাশ

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের কলাতলী পয়েন্ট থেকে আজ শনিবার সকালে এক কিশোরীর লাশ উদ্ধার করেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। এদিকে একই স্থানে গতকাল শুক্রবার স্রোতের টানে ভেসে যাওয়া ১২ বছরের এক শিশুর এখনো সন্ধান মেলেনি।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি বলেন, সৈকতের কলাতলী পয়েন্টে আজ সকাল ১০টায় আনুমানিক ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীর লাশ ভেসে আসে। তার পরনে ছিল টিয়া রঙের প্যান্ট ও খয়েরি রঙের বোরকা। তবে এ পর্যন্ত তার পরিচয় পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি কক্সবাজার সদর মডেল থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সৈকতে নিখোঁজ পর্যটকদের উদ্ধার তৎপরতায় নিয়োজিত ‘সি সেইফ লাইভ গার্ড’-এর ব্যবস্থাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, সকাল সাড়ে আটটার দিকে বোরকা পরা এক কিশোরীকে কলাতলী সৈকতে নামতে দেখেছেন বিচ-কর্মীরা। বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগর তখন প্রচণ্ড উত্তাল ছিল। তা ছাড়া এ সৈকতে গোসলে নামা নিষিদ্ধ। এক ঘণ্টা পর তার লাশ সৈকতে ভেসে আসে। সৈকত পরিচ্ছন্নতার দায়িত্বে থাকা নারী কর্মীরা লাশ দেখে সি সেইফ লাইফ গার্ডকে খবর দেন। এ পর্যন্ত তরুণীর সঙ্গে আসা কাউকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসলাম হোসেন বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। দুপুর ১২টা পর্যন্ত তাঁর পরিচয় মেলেনি। কিশোরীর শরীরে জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ কোনো কারণে মেয়েটি আত্মহত্যা করেছেন, নাকি কেউ সৈকতে নিক্ষেপ করেছে, তা অনুসন্ধান করছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ জানায়, বৈরী আবহাওয়ার কারণে সমুদ্র প্রচণ্ড উত্তাল। তাই জোয়ার-ভাটা হিসাব করে পর্যটকদের গোসলে নামা উচিত। গতকাল শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে গোসলে নেমে নিখোঁজ হয় মোহাম্মদ শিহাদ (১২) নামের এক শিশু। শিহাদ শহরের বৈদ্যঘোনা এলাকার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শফিকের ছেলে। শিহাদ শহরের বদরমোকাম মসজিদ-সংলগ্ন এমদাদিয়া মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র।

নিখোঁজ শিহাদের মামা মোহাম্মদ সেলিম বলেন, গতকাল দুপুর ১২টার দিকে শিহাদ তার পাঁচজন বন্ধুর সঙ্গে সৈকতে ফুটবল খেলতে যায়। সমুদ্রে তখন ভাটা চলছিল। এ সময় বল আনতে গিয়ে শিহাদ স্রোতে ভেসে যায়। এখনো তার সন্ধান মেলেনি।

সি সেইফ লাইফ গার্ডের তত্ত্বাবধায়ক সাইফুল্লাহ সিফাত বলেন, জোয়ার-ভাটার হিসাব না করে অনেকে সমুদ্রে নেমে বিপদে পড়ছেন। সৈকতের লাবণী পয়েন্টে গোসলের জন্য নির্ধারিত থাকলেও অনেকে কলাতলী, সুগন্ধাসহ বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে গোসলে নামছেন। গত পাঁচ দিনে স্রোতে ভেসে যাওয়ার সময় অন্তত ৪৫ জনকে উদ্ধার করে প্রাণে বাঁচানো হয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই