মেইন ম্যেনু

বরিশালের প্রশাসন বারবার চেষ্টা করেও ধরতে পারছে না

কখনও জ্বিনের বাদশা আবার কখনও প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা পরিচয় করছে প্রতারনা

বিভিন্ন নাম্বারে ফোন দিয়ে কখনও তিনি হয়ে যান কতিথ জ্বিনের বাদশা। জটিল ও কঠিন রোগব্যধি নিরাময়সহ আপদ-বিপদ কাটানোর ফাঁদে ফেলে প্রতারনার মাধ্যমে নিরিহ জনসাধারনের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। আবার কখনও মোবাইল ফোনে প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা পরিচয়ে মিথ্যে তথ্য দিয়ে হয়রানী করছেন দেশের বিভিন্ন থানার ওসি এবং এস.আই’দের। ইতোমধ্যে ওই দলের দু’সদস্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়ে কারাভোগ করলেও কতিথ জ্বিনের বাদশা রহিম সরদার (৪৮) রয়ে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

জানা গেছে, প্রতারক রহিম সরদারের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার সকালে র‌্যাব ৮ সহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বরিশালের গৌরনদী উপজেলার টরকীরচর এলাকায় ভুক্তভোগী দু’শ পরিবারের সদস্যরা। অভিযোগে জানা গেছে, একসময়ের বেঁদে সর্দার আব্দুর রহিমের তত্ত্বাবধানে নৌকায় বসবাস করতো গত ১০ বছর থেকে টরকীরচরে স্থায়ী বসবাস করা প্রায় দু’শতাধিক বেঁদে পরিবারের সদস্যরা।

সেই থেকে অদ্যাবধি বহরের মাত্র ২০টি পরিবার নিয়ে মৃত সেকান্দার সরদারের পুত্র রহিম সরদার ঝালকাঠী সদরের কৃষ্ণকাঠী গ্রামে বসবাস করে আসছেন। অভিযোগে আরও জানা গেছে, দু’ভাগে বিভক্ত হওয়ার পর থেকেই বেরিয়ে আসতে থাকে রহিম সরদারের নানা কু-কর্মের কাহিনী। তার এসব অপর্কমের তথ্য ফাঁস করায় ইতোমধ্যে ১২টি মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয় টরকীরচর এলাকায় স্থায়ী বসবাস করা বেঁদে সম্প্রদায়ের বাসিন্দাদের। সূত্রমতে, মাদক বিক্রির স্বর্গরাজ্য, জ্বিনের বাদশা পরিচয়ে জটিল ও কঠিন রোগব্যধি নিরাময়সহ আপদ-বিপদ কাটানোর নামে প্রতারনার মাধ্যমে নিরিহ জনসাধারনের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার প্রতিবাদ করার কারনেই ওই বেঁদে সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।

যেকারনেই তারা দু’দলে বিভক্ত হয়ে পড়ে। একসময়ের বেঁদে সর্দার আব্দুর রহিম মাত্র কয়েক বছরের ব্যববধানে প্রতারনার মাধ্যমে হয়েছেন কোটিপতি। নৌকার বহর ছেড়ে এখন তিনি বসবাস করেন সুরম্য অট্টলিকায়। তার দলে রয়েছে প্রশিক্ষিত ২২জন নারী ও পুরুষ। অভিযোগে জানা গেছে, অতিসম্প্রতি কতিথ জ্বিনের বাদশা রহিম একটি মসজিদের ইমামকে প্রতারনার মাধ্যমে চিকিৎসা প্রদান করে মোটা অংকের টাকা দাবি করে। তার দাবিকৃত টাকা আনতে গিয়ে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে কারাভোগ করছেন তার (রহিমের) সহযোগী সাদ্দাম ও শাহাদাত সরদার।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, দেশের যেকোনস্থানে টরকীরচর এলাকার বেঁদে পল্লীর সদস্যরা কাজে গেলে সু-চতুর রহিম সরদার সংশ্লিষ্ট থানার ওসি থেকে শুরু করে এস.আই’দের কাছে মোবাইল ফোনে নিজেকে প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে মিথ্যে তথ্য দিয়ে হয়রানী করে আসছে। টরকীরচর এলাকার স্থায়ী বেঁদে পল্লীর একাধিক বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, রহিম সরদারের সাথে একত্রে (১০ বছর পূর্বে) নৌকার বহরে থাকাকালীন সময় জেএমবির সদস্যরা ছদ্মবেশে তাদের নৌকায় এসে দীর্ঘদিন বসবাস করতো। বহরের সর্দারের (রহিম) সাথে ওইসব ব্যক্তিদের (জেএমবির সদস্যদের) গভীর সখ্যতা থাকার কারনে তারা কখনও প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাননি।

এখনও জেএমবির সদস্যদের সাথে রহিম সর্দারের গভীর সখ্যতা রয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেন। এছাড়া সংঘবদ্ধ কষ্টি পাথরের মুর্তি পাচারকারীদের সাথেও রয়েছে রহিম সরদারের সখ্যতা। ২০১০ সাল পর্যন্ত তিনি (রহিম) ঝাঁড়ফুকের কাজ করলেও অবৈধ অর্থে আজ সে দেশের বিভিন্ন এলাকায় চারতলা বিশিষ্ট সুরম্য অট্টালিকা নির্মান করেছেন। তার এসব অপকর্মের প্রত্যক্ষ সহযোগীতা করে আসছে লিটন, সালাম, শরিফুল, সামচুল হক, জামাল, সেলিম ও সুমন সরদার।

এসব ঘটনায় বিভিন্ন মাধ্যমে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জানিয়েছেন। একাধিকবার র‌্যাব সদস্যরা রহিম সরদারকে আটকের জন্য অভিযান চালিয়েও তাকে আটক করতে পারেননি। রহিম সরদারের কাছে রয়েছে দেশের প্রতিটি থানার মোবাইল নাম্বার। তার দলের কোন সদস্যকে আটক করা হলে তিনি (প্রতারক রহিম সরদার) নিজেকে ডিসি, এসপি কিংবা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তাদের ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন। একজন বেঁদে সর্দার থেকে প্রতারনার মাধ্যমে কোটিপতি হওয়ার সঠিক তদন্ত করলেই মূলরহস্য বেরিয়ে আসবে বলেও ভূক্তভোগীরা উল্লেখ করেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আব্দুর রহিম সরদারের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, টাকা পয়সা আল্লাহতায়ালার দান, যখন যাকে ধরা দেবে তখন সেই মালিক হবেন। অন্যকোন প্রসঙ্গে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।






মন্তব্য চালু নেই