মেইন ম্যেনু

কখন আপনার মৃত্যু হবে তা নির্ভর করছে কোন সময়ে আপনি ঘুম থেকে উঠছেন…

প্রতিটা মানুষের ঘুমের একটা নিজস্ব অভ্যাস থাকে। আমরা প্রত্যেকেই নিজেদের সুবিধামতো একটা নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমোতে যাই, এবং ঘুম থেকে উঠি। এবং কিছুদিন এমনটা চলার পর দেখা যায়, রাত্রে একটা নির্দিষ্ট সময়ের আগে আমাদের ঘুম আসে না, এবং সকালে একটা নির্দিষ্ট সময়ের পরে আমরা আর ঘুমোতে পারি না। বিজ্ঞানীরা এই বিষয়টিকেই বলেন বডি ক্লক, অর্থাৎ শরীরের অভ্যন্তরীণ ছন্দ। শরীর নিজের অজান্তেই এই অদৃশ্য ঘড়ি মেনে সমস্ত ক্রিয়াকর্ম সম্পাদন করে থাকে। ঘুম আসা এবং ঘুম থেকে ওঠার কাজটাও এই ঘড়ি মেনেই হয়ে থাকে। খেয়াল করলে দেখা যাবে, আমাদের খিদেও দিনের কিছু নির্দিষ্ট সময়েই পায়। এটাও ঘটে থাকে ওই বডি ক্লক অনুসারে।

কিন্তু কী হবে আপনার প্রতিক্রিয়া যদি আপনাকে বলা হয় যে, আপনার মৃত্যুর সময়টাও ওই বডি ক্লক অনুসারেই নির্ধারিত হতে চলেছে। বিস্মিত হবেন নিশ্চয়ই, কিন্তু বিষয়টি একেবারে উড়িয়ে দিতেও হয়তো পারবেন না, কারণ এই দাবি করছেন খোদ হার্ভার্ড মেডিকাল স্কুলের একদল গবেষক।

ওই গবেষকদলের প্রধান অ্যান্ড্রু লিম জানান, ‘মানবশরীর সঞ্চালিত হয় শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ির দ্বারা। এই বডি ক্লকই শরীরের প্রতিটি অনৈচ্ছিক কাজ নির্ধারণ করে। অর্থাৎ যে কাজগুলি আমরা স্বেচ্ছায় বা সচেতনভাবে করি না, সেগুলি এই বডি ক্লক মেনেই শরীর করে থাকে। এবং আমাদের গবেষণা বলছে, মানুষের মৃত্যুর সময়টাও যেহেতু তার নিজের হাতে নেই, সেহেতু সেই সময়টাও নির্ধারিত হয় বডি ক্লকের দ্বারা।’

দলের আর এক বিজ্ঞানী শোধাকার্তোঁর বক্তব্য, আমাদের শরীরের প্রতিটা কাজই একটা নির্দিষ্ট ছন্দ মেনে হয়ে থাকে। সেই ছন্দের শেষ ঝোঁকটি পড়ে মৃত্যুতে। তাই সেটাও এই ছন্দেরই অঙ্গ।

নিজেদের দাবির সপক্ষে ওই বিজ্ঞানীরা পেশ করছেন তাঁদের সমীক্ষালব্ধ তথ্য। তাঁদের বক্তব্য, যেসব মানুষের উপর সমীক্ষা চালানো হয়েছিল, তাঁদের অধিকাংশেরই ১১টার কাছাকাছি সময়ে মৃত্যু হয়েছিল। এবং এঁরা মোটামুটি এই সময়টাতেই ঘুম থেকে উঠতে অভ্যস্ত ছিলেন।

অর্থাৎ বিজ্ঞানীরা বলতে চাইছেন, যাঁর যে সময় ঘুম থেকে ওঠা অভ্যাস, মোটামুটি সেই সময়েই তাঁর মৃত্যু হবে। তবে হার্ভার্ড মেডিকাল স্কুলের গবেষকরা অবশ্য এটাও জানিয়েছেন যে, এই বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মতো সময় এখনও আসেনি। গবেষণা এখনও বাকি রয়েছে। সেটা সম্পূ্র্ণ হওয়ার পরেই শেষ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা সম্ভব।






মন্তব্য চালু নেই