মেইন ম্যেনু

কখন জিডি করা জরুরী

জিডি হলো সাধারণ ডায়েরি বা কোন সাধারণ বিবরণ সম্পর্কে থানাকে অবগত করা, যাতে থানা কর্তৃপক্ষ আপনাকে আইনগত সুরক্ষা দিতে বা সম্ভাব্য অপরাধটি সংঘটিত হওয়ার আগেই ব্যবস্থা নিতে পারে। স্ংক্ষুব্দ যেকোন ব্যক্তি থানায় জিডি করতে পারবেন।

বিভিন্ন কারণে জিডি করা হয়। মূল্যবান যে কোনো জিনিস হারালে যেমন- সার্টিফিকেট, দলিল, লাইসেন্স, পাসপোর্ট, মূল্যবান রশিদ, চেকবই, এটিএম বা ক্রেডিট কার্ড, স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ, কোনো প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, পরিচয়পত্র, শিক্ষাসংক্রান্ত সনদ ইত্যাদি। হারানো ডকুমেন্টের জন্য জিডি করার কোন বাধ্যবাধকতা না থাকলেও আপনার সুরক্ষার জন্য বিষয়টি জিডি করা জরুরী। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকলে তা থানায় লিখিত আকারে জানালে পুলিশ এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারে।

কি ঘটনায় আপনি জিডি করবেন এটা ভালভাবে না বুঝে যে কোন বিষয়ে (গুরুতর অপরাধের ঘটনাও) জিডি করতে চাই অনেকে। সাধারণত যেসব ক্ষেত্রে মামলা হয় না সেসব ক্ষেত্রেই থানায় জিডি করা যায়। কোনো প্রকার হুমকি পেলে বা হুমকির আশংকা থাকলে যেমন কেউ ভয় বা হুমকি দিলে, নিরাপত্তার অভাব বোধ কিংবা কেউ নিখোঁজ বা পালিয়ে গেলও জিডি করা জরুরী|

শুধু তা-ই নয়, কোনো ব্যক্তি বা তাঁর পরিবারের সদস্যের বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনের আশঙ্কা থাকলে জিডি করা জরুরী। এ ছাড়া কেউ কারও সম্পদের ক্ষতি করলে জিডি করা উওম। কেননা সন্দেহভাজন কোনো ঘটনা ঘটার আশঙ্কায় বা হারানো কিছুর জন্য জিডি করা হলে ওই ঘটনা ঘটার পর দোষী ব্যক্তিকে শনাক্তকরণে বা হারানো জিনিস খুঁজে পেতে এবং আইনি সহায়তা নিতে জিডির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

জিডি করার ক্ষেত্রে সাধারণত ঘটনাস্থলকেই প্রাধান্য উচিত। যে এলাকায় ঘটনা ঘটেছে বা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে, সে এলাকার থানাতেই জিডি করা উচিত।

না হলে আইনি সহায়তা পেতে ঝামেলা পোহাতে হয়। জিডি করতে যেকোনো পরামর্শের জন্য থানার ডিউটি অফিসার বা অফিসার ইনচার্জ সাহেবের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। জিডি করতে হয়ে এ-ফোর সাইজের কাগজে দরখাস্ত আকারে।

দরখাস্তের সর্ব প্রথমে সংশ্লিষ্ট থানার অফিসার ইনচার্জ কে সম্বোধন করে এবং থানার নাম ও ঠিকানা লিখতে হবে। বিষয় হিসেবে উল্লেখ করতে হবে যে ব্যাপারে জিডি করতে চান তার নাম, যেমন হারানোর ব্যাপারে লিখতে পারেন, হারানো সংবাদ সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন। কিছু হারিয়ে গেলে তার বিস্তারিত বিবরণ এবং পারলে তার কোন নমুনা, যেমন ছবি দরখাস্তের সঙ্গে সংযুক্ত করবেন।

অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কা করলে জিডিতে আশঙ্কার কারণ উল্লেখ করতে হবে। ঘটনার সংটনের তারিখ ও সময় এবং স্থান অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে। যার বিরুদ্ধে সাধারণ ডাইরী করবেন তার/তাদের নাম ঠিকানা, সাক্ষী থাকলে তাদের নাম, পিতার নাম ও পূর্ণ ঠিকানা উল্লেখ করতে হবে।

অপরাধী অপরিচিত হলে তাদের শনাক্তকরণের বর্ণনা দিতে হবে। জিডি নথিভুক্ত করে বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন করতে হবে। যদি কোনো বিষয়ে এখনই কোন মামলা না করতে চান, তাহলে জিডিতে স্পষ্ট করে উল্লেখ করে দিতে হবে যে এ বিষয়ে আপাতত কোনো মামলা করবেন না।

তবে মনে রাখবেন, পুলিশ যদি মনে করে যেকোনো মারাত্মক অপরাধ ঘটেছে, তাহলে জিডি থেকেও মামলা হতে পারে। সর্বশেষ জিডিকারীর নাম, স্বাক্ষর, পিতার নাম, পূর্ণ ঠিকানা, মোবাইল নম্বর ও তারিখ লিখতে হবে।

বর্তমানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রতিটি থানায় জিডি করার জন্য একটি ফরম রয়েছে। যা আপনি সহজেই পূরণ করে নিজেই জিডি করতে পারেন। আপনি যদি লিখতে না পারেন, ডিউটি অফিসারকে লিখে দিতে অনুরোধ করুন।

জিডি দুই কপি করতে হবে। এক কপিতে জিডি নম্বর, তারিখ এবং অফিসারের স্বাক্ষর ও সিল লাগিয়ে আপনাকে প্রদান করা হবে। জিডিটি যদি তদন্তযোগ্য বিষয়ে হয়, তবে জিডির তদন্তকারী অফিসারের সাথে যোগাযোগ রাখুন। তদন্তকারী অফিসার সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি আমলে নিয়ে অপরাধটি প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেবে এবং কী ব্যবস্থা নিচ্ছে, তা আপনাকে অবহিত করবে।

থানায় না যেয়ে ঘরে বসে অনলাইনে নির্ধারিত ফরম পূরণ করে আপনি নিজেই সাধারণ ডাইরী করতে পারেন। বতমানে শুধু ঢাকা মেট্রোপলিটনের সব থানার আওতায় বসবাসকারীরা এ সুযোগ পাচ্ছেন। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ওয়েবসাইট এর ঠিকানায় প্রবেশের পর প্রধান পৃষ্ঠার ব্যানারের নিচেই দেখতে পাবেন Citizen Help Request নামের একটি ট্যাব। এই ট্যাবে ক্লিক করলে চলে আসবে আলাদা একটি পাতা। পাতার শুরুতেই অনলাইনে সাধারণ ডায়েরি নিয়ে কিছু বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। নিচের অংশে রয়েছে তথ্য দেওয়ার তালিকা। এই তালিকা থেকে আপনি যে ধরনের সাধারণ ডায়েরি করতে চান তা নির্বাচন করুন। নির্বাচনের মাধ্যমে পরবর্তী পাতায় আপনি পাবেন ডায়েরি করার ফরম। ফরম পূরণের শুরুতে আপনি যে থানায় ডায়েরীটি করবেন তা নির্বাচন করতে হবে।

এরপর আপনার নাম, ঠিকানাসহ সংশ্লিষ্ট তথ্যাবলি পূরণ করে Submit বাটনটি ক্লিক করলেই সংশ্লিষ্ট থানায় পৌঁছে যাবে আপনার তথ্য। এরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনি একটি শনাক্তকরণ নম্বর ও থানা থেকে কখন ডায়েরি কাগজটি সংগ্রহ করবেন তার সময় জানতে পারবেন। নম্বরটি সংরক্ষণ করুন করে রাখুন। আবেদিত জিডির দুটি কপি প্রিন্ট করে নিন। কারণ থানা থেকে আপনার সাধারণ ডায়েরির কপিটি সংগ্রহ করতে নম্বরটি ও জিডির কপি প্রয়োজন পড়বে।

জনসচেতনায়- মোঃ সাব্বির রহমান, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত), বাঞ্ছারামপুর মডেল থানা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।






মন্তব্য চালু নেই